পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুম, জমজমাট হাট-বাজার
বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ২:১৫ পূর্বাহ্ণ
প্রতিবেদকের সকল নিউজ
ছবি যোগফল প্রতিনিধি
এম জালাল উদ্দীন | পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি :
খুলনার পাইকগাছায় সুপারির ভরা মৌসুমে জমে উঠেছে হাট-বাজারগুলো। উপজেলার বিভিন্ন হাটে প্রতিদিনই চলছে সুপারি কেনাবেচার ব্যস্ততা। গদাইপুর, আগড়ঘাটা, বাকা, নতুন বাজার, কপিলমুনি, রাড়লী, কাটিপাড়াসহ আশপাশের এলাকার হাটগুলোতে বাগান মালিক, খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের পদচারণায় তৈরি হয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে এ বছর সুপারির ফলন কিছুটা কম হওয়ায় বাজারে সরবরাহ ও দাম নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মৌসুমের শুরুতে প্রতি কুড়ি সুপারি ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে দাম কমে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় নেমে এসেছে। তবে বড় আকারের সুপারি প্রতি কুড়ি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আকার ও মানভেদে দামের এ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে বাজারগুলোতে। ফলন তুলনামূলক কম হলেও সুপারির চাহিদা থাকায় ব্যবসায়ীরা কেনাবেচায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলায় প্রায় ৪২ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ। প্রতিটি গাছে গড়ে দুই থেকে চার কাঁদি সুপারি ধরে। কোনো কোনো গাছে ৫০ থেকে ১৫০টি সুপারি পাওয়া যায়, আবার ভালো ফলন হলে কোনো কোনো গাছে ৫০০ থেকে ৬০০টি পর্যন্ত সুপারি ধরে।
লবণাক্তপ্রবণ এ অঞ্চলের মাটি ও পরিবেশে সুপারি চাষ বেশ পরিচিত। উপজেলার গড়ইখালী, গদাইপুর, হরিঢালী, কপিলমুনি ও রাড়লী ইউনিয়নে সুপারি বাগানের আধিক্য রয়েছে। এ ছাড়া চাঁদখালী ইউনিয়ন ও পৌরসভার বিভিন্ন এলাকাতেও সুপারি গাছ দেখা যায়। অনেক বাগান মালিক নিজেদের জমিতে সুপারি চাষ করে বাড়তি আয় করছেন। মৌসুমি এ ফসল স্থানীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা জানান, বিভিন্ন হাট থেকে সুপারি সংগ্রহ করে পাইকাররা খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠাচ্ছেন। কেউ কেউ সরাসরি সুপারি বিক্রি করছেন, আবার অনেকে পরবর্তী সময়ে ভালো দামে বিক্রির আশায় সুপারি গুদামজাত করছেন। কিছু ব্যবসায়ী সুপারি শুকিয়ে কিংবা পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করে পরে বাজারজাত করেন। এভাবে সুপারি কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে পরিবহন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমও বেড়েছে।
কাটিপাড়ার বাগান মালিক আবুল হোসেন বলেন, এ বছর সুপারির ফলন তেমন ভালো না। তবে বাজারদর তুলনামূলক ভালো থাকায় খরচ সহ টাকাটা হয়তো বাঁচবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী এম সামাদ হাসান, আজিজুল ইসলাম ও নুরুজ্জামান বলেন, বাজারে সুপারির সরবরাহ কম থাকায় দাম ওঠানামা করছে। আকার ও মান অনুযায়ী সুপারির দাম নির্ধারিত হচ্ছে। এক কুড়িতে ২২০টি সুপারি থাকে, যা স্থানীয়ভাবে ৫৫ গোণ্ডা হিসেবে গণনা করা হয়।
সুপারি কেবল একটি অর্থকরী ফসল নয়, বাংলাদেশের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক জীবনেও এর রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। পান খাওয়ার অন্যতম উপাদান হিসেবে সুপারি গ্রামবাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবন থেকে শুরু করে সামাজিক ও ধর্মীয় নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়। কেউ কাঁচা সুপারি, কেউ শুকনো, আবার কেউ পানিতে ভিজিয়ে সংরক্ষণ করা সুপারি খেয়ে থাকেন।
সব মিলিয়ে, ফলন কিছুটা কম হলেও সুপারি ঘিরে পাইকগাছার হাট-বাজারে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন