ওয়ারিশ সনদে অনিয়ম, নারী ইউপি সদস্যকে শোকজ
অভিযুক্ত নারী ইউপি সদস্য তাহরিম আখতার জেমি; পাশে অভিযোগপত্র ও শোকজ নোটিশ।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমির বিরুদ্ধে ওয়ারিশ সনদ প্রদানে অনিয়ম, জন্ম নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র তৈরিতে অনিয়ম এবং অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে একটি সালিশি ঘটনায় ৫০ হাজার টাকা নেওয়া এবং টাকা ফেরত চাইলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন এক ব্যক্তি। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন তাকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ মে ২০২৬ তারিখে রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ডা. মো. গোলাম মুর্শেদ মুরাদ স্বাক্ষরিত এক নোটিশে সংরক্ষিত ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য তাহরিম আখতার জেমির কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই একই ব্যক্তির নামে ভিন্ন তথ্য ব্যবহার করে দুটি ওয়ারিশ সনদ প্রদানের সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এবং অপরটি ৪ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ইস্যু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আবেদনকারীদের দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে এবং সংশ্লিষ্ট সদস্য প্রয়োজনীয় যাচাই না করেই সুপারিশ করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ইউনিয়ন পরিষদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে বলেও নোটিশে বলা হয়।
শোকজ নোটিশে তিন কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।
এদিকে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে হাসান মিয়া নামে এক ব্যক্তি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে জন্ম নিবন্ধন, ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন সরকারি কাগজপত্র তৈরিতে সহযোগিতা করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একই ব্যক্তিদের নামে ভিন্ন ভিন্ন জন্ম নিবন্ধনের তথ্য ব্যবহার করে দুটি ওয়ারিশ সনদ তৈরি করা হয়েছে। পরবর্তীতে এসব কাগজপত্র ব্যবহার করে রাজাবাড়ী মৌজার চিনাশখানিয়া গ্রামের একটি জমি দখলের চেষ্টা করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, মো. মনির হোসেন নামে আরেক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে একটি বিরোধ নিষ্পত্তির আশায় তিনি ইউনিয়ন পরিষদে গেলে তাহরিম আখতার জেমি তার পক্ষে সিদ্ধান্ত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ৫০ হাজার টাকা নেন।
তার অভিযোগ, পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কোনো সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। বরং বিভিন্ন অজুহাতে ঘোরানো হয় এবং মিটার নামানোর বিষয়েও টাকা নেওয়া হয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে তাকে গালিগালাজ, প্রাণনাশের হুমকি এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়।
এ ঘটনায় মনির হোসেন শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংরক্ষিত নারী সদস্য তাহরিম আখতার জেমি। তিনি বলেন, “আমি টাকা নিয়েছি—এর প্রমাণ কী? কেউ অভিযোগ করলেই তো সেটা সত্য হয়ে যায় না। সুষ্ঠু তদন্ত হলেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।”
রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসন জানিয়েছে, শোকজের জবাব এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
ফাঁসি দেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত কাঠগড়ায় লতিফ সিদ্দিকী
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশ ঘিরে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বেলা ১টার পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এম এইচ তামিম। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আদালতকে জানান, পরোয়ানার ভিত্তিতে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে এবং আসামিপক্ষ থেকে কোনো আবেদন না থাকায় তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করা হচ্ছে। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেন।
শুনানির পুরো সময়জুড়ে কয়েকবার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কথা বলার চেষ্টা করেন লতিফ সিদ্দিকী। তবে আদালত তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেওয়ায় তিনি কিছু বলতে পারেননি। বিচারকরা এজলাস ত্যাগের প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ও তিনি হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে বারবার বলেন, “মাননীয় আদালত, আমি আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।” কিন্তু বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়ে যাওয়ায় তার বক্তব্য শোনা হয়নি।
এরপর কিছুটা আবেগাপ্লুত ও উত্তেজিত হয়ে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, “আদালতকে বলতে চাইলাম, ফাঁসি দিয়ে দেন। আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত আছি। কিন্তু আদালত শুনতে চাইল না।”
এ সময় তিনি আরও বলেন, “হায়রে হায়, এই যদি হয় আদালত, তাহলে আমি কোথায় যাব?”
আদালতের নির্দেশের পর তাকে হাজতখানায় নেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যরা এগিয়ে এলে তাদের সঙ্গে তার সংক্ষিপ্ত বাকবিতণ্ডা হয়। পুলিশ সদস্যরা বসতে বললে তিনি উচ্চস্বরে বলেন, “আমি বসে থাকবো নাকি দাঁড়িয়ে থাকবো সেটা আমার বিষয়। তোমরা বলার কে?” পরে পুলিশি পাহারায় তাকে আদালত কক্ষ থেকে বের করে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল হারুন ভূঁইয়া ওকালতনামায় স্বাক্ষরের অনুমতি এবং ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় লতিফ সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন করলে আদালত উভয় আবেদনই মঞ্জুর করেন।
শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন লতিফ সিদ্দিকীর ভাই কাদের সিদ্দিকী। তিনি বলেন, “লতিফ সিদ্দিকী এ দেশের জন্মের সঙ্গে জড়িত একজন মানুষ। তার বয়স এখন ৮৭ বছর। যদি অপরাধ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে ফাঁসি দিন। আর যদি অভিযোগ মিথ্যা হয়, তাহলে তাকে খালাস দেওয়া হোক।”
উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন থেকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম
সুজন পালের বাড়িতে মাদকের আড্ডার অভিযোগ, ব্যবস্থা চান এলাকাবাসী
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে সুজন পাল; ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা বোতলের দৃশ্য।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার ১ নম্বর শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের তেলীগাঁও গ্রামে একটি বাড়িকে কেন্দ্র করে মাদক সেবন ও বখাটেদের আড্ডার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গ্রামের বাসিন্দা সুজন পালের বাড়িতে নিয়মিত মাদকসেবীদের আনাগোনা চলছে, যা নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সুজন পালের বাড়িতে বিভিন্ন ব্যক্তির আড্ডা শুরু হয়। রাত গভীর হলে সেখানে মাদক সেবনের আসর বসে বলে দাবি করেন তারা। এতে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তরুণ সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানা যায়, সুজন পালের বাংলা ঘরে ভারতীয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মদের খালি বোতল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা গেছে। এলাকাবাসীর দাবি, ওই বাড়িতে নিয়মিত মাদকসেবীদের যাতায়াত রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সুজন পালের সহযোগী হিসেবে বিশ্বনাথ পাল বাবলু, আকাশ পাল, বিদ্যুত পাল ও রাজন দে-সহ কয়েকজন সেখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন। তাদের বিরুদ্ধে মাদক সেবন ও এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরির অভিযোগও তুলেছেন তারা।
এলাকাবাসীর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনাও বাড়ছে। দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ না হলে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।
স্থানীয়রা সুজন পালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সুজন পালের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন