তিনবার পুলিশের চোখ ফাঁকি, শেষ পর্যন্ত যশোরে ধরা পড়ল ডেভিড ইমন
ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থেকে একাধিকবার পুলিশের অভিযান এড়িয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত যশোরে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তিন দফা অবস্থান ও রুট পরিবর্তন করে পালানোর চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা হয়নি তার।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম গ্রেপ্তার অভিযানের বিস্তারিত তুলে ধরেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে ডেভিড ইমন নিয়মিত অবস্থান পরিবর্তন করতেন। নিজের চেহারা ও চলাফেরার ধরন বদলে ফেলেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে দেশীয় মোবাইল সিম ব্যবহার না করে বিদেশি নম্বর ও বিভিন্ন অনলাইন যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করতেন।
অভিযানের প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার পথে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় তাকে আটকের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরে ঢাকায় গিয়ে গাড়ি, চালক ও যাতায়াতের কৌশল পরিবর্তন করেন।
পরবর্তী তথ্যের ভিত্তিতে মুন্সীগঞ্জ পুলিশের সহযোগিতায় পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় চেকপোস্ট বসানো হলেও সেখানেও তাকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরে খুলনার দিকে যাওয়ার তথ্য পেয়ে রূপসা এলাকায় আরেকটি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। তবে শেষ মুহূর্তে রুট পরিবর্তন করে গোপালগঞ্জ হয়ে নড়াইলের দিকে চলে যান তিনি। এভাবেই টানা তিনবার পুলিশের নজর এড়িয়ে যান।
অবশেষে যশোর জেলা পুলিশের সহযোগিতায় বুধবার (২৯ জুলাই) ভোরে যশোর সদর উপজেলার ঝুমঝুমপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের আগে অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করেছিলেন ডেভিড ইমন।
পুলিশ সুপার জানান, গত ১৩ জুন পাহাড়তলীতে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরী হত্যাকাণ্ডের তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২২ জুলাই ঢাকা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি ইলিয়াস ওরফে হামা ইলিয়াসকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীদের অবস্থান এবং সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্তে আরও জানা যায়, পাহাড়তলীতে যুবদল নেতা মাসুদ চৌধুরীকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা, ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিডিএনের মালিকের কাছে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রতিষ্ঠানে হামলাসহ একাধিক আলোচিত ঘটনায় ডেভিড ইমনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই দীর্ঘদিন ধরে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন