খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩

জামালপুরে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে দুই সন্তানের জননী, টাকা নিয়ে অভিযোগ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জামালপুরের মেলান্দহে চার বছরের প্রেমের সম্পর্কের পর বিয়ের স্বীকৃতি চেয়ে প্রেমিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন দুই সন্তানের জননী এক নারী। তাঁর অভিযোগ, সম্পর্ক চলাকালে নিজের উপার্জনের টাকা প্রেমিককে দিয়েছেন। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর প্রেমিকের পাঠানো টাকায় গর্ভপাতও করিয়েছেন। পরে প্রেমিকের বাড়িতে গিয়ে তাঁকে না পেয়ে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেন তিনি। এ ঘটনায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। ওই অর্থ থেকে এক নেতার বিরুদ্ধে ৭ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ওই নারী। তবে ওই নেতা ৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে ১ হাজার টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুর থেকে মেলান্দহ উপজেলার ৪ নম্বর নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামে আলী হোসেনের বাড়িতে অবস্থান নেন ওই নারী।

ভুক্তভোগী নারী মেলান্দহ উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের ভালুকা গ্রামের নুর হোসেনের মেয়ে। প্রথম স্বামীর সঙ্গে সংসার ভেঙে যাওয়ার পর তিনি নারায়ণগঞ্জের ফারিয়া গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মেলান্দহের টুপকারচরে নানির বাড়িতে যাতায়াতের সুবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আলী হোসেনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। আলী হোসেন উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের রূপসীহাঁটা গ্রামের সুরুজ্জামান ওরফে হুটকুর ছেলে। তাঁর বয়স ২২ বছর।

ওই নারীর দাবি, পরিচয়ের একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রায় চার বছর ধরে চলা এ সম্পর্কের সময় গার্মেন্টসে কাজ করে উপার্জিত অর্থ থেকে প্রতি মাসে আলী হোসেনকে টাকা দিতেন তিনি। এ ছাড়া প্রেমিকের মন রাখতে মাঝেমধ্যে কেনাকাটাও করে দিতেন। একপর্যায়ে অন্তঃসত্ত্বা হলে আলী হোসেনের পাঠানো টাকায় গর্ভপাত করান বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই নারীর ভাষ্য অনুযায়ী, মেলান্দহের ডেফলা এলাকায় তাঁর ফুফাতো বোনের স্বামীর বাড়িতে শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত তাঁরা একসঙ্গে ছিলেন। পরে রোববার দুপুরে মেলান্দহের জিন্নাহ মার্কেট এলাকায় আলী হোসেন তাঁর মায়ের অসুস্থতা ও প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে ব্যাগ রেখে তাঁর কাছ থেকে আলাদা হন।

এরপর আলী হোসেনের আর খোঁজ পাননি বলে দাবি করেন ওই নারী। বিয়ের স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিতে সোমবার দুপুরে তিনি আলী হোসেনের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন। সে সময় বাড়িতে পরিবারের কাউকে না পেয়ে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

পরে ওই নারীর ঘনিষ্ঠ দুই ফুফার মধ্যস্থতা এবং এক ছাত্রদল নেতার সহযোগিতায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ওই নারীর অভিযোগ, মীমাংসার মাধ্যমে পাওয়া অর্থের মধ্য থেকে জুয়েল নামে এক নেতা রাতে তাঁর বাড়িতে এসে ৭ হাজার টাকা নিয়ে যান।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাকারিয়া আহম্মেদ জুয়েল বলেন, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে রাতে ভুক্তভোগীদের বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। তবে ৭ হাজার টাকা নেইনি, নিয়েছি ১ হাজার টাকা।’

উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক শিপুল ফকির বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি জুয়েলের সঙ্গে কথা বলে তারপর জানাব।’

এ বিষয়ে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এটিএম মাহমুদুল হক বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

ব্লুমিং সান স্কুলে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা: খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ভাবনার সচিত্র রূপায়ণ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ব্লুমিং সান স্কুলে দিনব্যাপী বিজ্ঞান মেলা: খুদে বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবনী ভাবনার সচিত্র রূপায়ণ

ছবি যোগফল

শোয়েব হোসেন । ঢাকা:

শ্রেণিকক্ষের তাত্ত্বিক শিক্ষাকে বাস্তব জীবনের প্রয়োগে রূপ দেওয়ার প্রত্যয়ে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্লুমিং সান স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল দিনব্যাপী ‘বিজ্ঞান মেলা-২০২৬’।

কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করা এবং তাদের সুপ্ত মেধা ও অনুসন্ধিৎসু মন বিকাশের লক্ষ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই আনন্দঘন মেলার আয়োজন করে।

​অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি এ. টি. এম. জসিম উদ্দিন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন, “পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে বাস্তব জীবনে বিজ্ঞানের উপযোগিতা বুঝতে পারাই প্রকৃত শিক্ষা। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও বৈজ্ঞানিক মনস্তত্ত্ব গঠনে বড় ভূমিকা রাখে।” উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষক ও অভিভাবকবৃন্দ বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং শিক্ষার্থীদের তৈরি অসাধারণ সব প্রকল্প দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।

​মেলায় ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা পরিবেশ সুরক্ষা, বিকল্প শক্তি ও জীবনবিজ্ঞানের জটিল নানা বিষয় সহজভাবে ফুটিয়ে তোলে। বৈশ্বিকন জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় 'গ্রিন হাউজ ও পরিবেশ সুরক্ষা', ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় 'বিকল্প বিদ্যুৎ উৎপাদন' এবং রসায়নের ব্যবহারিক রূপ হিসেবে 'তড়িৎ বিশ্লেষণ ও আধুনিক প্রয়োগ' প্রকল্পগুলো সকলের বিশেষ নজর কাড়ে।

​এছাড়াও পরিবেশবান্ধব আধুনিক নগর পরিকল্পনার বার্তা নিয়ে 'টেকসই শহরায়ণ', উদ্ভিদের খাদ্য তৈরির কৌশল ভিত্তিক 'আলোক ও অন্ধকার পর্যায়' এবং জনস্বাস্থ্য রক্ষায় 'সুষম খাদ্য ও পুষ্টি সচেতনতা' বিষয়ক তথ্যবহুল প্রজেক্ট প্রদর্শিত হয়।

​বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব আসিফ ইশতিয়াক এবং প্রধান শিক্ষক জনাব এইচ এম সাইফুল ইসলামের বলিষ্ঠ নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই বিজ্ঞান মেলা সফলভাবে সম্পন্ন হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই মেলা শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিক অগ্রযাত্রায় এক নতুন দিগন্ত সূচনা করল।

পাইকগাছায় ১৫১ পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা; সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এমপি ফাহমিদা হকের

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯:০১ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ১৫১ পূজামণ্ডপে আর্থিক সহায়তা; সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান এমপি ফাহমিদা হকের

ছবি যোগফল

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকল পূজামণ্ডপ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি কেন্দ্র, জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপির পর্যবেক্ষক দল এবং মন্দিরভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবকেরা ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করবেন। সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার বন্ধন অটুট রাখতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে, যাতে কোনো সুযোগসন্ধানী এই বন্ধন নষ্ট করতে না পারে।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১১টায় খুলনার পাইকগাছা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপগুলোর অনুকূলে সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপজেলার ১৫১টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে সরকারি বরাদ্দের ডিও লেটার তুলে দেওয়া হয়।

ফাহমিদা হক বলেন, কয়রা-পাইকগাছার আর্থসামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন, রাস্তাঘাট ও কালভার্ট নির্মাণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের বিষয়ে ইতোমধ্যে তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে। অবহেলিত এ অঞ্চলের উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্ব দিচ্ছেন। অঞ্চলটিকে আধুনিকায়নে দৃশ্যমান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জনসাধারণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ চলছে। দেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পাইকগাছা উপজেলার ১৫১টি শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপে প্রতিটিতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ১০ লাখ ৫৭ হাজার টাকা সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া সংসদ সদস্য ফাহমিদা হক তাঁর ব্যক্তিগত তহবিল থেকে ৪৭টি পূজামণ্ডপে ৫ হাজার টাকা করে মোট ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা সহায়তা দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব ও খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আবহমানকাল থেকেই এ দেশে সব ধর্মের মানুষ মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করে আসছেন। দুর্গাপূজা যেন নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, সে জন্য সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরাও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন।

তিনি আরও বলেন, সবাই যেন সর্বোচ্চ নিরাপত্তার মধ্যে ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সেটিই সরকারের প্রত্যাশা। অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে বিরোধিতার স্বার্থে বিরোধিতা না করে দেশ গঠনে সরকারকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আশরাফুল আলম নান্নু, পাইকগাছা থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম এনামুল হক, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব এস এম ইমদাদুল হক এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামাল আহমেদ সেলিম নেওয়াজ।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট আবু সাঈদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, শেখ রুহুল কুদ্দুস, সাজ্জাদ আহমেদ মানিক, তুষার কান্তি মণ্ডল, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রাণকৃষ্ণ দাশ, সদস্যসচিব হিমাদ্রি শেখর দে, পৌর সভাপতি বাবুরাম মণ্ডল, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পৌর সভাপতি সন্তোষ কুমার সরকারসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক এবং বিভিন্ন যুব ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় চিকিৎসাপ্রার্থীদের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

সাতকানিয়ায় মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৮:১২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
সাতকানিয়ায় মহাসড়ক দখলমুক্ত করতে দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কেরানিহাট এলাকায় সড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা দুই শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর। যানজট নিরসন ও জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ৩টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত অভিযানে মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে নির্মিত বিভিন্ন দোকানপাট ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে মহাসড়কে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং না করতে চালক ও মালিক সমিতির নেতাদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব দাশ পুরকায়স্থ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি, সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আলীম, কেরানিহাট ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ মাহাবুবসহ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দোহাজারী-বান্দরবান সড়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আরিফুল ইসলাম ছিদ্দিকি বলেন, মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা এবং দোকানপাট গড়ে তোলায় প্রতিনিয়ত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে সাধারণ পথচারীদের চলাচলও ব্যাহত হচ্ছে। জনসাধারণের চলাচল নির্বিঘ্ন করা ও যানজট নিরসনের লক্ষ্যে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুনরায় অবৈধ স্থাপনা গড়ে তোলা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব দাশ পুরকায়স্থ বলেন, মহাসড়কের যেসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দোকানপাট বসানো হয়েছিল, সেসব স্থাপনা উচ্ছেদ করা হচ্ছে। দখলের কারণে অনেক স্থানে সড়কের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, উচ্ছেদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যাতে আবারও অবৈধ দোকানপাট বসানো না হয়, সে বিষয়ে সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীদের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানগুলো যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এবারের উদ্যোগের ফলে আগের বছরের তুলনায় অবৈধ দোকানপাট পুনরায় বসানোর প্রবণতা কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের বান্দরবান বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উচ্ছেদ অভিযানের আগে মাইকিং করে ব্যবসায়ীদের বিষয়টি জানানো হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার প্রশাসনের সহযোগিতায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সড়ক নিরাপদ রাখা ও যানজট নিরসনই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তবে উচ্ছেদ অভিযানে ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। হকার রিদুয়ান বলেন, ছোট ছোট দোকান উচ্ছেদ করায় তাঁরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এসব দোকানই ছিল তাঁদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের একমাত্র অবলম্বন। দোকান ভেঙে দেওয়ায় তাঁরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এখন কীভাবে সংসার চালাবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

তিনি সরকারের কাছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প কর্মস্থলের ব্যবস্থা এবং নতুন করে জীবিকা শুরু করতে সহযোগিতার দাবি জানান।

তুলি আক্তার / অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম