খুঁজুন
advertisement
advertisement
শুক্রবার, ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

‘আমাকে একটু আশ্রয় দাও‌, আমি চারজনকে খুন করে আসছি’

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২:০৬ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
‘আমাকে একটু আশ্রয় দাও‌, আমি চারজনকে খুন করে আসছি’

 যোগফল প্রতিবেদক:

দাদা- আমাকে একটু পানি দাও, আমাকে একটু আশ্রয় দাও‌; আমিতো গণপতি স্যারসহ চারজনকে খুন করে চলে আসছি’- পুলিশের ধাওয়া খেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে একটি শ্মশানে গিয়ে সেখানের গার্ড বিদ্যুৎ দাসকে এভাবে কথাগুলো বলেছেন রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার আসামি মুগ্ধ দাস।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কনফারেন্স রুমে মামলার তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

পুলিশ জানায়, গত রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে মুগ্ধ দাসের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। পরে প্রায় তিন কিলোমিটার ধাওয়া করার পর মাহিগঞ্জ-দখীগঞ্জ শ্মশানে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন মুগ্ধ। সেখানে গার্ড বিদ্যুৎ দাসের কাছে পানি ও আশ্রয় চান এবং গণপতি চক্রবর্তীসহ চারজনকে হত্যার কথা জানান।

পুলিশ কমিশনার বলেন, শ্মশানের গার্ড বিদ্যুৎ দাসের সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। তিনিও আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এদিকে মামলার আসামিদের আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তীর হাতে ধরা পড়ার আশঙ্কা থেকেই প্রথমে তাকে এবং পরে তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলেকে হত্যা করা হয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার রাতে সীমান্ত দাস, সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের জন্য যান। ভোরে গণপতি চক্রবর্তী ছাদে হাঁটতে গিয়ে তাদের দেখে ফেলেন। এরপর ধরা পড়ার ভয়ে তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন তারা।

আসামিদের জবানবন্দি অনুযায়ী, সিদ্ধার্থ গণপতির গলায় গামছা পেঁচিয়ে দেন এবং পরে দুজন দুই দিক থেকে গামছা টানলে তার মৃত্যু হয়।

গণপতির মরদেহ টিন দিয়ে ঢেকে রাখার সময় শব্দ শুনে তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ছাদে চলে আসেন। তারা চিৎকার শুরু করলে প্রীতিলতাকে মুগ্ধ এবং আগামীকে সিদ্ধার্থ গলা চেপে হত্যা করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ রয়েছে।

পরে তারা ঘরের ভেতরে গিয়ে জিনিসপত্র ও আলমারি এলোমেলো করে ঘটনাটিকে চুরি বা ডাকাতির ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পরিবারের এক শিশুকে ঘুম থেকে উঠতে দেখেন তারা। শিশুটি সিদ্ধার্থকে চিনে নাম ধরে ডাকায় তাকেও হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, বাড়িতে সিসিটিভি থাকার আশঙ্কায় আসামিরা প্লাস দিয়ে বিদ্যুতের তার কেটে দেন। পরে ঘরের বিভিন্ন জিনিস তছনছ করে কিছু স্বর্ণালংকার ও ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

ওই টাকা থেকে সিদ্ধার্থের ভাগে পাওয়া ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে আগে বন্ধক রাখা মোবাইল ফোন ছাড়িয়ে নেওয়া হয়। ঘটনার পরদিন তিনি স্বাভাবিকভাবে স্বর্ণের দোকানে কাজে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, সীমান্ত দাসের ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধের বক্তব্যে ঘটনার মূল বর্ণনায় বেশ কিছু মিল পাওয়া গেছে। তবে ইয়াবা সেবনের সংখ্যা নিয়ে দুই আসামির বক্তব্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।

এদিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। চারজনের মৃত্যুর কারণ হিসেবে শ্বাসরোধ বা গলায় ফাঁস দেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। আসামিদের জবানবন্দির সঙ্গে ময়নাতদন্তের তথ্যেরও মিল রয়েছে বলে দাবি পুলিশের।

ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ‘শান্তকে’ গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্যও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

টাঙ্গুয়ায় গোসলে নেমে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২:৩৭ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
টাঙ্গুয়ায় গোসলে নেমে পানিতে ডুবে পর্যটকের মৃত্যু

 যোগফল প্রতিবেদক:

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে টাঙ্গুয়ার হাওরে ঘুরতে গিয়ে পানিতে ডুবে আব্দুল মাজেদ পিকলু (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের লামাগাঁও বাজারসংলগ্ন মানাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল মাজেদ পিকলু রাজশাহী জেলার ১৭ নম্বর রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মধ্যনওদাপাড়া এলাকার নুরুল ইসলাম বাবুর ছেলে। তিনি মোহনপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, পিকলুসহ ১০ জনের একটি দল মধ্যনগর উপজেলা থেকে পর্যটকবাহী নৌকা ভাড়া করে টাঙ্গুয়ার হাওরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে সকাল ১০টার দিকে তাহিরপুরের লামাগাঁও এলাকার মানাই নদীতে নৌকাটি নোঙর করা হয়।

এ সময় দলের কয়েকজন প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী কিনতে তীরে যান। অন্যদিকে কয়েকজন নৌকা থেকে নদীতে নেমে গোসল করতে থাকেন। পিকলুও তাদের সঙ্গে পানিতে নামেন। একপর্যায়ে তিনি পানির নিচে তলিয়ে যান এবং আর ভেসে ওঠেননি।

খবর পেয়ে স্থানীয়রা ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা উদ্ধারে চেষ্টা শুরু করেন। প্রায় তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর পানির নিচ থেকে পিকলুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলী আহমেদ মোরাদ জানান, টাঙ্গুয়ার হাওরে যাওয়ার পথেই এ দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘ চেষ্টার পর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

তাহিরপুর থানার এসআই আবুল হাসনাত চৌধুরী জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নৌকাটিসহ মরদেহ থানায় নেওয়া হচ্ছে।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জমি নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইদের মারধরে যুবকের মৃত্যু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ৯:৫০ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জমি নিয়ে বিরোধে চাচাতো ভাইদের মারধরে যুবকের মৃত্যু

 যোগফল প্রতিবেদক:

নেত্রকোনার বারহাট্টায় জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইদের সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ছয়গাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ছয়গাঁও গ্রামে জমি নিয়ে রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আবুল (৫২) ও হিল্লোলের (৪০) বিরোধ চলছিল। বিরোধ মীমাংসার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে আবুল ও হিল্লোলের ভগিনীপতি সাজু মিয়া রফিকুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন।

আলোচনার একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়। এ সময় আবুল ও হিল্লোলের কিল-ঘুসিতে রফিকুল গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

পরে তিনি মনাষ রোডের একটি দোকানের সামনে গিয়ে বসেন। কিছুক্ষণ পর সেখানেই হঠাৎ ঢলে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বারহাট্টা থানার এসআই কাদির আলী জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাবনা জিলা স্কুলে পলিথিনবিরোধী কুইজ ও বৃক্ষরোপণ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট ২০২৬, ২:২৫ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাবনা জিলা স্কুলে পলিথিনবিরোধী কুইজ ও বৃক্ষরোপণ

 যোগফল প্রতিবেদক:

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উদযাপনের অংশ হিসেবে পলিথিন শপিং ব্যাগের ব্যবহার বন্ধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে পাবনা জিলা স্কুলে কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আব্দুর রাজ্জাক। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, পাবনার সরকারি পরিচালক মো. ইউসুফ আলী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাবনা জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আকতার-উজ-জামান।

আলোচনা সভায় বক্তারা পরিবেশের ওপর পলিথিন শপিং ব্যাগের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরেন। পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষায় পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তারা।

আলোচনা শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ধরনের গাছের চারা রোপণ করা হয়। পরে কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই ও কাগজের কলম পুরস্কার হিসেবে বিতরণ করা হয়।

এ ছাড়া কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা ও পরিবেশ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম