গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণসহ ১০ দাবি, শ্রম মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি
যোগফল প্রতিবেদক:
জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চ। দাবিগুলো বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়ে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় সংগঠনটির নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি এবং বাসা ভাড়া, খাবার, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ বাড়ায় বর্তমান আয়ে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, দেশের তৈরি পোশাক খাতে প্রায় ৫০ লাখ শ্রমিক কাজ করেন। এই বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের জীবনমান ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের আয়-ব্যয়ের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মজুরি কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের ১০ দফা দাবি হলো—
১. ন্যূনতম মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে মূল্যস্ফীতি ও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের ভিত্তিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নতুন করে নির্ধারণ করতে হবে।
২. বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প-কারখানাগুলো পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিতে হবে এবং আইনবহির্ভূতভাবে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে।
৩. শ্রমিকদের কোনো ধরনের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ করতে হবে। এর মাধ্যমে যেন কারও চাকরি বা শ্রমিক অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. শ্রম আদালতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করতে হবে এবং শ্রমিকদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
৫. প্রয়োজনীয় শ্রম বিধিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর করার পাশাপাশি বিদ্যমান শ্রম আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয় এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিরাপদ থাকে।
৭. নারী শ্রমিকদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটি কমপক্ষে ছয় মাস করার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে তাদের নিরাপত্তা ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
৮. শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ কর্মপরিবেশের পাশাপাশি সাশ্রয়ী আবাসন, চিকিৎসা, পরিবহন, রেশনিং এবং সামাজিক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে হবে।
৯. শ্রমিকদের সংগঠন করা, ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও যৌথ দর-কষাকষির অধিকার কার্যকর করতে হবে। এসব অধিকার চর্চার কারণে কোনো শ্রমিককে হয়রানি বা চাকরিচ্যুত করা যাবে না।
১০. মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা গেলে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের পাশাপাশি তৈরি পোশাক খাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এতে শ্রমিকদের উৎপাদনশীলতা বাড়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতেও এর সুফল পাওয়া যাবে।
স্মারকলিপিতে গার্মেন্টস শ্রমিক উন্নয়ন মঞ্চের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতিউর রহমান এসব দাবি তুলে ধরেন। তিনি জানান, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে সংগঠনের পক্ষ থেকে গণতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন