একের পর এক কল, এসএমএসেও মিলল না সাড়া—শেষ রাতে এলো স্বামীর মৃত্যুর খবর
বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্তকে (৪২) কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার (২৪ জুলাই) গভীর রাতে বাগেরহাট শহরের হাড়িখালী তেঁতুলতলা এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, রাতে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয়দের মাধ্যমে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট জেলা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।
নিহত নিজাম উদ্দিন শান্ত বাগেরহাট সদর উপজেলার পশ্চিমভাগ গ্রামের মৃত তোরাব আলীর একমাত্র ছেলে। তার মৃত্যুতে আদালতপাড়া, আইনজীবী সমাজ এবং নিজ এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নিহতের স্ত্রী স্বর্ণা আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার স্বামী মোটরসাইকেলে করে বাড়িতে এসে বাজার দিয়ে যান। তিনি ঘরে আসতে বললেও শান্ত জানান, মোটরসাইকেলে থাকা এক ভাগ্নেকে নামিয়ে দিয়েই ফিরে আসবেন।
এরপর রাত পৌনে ১১টার দিকে স্বামীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করেন স্বর্ণা। কিন্তু কোনো কলেরই উত্তর মেলেনি। উদ্বিগ্ন হয়ে তিনি একটি এসএমএসও পাঠান, তাতেও কোনো সাড়া পাননি। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে উৎকণ্ঠা। অবশেষে রাত ২টার পর খবর আসে, তার স্বামী অসুস্থ অবস্থায় বাগেরহাটে রয়েছেন। সেখানে পৌঁছে তিনি জানতে পারেন, তার স্বামী আর বেঁচে নেই।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিজাম উদ্দিন শান্ত তিন কন্যা সন্তানের জনক। বড় মেয়ে নিগার সুলতানা স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। মেজ মেয়ে নিসাত সুলতানা শিশু শ্রেণিতে পড়ে। আর ছোট মেয়ে নাজিবার শাহরিন নিধির বয়স মাত্র ৩ বছর ১০ মাস। বাবার মৃত্যুর বিষয়টি এখনও বুঝে উঠতে পারেনি ছোট্ট শিশুটি।
পরিবার জানায়, করোনা মহামারির সময় দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে শান্তর প্রথম স্ত্রী মারা যান। পরে তিনি স্বর্ণা আক্তারকে বিয়ে করেন। স্বর্ণা নিজের কন্যার পাশাপাশি শান্তর আগের সংসারের দুই মেয়েকেও নিজের সন্তানের মতোই লালন-পালন করে আসছিলেন।
স্বজনরা আরও জানান, মাত্র এক মাস আগে নিজাম উদ্দিন শান্ত তার বাবাকেও হারান। এর আগেই মারা যান তার মা। বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তিনি গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছিলেন।
এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাগেরহাট জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহবুব মোর্শেদ লালন। তিনি দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
অ্যাডভোকেট নিজাম উদ্দিন শান্তর নৃশংস হত্যাকাণ্ডে সহকর্মী আইনজীবী, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক এবং ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন