খুঁজুন
advertisement
advertisement
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২২ ভাদ্র, ১৪৩৩

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সাজ সাজ রব ঠাকুরগাঁওয়ে

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:৩৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে সাজ সাজ রব ঠাকুরগাঁওয়ে

 যোগফল প্রতিবেদক:

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফরকে ঘিরে জেলাজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। রাষ্ট্রপতিকে স্বাগত জানাতে শহরের বিভিন্ন সড়ক, ডিভাইডার ও স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের প্রস্তুতি। তার আগমনকে ঘিরে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ও সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতির। সফর উপলক্ষে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও চলছে।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের পাশের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে দৃষ্টিনন্দন করার কাজ চলছে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান। রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

ব্যবসায়ী রিপন ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। তার প্রত্যাশা, সফরটি শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো খাতে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি তাদের জেলার মানুষ হওয়ায় তারা গর্বিত। শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, উচ্চশিক্ষার পরিধি বাড়ানো এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তার ভূমিকা থাকবে বলে আশা করেন তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় আরও উন্নয়ন প্রয়োজন বলে জানান তিনি। রাষ্ট্রপতির কাছে এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগের প্রত্যাশা রয়েছে স্থানীয়দের।

রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আয়োজকদের দাবি, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে সংশ্লিষ্টরা দিনরাত প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন।

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। এতে দল-মত নির্বিশেষে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি আশা করছেন তারা।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন ব্যক্তি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়ায় ঠাকুরগাঁওবাসীর আনন্দ আরও বেড়েছে।

সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম নিজ জেলা সফর ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওসহ আশপাশের জেলার মানুষের মধ্যেও উৎসাহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির এই সফর জেলার উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার পথ তৈরি করবে।

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) সদস্যরাও ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।

ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। অনুষ্ঠানস্থল, রাষ্ট্রপতির যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

সব মিলিয়ে রাষ্ট্রপতির আগমনকে ঘিরে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে অপেক্ষায় রয়েছেন ঠাকুরগাঁওবাসী।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ইলিশের দামে আগুন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৩৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ইলিশের দামে আগুন

 যোগফল প্রতিবেদক:

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ইলিশের বাজারে চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন বাজারে আকারভেদে ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের ক্রেতাদের অনেকেই ইলিশ কিনতে গিয়ে পড়ছেন বিপাকে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) উপজেলার কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, মাছের দোকানগুলোতে ইলিশের সরবরাহ থাকলেও দাম তুলনামূলক বেশি। বড় আকারের ইলিশের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ থাকলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেকে মাছ না কিনে ফিরে যাচ্ছেন। কেউ কেউ আবার বিকল্প মাছ কিনছেন।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকার ও ওজনভেদে ইলিশের দামে বেশ পার্থক্য রয়েছে। তিনটি ইলিশে এক কেজি ওজনের মাছ বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে। দুটি ইলিশে এক কেজি ওজনের মাছের দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা। ৮০০ গ্রাম ওজনের একটি ইলিশের দাম রাখা হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৪০০ টাকা। আর এক কেজি ওজনের বড় ইলিশ বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত।

চড়া দামের কারণে ইলিশ এখন অনেক নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। কয়েক হাজার টাকা দিয়ে একটি মাছ কেনার পরিবর্তে ওই অর্থে পরিবারের প্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল ও সবজিসহ অন্যান্য নিত্যপণ্য কিনছেন অনেক ক্রেতা।

বাকেরগঞ্জ বন্দর বাজারে মাছ কিনতে আসা লোকমান হোসেন বলেন, ইলিশের দাম শুনলে এখন মনে হয়, মাছ না কিনে ওই টাকা দিয়ে সংসারের অন্য বাজার করাই ভালো। এক কেজি ইলিশের দাম যদি ৩ হাজার টাকা হয়, তাহলে মাসের বাজার সামলানো কঠিন।

বাকেরগঞ্জ পৌর মার্কেটের ক্রেতা মাসুদুর রহমান বলেন, ইলিশ কিনে খাওয়া এখন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য অনেকটা বিলাসিতার মতো হয়ে গেছে। পরিবারের অন্যান্য খরচ সামলে এত টাকা দিয়ে ইলিশ কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা দিনমজুর কালাম গাজী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইলিশ খাওয়া হয়নি। তাঁর সন্তানরা ইলিশ খাওয়ার আবদার করায় বাজারে এসেছিলেন। কিন্তু ৬০০ গ্রাম ওজনের দুটি ইলিশের দাম দেড় হাজার টাকা চাওয়ায় তিনি আর কিনতে পারেননি। তাঁর ভাষ্য, এই টাকা তাঁর দুই দিনের আয়ের সমান।

পৌর মার্কেটের মাছ ব্যবসায়ী জাফর গাজী বলেন, আড়তদারদের কাছ থেকে বেশি দামে ইলিশ কিনতে হচ্ছে। ফলে বেশি দামে বিক্রি করা ছাড়া তাদেরও উপায় থাকছে না। আড়ত থেকে কম দামে মাছ পাওয়া গেলে তারাও কম দামে বিক্রি করতে পারবেন।

বাকেরগঞ্জ পৌর মার্কেটের উন্নয়ন কমিটির সভাপতি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, মানুষের চাহিদার তুলনায় ইলিশের সরবরাহ পর্যাপ্ত নয়। ঘাটতির কারণে ভরা মৌসুমেও ইলিশের দাম বেশি রয়েছে।

ফলে একসময় সাধারণ মানুষের পাতে নিয়মিত দেখা মিললেও চড়া দামের কারণে জাতীয় মাছ ইলিশ এখন অনেক পরিবারের কাছেই হয়ে উঠেছে দুর্লভ খাবার।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

যশোরে সালমান শাহ হত্যার বিচারের দাবিতে ভক্তদের মানববন্ধন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২:৫২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
যশোরে সালমান শাহ হত্যার বিচারের দাবিতে ভক্তদের মানববন্ধন

 যোগফল প্রতিবেদক:

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে যশোরে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছেন ভক্তরা।

রোববার সকালে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শতাধিক সালমান ভক্ত একটি মিছিল নিয়ে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে জড়ো হন। পরে ‘কাঠেরপুল যুব সংঘ’-এর সহযোগিতায় সেখানে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও দাবির পর সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় মামলার কার্যক্রমে সাম্প্রতিক সময়ে গতি এসেছে। মামলার অন্যতম আসামি ডনকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।

তবে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের স্বার্থে তৎকালীন স্ত্রী সামিরা, শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাইসহ ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, ছাত্তার, সাজু ও ফরহাদকে (রেজভি আহমেদ) দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান ভক্তরা।

কাঠেরপুল যুব সংঘের পরিচালক শিমুল ভূঁইয়া বলেন, সালমান শাহর মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটন ও বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে রাজপথে আন্দোলন করে আসছেন ভক্তরা। প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়ে তিনি মামলার বাকি আসামিদেরও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সালমান শাহর ভক্ত তহমিনা বিশ্বাস, সুমি আক্তার, বিজয় মাহমুদ, সাবিক হাসান, রিয়া আক্তার ও পল্লব দাস।

উল্লেখ্য, প্রতিবছর ১৯ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর জন্মদিন উপলক্ষে যশোরের ভক্তরা কেক কাটা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করেন। একইভাবে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষেও মানববন্ধন, মিছিল ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এবারও আসন্ন জন্মবার্ষিকী ঘিরে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন ভক্তরা।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

শিবপুরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় ছেলে গ্রেপ্তার

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১:২১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিবপুরে বাবাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ, ২৪ ঘণ্টায় ছেলে গ্রেপ্তার

 যোগফল প্রতিবেদক:

নরসিংদীর শিবপুরে পৈতৃক বাড়িতে বাবাকে ধারালো ছুরি ও কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে ছেলে শাকিল চৌধুরীকে (৩৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজীপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নিহত বাছেদ মিয়া (৬০) পেশায় কবিরাজি ওষুধ বিক্রেতা ছিলেন। তিনি শাকিল চৌধুরীর বাবা। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাছেদ মিয়া তার বড় ছেলে শাকিলকে নিয়ে একই কক্ষে ঘুমাতে যান।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, পরদিন ৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৪টার দিকে বাছেদ মিয়ার আর্তনাদ শুনে তার ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ (২১) ও তার মা ছুটে যান। এ সময় শাকিল কুড়ালের উল্টো পাশের লোহার অংশ দিয়ে তার মায়ের মাথা ও কপালে আঘাত করেন। বাধা দিতে গেলে ছোট ভাই নূর নবী রাশেদকেও আঘাত করা হয়।

পরে ঘরের বাতি জ্বালিয়ে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, বাছেদ মিয়া খাটের ওপর গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার পেটের দুই পাশ দিয়ে নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে ছিল। স্বজনরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে শাকিল তাদেরও আঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যান। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে বাছেদ মিয়ার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানার এসআই কামরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় অফিসার ইনচার্জ কোহিনুর মিয়া ও সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম তদারকি করেন।

পুলিশ জানায়, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরিটি নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে নিহতের পেট থেকে উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। এছাড়া হামলায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কুড়ালটি আসামির বসতঘরের শয়নকক্ষ থেকে উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ছেলে নূর নবী রাশেদ বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পর জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় গাজীপুর মেট্রো এলাকায় অভিযান চালানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ সেপ্টেম্বর রাত ৩টার দিকে গাজীপুরের পূবাইল থানাধীন হায়দারাবাদ এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে পূবাইল থানা পুলিশের সহায়তায় শাকিলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাকিল তার বাবাকে ছুরি দিয়ে পেটে একাধিক আঘাত করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম