খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৮ ভাদ্র, ১৪৩৩

সুন্দরবন খুললেও প্রথম দিনেই জেলেদের অনীহা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সুন্দরবন খুললেও প্রথম দিনেই জেলেদের অনীহা

 যোগফল প্রতিবেদক:

টানা তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) থেকে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সুন্দরবন। তবে প্রথম দিনেই বৈরী আবহাওয়া, নদীতে মরা জোয়ার, মাছ পাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং দস্যুদের আতঙ্কে বনে যেতে অনীহা দেখা গেছে জেলেদের মধ্যে।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলে নৌকার তেমন ভিড় নেই। জহর আলী মালী নামে এক জেলে অনুমতিপত্র নিতে এলেও সুন্দরবনের ভেতরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেননি। তিনি বনসংলগ্ন খোলপেটুয়া নদীতে মাছ ধরার কথা জানান।

জহর আলী বলেন, প্রথম দিনে পাস নিতে এসেছেন। সুন্দরবনে দস্যুদের ভয় থাকায় বনের গভীরে যেতে চান না। সুন্দরবন পুরোপুরি দস্যুমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কাছাকাছি নদীতেই মাছ ধরবেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ইরফান উদ্দীন জানান, স্টেশনটির আওতায় ৯৫৪টি নৌযানের বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) রয়েছে। কিন্তু সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত মাত্র একজন জেলে অনুমতিপত্র নিতে এসেছেন। বৃষ্টি ও নদীতে মরা জোয়ারের কারণে মাছও কম পাওয়া যাচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেলের সংখ্যা বাড়তে পারে।

কৈখালী ও কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা গেছে। দুই স্টেশন মিলিয়ে সকাল সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ৩৭ জন জেলে সুন্দরবনে অবস্থানের অনুমতি নিয়েছেন। অথচ এই দুই স্টেশনের আওতায় রয়েছে ১ হাজার ২৬টি নৌযানের বিএলসি।

তিন মাস সুন্দরবনে যেতে না পারায় অনেক জেলে সংসার চালাতে হিমশিম খেয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনসংলগ্ন নদীতে নৌকার পাটাতন মেরামত করছিলেন জেলে খায়রুল সানা। তিনি জানান, মাছ ও কাঁকড়া ধরেই তাদের সংসার চলে। দীর্ঘ সময় বনে যেতে না পারায় কষ্টে দিন কাটিয়েছেন। তাই দুপুরের জোয়ারে বনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

জেলে আব্দুর বারী বলেন, একটি নৌকায় সাধারণত দুই থেকে তিনজন থাকেন। ছয় দিন পর্যন্ত বনে থেকে মাছ ও কাঁকড়া ধরে তারা ফিরে আসেন। বছরের প্রায় নয় মাস সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করেই তাদের জীবিকা চলে।

তবে এবার আয় নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন তিনি। তার দাবি, দস্যুদের হাতে পড়লে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। এছাড়া নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ কেউ অবৈধভাবে বনে ঢুকে বিষ দিয়ে মাছ ধরায় মাছ-কাঁকড়ার পরিমাণ কমে যেতে পারে।

জেলেদের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞার সময় বন বিভাগের নজর এড়িয়ে কিছু মানুষ বনে প্রবেশ করে বিষ দিয়ে মাছ ধরেছেন। এতে সুন্দরবনের জলজ সম্পদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বলে তাদের আশঙ্কা। এর পাশাপাশি দস্যুদের চাঁদাবাজির ভয়ও রয়েছে।

পর্যটকও কম

জেলেদের মধ্যে অনীহা থাকলেও তিন মাস পর সুন্দরবন খুলে দেওয়ার প্রথম দিন থেকেই পর্যটকবাহী নৌযান চলাচল শুরু হয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম।

সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টিওএএস) সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার জানান, সংগঠনটির অধীনে ৭৫টি নৌযান রয়েছে। মঙ্গলবার খুলনা থেকে সাতটি লঞ্চ ২২০ জন পর্যটক নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে যাত্রা করেছে।

শ্যামনগরের মালঞ্চ নদীর পাড় থেকেও পর্যটকদের নিয়ে নৌকা সুন্দরবনের দিকে যেতে দেখা গেছে। মুন্সিগঞ্জ এলাকার মাঝি সাগর হোসেন দুই পর্যটককে নিয়ে বনের মায়ের খালের দিকে যাচ্ছিলেন।

সাগর হোসেন জানান, তিনি মাছ ধরার জন্য বনে যান না, পর্যটক নিয়ে ঘোরেন। মালঞ্চ নদী দিয়ে মায়ের খাল পর্যন্ত পর্যটকদের নিয়ে গিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ঘোরান। এক ঘণ্টার জন্য নেন ১ হাজার ২০০ টাকা। মঙ্গলবারই মৌসুমের প্রথম ট্রিপ নিয়ে বের হয়েছেন।

পর্যটক ইমরান হোসেন বলেন, সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বনভূমির সৌন্দর্য উপভোগ করতে তারা এসেছেন। তবে অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে কাছাকাছি এসে তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে। আবহাওয়া ভালো হলে আবার যাত্রা করবেন।

পর্যটক নৌকার মাঝি আমিনুর রহমান বলেন, তিন মাস পর মঙ্গলবার তারা পাস পেয়েছেন। এতে তারা খুশি হলেও অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছেন। আবহাওয়া কিছুটা ভালো হলে সুন্দরবনে প্রবেশ করবেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, তিন মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার থেকে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে মাছ ধরা ও ইকোট্যুরিজমের জন্য পাস দেওয়া শুরু হয়েছে। সকাল ১১টা পর্যন্ত ১৫৪টি পাস ইস্যু করা হয়েছে। এসব পাসের মাধ্যমে ৪ শতাধিক জেলে-বাওয়ালি সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি পেয়েছেন।

তিনি আরও জানান, সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশন থেকে এ মৌসুমে প্রায় ৩ হাজার বিএলসি নবায়ন করা হয়েছে। পর্যটকদের জন্য গলাগাছি ও দোবেকি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্রও প্রস্তুত রয়েছে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে পর্যটকদের উপস্থিতি কম ছিল। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জেলেদের নিরাপত্তার বিষয়ে মশিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বন্ধ থাকার সময়ও কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে টহল কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। এখনো যৌথ টহল অব্যাহত রয়েছে। দস্যুদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর মাছের প্রজনন মৌসুম ও সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে পর্যটক ও জেলে-বাওয়ালিদের প্রবেশ বন্ধ থাকে। তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে আবার প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণভাবে মাছ ধরা বা প্রবেশের সুযোগ নেই। অনুমতি নিয়ে বনে গেলেও পর্যটক ও জেলেদের নির্ধারিত নিয়ম মেনে চলতে হবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পশ্চিম ও পূর্ব বিভাগের চারটি রেঞ্জে এবার ১২ হাজার নৌযানকে বিএলসি দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পন্টুন মেরামত ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা এ জেড এম হাসানুর রহমান বলেন, পর্যটক ও মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে সুন্দরবনের ক্যাম্প ও স্টেশনগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটক, জেলে ও বননির্ভর মানুষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। পরিবেশ ও বন্যপ্রাণীর ক্ষতি হয়—এমন কোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

চুরির ভোট, রাতের ভোট এ দেশে আর হবে না: হুইপ অপু

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮:৫৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
চুরির ভোট, রাতের ভোট এ দেশে আর হবে না: হুইপ অপু

যোগফল প্রতিবেদক:

চুরির ভোট, রাতের ভোট এ দেশে আর হবে না। জনগণ এবার নিজের ভোট নিজে দেবেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করবেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর বাজারে বিএনপির কার্যালয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার আংশিক এলাকার নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা সভায় অংশ নেন।

হুইপ অপু বলেন, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে জনগণের ভোটে। ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বার নির্বাচিত করবেন। কোনো ধরনের ভোট চুরি, কারচুপি কিংবা রাতের ভোটের সুযোগ এবার থাকবে না।’

তিনি বলেন, ‘চুরির ভোট, রাতের ভোট—এ দেশে আর হবে না। জনগণ নিজের ভোট নিজে দেবে। যাকে যোগ্য মনে করবে, ভোট দিয়ে তাকেই নির্বাচিত করবে।’

তৃণমূলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে হুইপ অপু বলেন, বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শুধু দলীয় কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না থেকে নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে যেতে হবে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে, তাদের সমস্যার কথা শুনতে হবে এবং সুখে-দুঃখে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

সম্ভাব্য চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যারা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন, তাদের প্রত্যেককে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। জনগণের কাছে নিজেদের যোগ্যতা ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে এবং মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূলে অনেক যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতা প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে দলীয়ভাবে যাচাই-বাছাই শেষে যাকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সবাইকে তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ঊর্ধ্বে উঠে দলের সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দিতে হবে।

হুইপ অপু বলেন, ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দল যাকে প্রার্থী ঘোষণা করবে, সবাইকে তার পক্ষে কাজ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হবে তৃণমূলকে শক্তিশালী করা এবং জনগণের আস্থা অর্জন করা।’

এলাকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার উন্নয়নে জনপ্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য এখন থেকেই তৃণমূলের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।

মতবিনিময় সভায় গোসাইরহাট, ডামুড্যা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিএনপি নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সাংগঠনিক কার্যক্রম, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই এবং আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

তানজিলা / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:৩৮ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

 যোগফল প্রতিবেদক:

ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে পাড়ি দেওয়ার পরও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না অভিনেত্রী মান্দানা করিমি। তার অভিযোগ, দেশ বদলালেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পাঠানো রহস্যময় ই-মেল এখনো তার পরিচিতজনদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

অভিনেত্রীর দাবি, এসব ই-মেলে কখনো তাকে নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে, আবার কখনো টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা এই সাইবার হয়রানি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন সাবেক ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী মান্দানা।

মান্দানা জানান, তার বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই অজ্ঞাতপরিচয় একজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছেন বলে তিনি মনে করেন। শুধু তাকে নয়, তার সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক, সহ-অভিনেতা ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছেও বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য তার কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত করা বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, ছুটিতে থাকার সময়ও একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কয়েক বছর আগে এসব ঘটনার উৎস খুঁজে বের করতে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের চেষ্টা করেছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, একজন পেশাদার হ্যাকারকে ব্যবহার করে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নজরদারি করা হচ্ছে।

মান্দানার দাবি, ‘মীনাক্ষী’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তার পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ই-মেল পাঠানো হচ্ছে। ভারত ছাড়ার পরও সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এখনো তার বন্ধুদের কাছে ওই ধরনের ই-মেল পৌঁছাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ পরিস্থিতিতে পরিচিতদের সতর্ক করে মান্দানা বলেছেন, তাকে ঘিরে কোনো ই-মেল পেলে যেন কেউ তাতে বিশ্বাস না করেন বা টাকা পাঠান। বরং বার্তাটি সংরক্ষণ, স্ক্রিনশট নেওয়া এবং তার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রীর অভিযোগ, ভারতে থাকাকালে একাধিকবার সাইবার অপরাধের অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। এবার তাই প্রকাশ্যে বিষয়টি তুলে ধরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই হয়রানির বিরুদ্ধে আর নীরব থাকতে চান না বলেও জানিয়েছেন মান্দানা।

মান্দানার ব্যক্তিগত জীবনেও অতীতে নানা টানাপোড়েন ছিল। ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে বিয়ে করেন তিনি। কয়েক বছরের দাম্পত্যের পর ২০২১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

চলতি বছর প্রায় ১৬ বছর ভারতে থাকার পর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মান্দানা। নতুন জীবন শুরুর আশায় দুবাইয়ে পাড়ি জমালেও পুরোনো সাইবার হয়রানি এখনো তার পিছু ছাড়েনি বলে অভিযোগ তার।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬:১৯ পূর্বাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
দুবাই গিয়েও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পেলেন না অভিনেত্রী

 যোগফল প্রতিবেদক:

ভারত ছেড়ে দুবাইয়ে পাড়ি দেওয়ার পরও সাইবার হয়রানি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না অভিনেত্রী মান্দানা করিমি। তার অভিযোগ, দেশ বদলালেও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির পাঠানো রহস্যময় ই-মেল এখনো তার পরিচিতজনদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে।

অভিনেত্রীর দাবি, এসব ই-মেলে কখনো তাকে নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ করা হচ্ছে, আবার কখনো টাকা চাওয়া হচ্ছে। প্রায় ছয় বছর ধরে চলা এই সাইবার হয়রানি নিয়ে সম্প্রতি মুখ খুলেছেন সাবেক ‘বিগ বস’ প্রতিযোগী মান্দানা।

মান্দানা জানান, তার বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই অজ্ঞাতপরিচয় একজন ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করছেন বলে তিনি মনে করেন। শুধু তাকে নয়, তার সঙ্গে কাজ করা প্রযোজক, সহ-অভিনেতা ও পরিচিত ব্যক্তিদের কাছেও বিভিন্ন বার্তা পাঠানো হচ্ছে। এসবের উদ্দেশ্য তার কাজ, সম্পর্ক ও সামাজিক পরিচিতি ক্ষতিগ্রস্ত করা বলে অভিযোগ অভিনেত্রীর।

অভিনেত্রীর ভাষ্য, ছুটিতে থাকার সময়ও একই ধরনের ঘটনার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। কয়েক বছর আগে এসব ঘটনার উৎস খুঁজে বের করতে ব্যক্তিগতভাবে তদন্তের চেষ্টা করেছিলেন। তখন তাকে জানানো হয়, একজন পেশাদার হ্যাকারকে ব্যবহার করে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম নজরদারি করা হচ্ছে।

মান্দানার দাবি, ‘মীনাক্ষী’ নামে একটি ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে তার পরিচিত বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে ই-মেল পাঠানো হচ্ছে। ভারত ছাড়ার পরও সেই যোগাযোগ বন্ধ হয়নি। এখনো তার বন্ধুদের কাছে ওই ধরনের ই-মেল পৌঁছাচ্ছে বলে জানান তিনি।

এ পরিস্থিতিতে পরিচিতদের সতর্ক করে মান্দানা বলেছেন, তাকে ঘিরে কোনো ই-মেল পেলে যেন কেউ তাতে বিশ্বাস না করেন বা টাকা পাঠান। বরং বার্তাটি সংরক্ষণ, স্ক্রিনশট নেওয়া এবং তার কাছে পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

অভিনেত্রীর অভিযোগ, ভারতে থাকাকালে একাধিকবার সাইবার অপরাধের অভিযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি। এবার তাই প্রকাশ্যে বিষয়টি তুলে ধরে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে চেয়েছেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই হয়রানির বিরুদ্ধে আর নীরব থাকতে চান না বলেও জানিয়েছেন মান্দানা।

মান্দানার ব্যক্তিগত জীবনেও অতীতে নানা টানাপোড়েন ছিল। ব্যবসায়ী গৌরব গুপ্তের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে বিয়ে করেন তিনি। কয়েক বছরের দাম্পত্যের পর ২০২১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সেই সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথাও জানিয়েছেন অভিনেত্রী।

চলতি বছর প্রায় ১৬ বছর ভারতে থাকার পর দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন মান্দানা। নতুন জীবন শুরুর আশায় দুবাইয়ে পাড়ি জমালেও পুরোনো সাইবার হয়রানি এখনো তার পিছু ছাড়েনি বলে অভিযোগ তার।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম