ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী
যোগফল প্রতিবেদক:
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে নিয়োজিত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ’ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, এমপি।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) সমাজসেবা অধিদপ্তরে দুই দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, দেশের অসহায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ফ্যামিলি কার্ড একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এ কার্ডের জন্য তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে দল-মতের কোনো বিষয় বিবেচনায় না নিয়ে সততা, আন্তরিকতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক।’ ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চার বছর পর্যন্ত চলবে। এ সময় সারাদেশে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং প্রতি দুই মাস পরপর তথ্য পর্যালোচনা করা হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, প্রশিক্ষণ চলাকালে নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে হবে। মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের সময় কোনো বিষয়ে প্রশ্ন বা জটিলতা দেখা দিলে যেন যথাযথভাবে তা সমাধান করা যায়, সেভাবেই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, এমপি বলেন, নারীদের ক্ষমতায়ন ও অবহেলিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। প্রাথমিক পর্যায়ে পাইলটিং কার্যক্রম শেষ হয়েছে। অক্টোবর থেকে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, উপকারভোগীদের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই করে নির্ভুল ডাটাবেজ তৈরির জন্য মাঠপর্যায়ের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তথ্য সংগ্রহ ও ডাটাবেজ তৈরির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, তথ্য সংগ্রহের এ কার্যক্রম শুধু ফ্যামিলি কার্ডের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ভবিষ্যতে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় মানুষের বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। সঠিক ও নির্ভুল তথ্যভান্ডার তৈরি করা গেলে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তথ্যের পুনরাবৃত্তি কমানো এবং সরকারি সেবাকে আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে ডেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। দেশের মানুষকে একটি সমন্বিত ডাটাবেজের আওতায় আনা গেলে সরকারি বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা ও সেবা প্রদান আরও সহজ হবে।
অনুষ্ঠানে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুবের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ।
দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রশিক্ষকদের প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সাদিয়া পারভিন / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

আপনার মতামত লিখুন