খাল পুনঃখননে সাশ্রয়, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ১ কোটি ২ লাখ টাকা ফেরত দিলেন চরফ্যাশনের ইউএনও
সরকারি অর্থের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবহারের অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা আফরোজ। খাল পুনঃখনন প্রকল্পের কাজ শেষে সাশ্রয় হওয়া ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিয়েছেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি)’-এর আওতায় চরফ্যাশন উপজেলার সুবল ডাক্তার বাড়ি থেকে সুন্দরী ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৩ দশমিক ৭ কিলোমিটার খাল পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় সরকারি নির্দেশনা, কারিগরি মান ও গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ সম্পন্ন করা হয়। তবে খালের বিভিন্ন অংশে প্রস্থ ও খননের গভীরতা প্রাক্কলনের তুলনায় কম হওয়ায় পুরো বরাদ্দ ব্যয় না করেই প্রকল্পের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়। এতে মোট ১ কোটি ২ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৯ টাকা সাশ্রয় হয়, যা সরকারি আর্থিক বিধিমালা অনুসারে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শেষে খালটি পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এবং ভোলা জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ডা. শামীম রহমান। পরিদর্শন শেষে তারা খালের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন এবং প্রকল্পের কাজের গুণগত মানে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজ বলেন, দীর্ঘদিনের অবহেলায় ঐতিহ্যবাহী খালটি প্রায় ভরাট হয়ে অকেজো হয়ে পড়েছিল। স্থানীয় মানুষের জলাবদ্ধতা নিরসন, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই সরকারের উদ্যোগে খালটি পুনঃখনন করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, খালের বিভিন্ন স্থানে প্রস্থ ও খননের গভীরতার তারতম্যের কারণে প্রাক্কলনের তুলনায় কম ব্যয়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সরকারি অর্থের অপচয় রোধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই সাশ্রয় হওয়া প্রতিটি টাকা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের জবাবদিহিমূলক ব্যবহারে উপজেলা প্রশাসন সবসময় অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন