খুঁজুন
advertisement
advertisement
বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে মিলল শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ, লকেটে শনাক্ত

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১:১৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপে মিলল শিক্ষিকা মুক্তার দেহাবশেষ, লকেটে শনাক্ত

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। গলায় থাকা লকেট দেখে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে পাটুয়ারটেক এলাকার পুড়ে যাওয়া রিসোর্ট থেকে তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।

নাসরিন আক্তার মুক্তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে তাঁরা ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন।

সোমবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১০ জনের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানায়। তবে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মুক্তা ছিলেন না। তাঁর স্বজনদের ডিএনএর সঙ্গে উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নমুনার মিল না পাওয়ায় তাঁর সন্ধান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

এরপর মঙ্গলবার সকালে মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে উদ্ধার হয় মুক্তার দেহাবশেষ।

মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে তাঁর স্ত্রীর দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। সে সময় মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় তাঁর দুই বান্ধবী প্রাণে বাঁচলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে আর বের হতে পারেননি মুক্তা।

ফয়সাল বলেন, ঘটনার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা মুক্তার সন্ধানে অপেক্ষা করছিলেন। একে একে অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে ১০ দিন পর উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের গলায় থাকা লকেট দেখে তিনি স্ত্রীকে শনাক্ত করেন।

মুক্তার ফুফাতো ভাই হাসিবুল ইসলাম উদ্ধার অভিযান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, প্রথম দফায় ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও মুক্তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ঘটনাস্থলে গিয়েও তাঁরা মুক্তার সন্ধান পাননি। পরে তাঁর দুলাভাইয়ের উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে আবারও তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে গলায় থাকা লকেট দেখে মুক্তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

হাসিবুল আরও বলেন, মুক্তার বান্ধবীরা বারবার জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় তিনি রিসোর্টের ভেতরেই ছিলেন। এরপরও কেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া যায়নি, সেই প্রশ্নের উত্তর তাঁরা এখনো পাননি। পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে হয়তো আরও আগেই মুক্তার সন্ধান পাওয়া যেত।

উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, নিখোঁজ মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধারে রিসোর্টের পুরো ধ্বংসস্তূপে সমন্বিতভাবে অভিযান চালানো হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ভবনের দোতলার ওপর থেকে দেহাবশেষটি উদ্ধার করেন।

এদিকে মঙ্গলবার দুপুরের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের হিমঘর থেকে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত-এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: তারেক রহমান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াত-এনসিপি সহ্য করতে পারছে না: তারেক রহমান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

নিজের রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াও জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা সহ্য করতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। পোস্টে নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা, আটক ও রিমান্ডের ঘটনা তুলে ধরার পাশাপাশি জামায়াত ও এনসিপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘আজ প্রধানমন্ত্রী মজা করে বলছিলেন, তারেক তুমি আবার যাবা আমার সঙ্গে। ওরা জ্বলতে থাকুক।’ তিনি আরও লেখেন, ‘জামায়াত-এনসিপি আমাকে হেয় করতে করতে এমন মানসিক অবস্থায় চলে গেছে যে, আমার একটু রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়াটাও সহ্য করতে পারছে না।’

রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকের আর্থিক সংকটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে অংশ নেওয়া সহযোদ্ধাদের মধ্যে অনেককেই জীবিকা নির্বাহের জন্য শুভাকাঙ্ক্ষীদের সহযোগিতার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। তিনিও কিছুদিন প্রবাসীদের দেওয়া অর্থে খাবার, বাসাভাড়া ও গাড়িভাড়া মিটিয়েছেন বলে জানান।

তিনি বলেন, পরে ওই নির্ভরশীলতা থেকে বের হয়ে কাজ করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করেছেন। বাবা-মায়ের রাজনীতিতে অনাগ্রহের কারণে তাঁকে দারিদ্র্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে উল্লেখ করে তিনি ফল ও মধুর ব্যবসা করার কথাও তুলে ধরেন।

নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে তারেক রহমান দাবি করেন, ২০১৮ সালের আন্দোলনের লিফলেট, মোদিবিরোধী আন্দোলনের লিফলেট এবং ভারতীয় পণ্য বর্জনের প্রচারণায় জনপ্রিয় হওয়া লিফলেট তৈরিতে তাঁর ভূমিকা ছিল।

নিজের আটক, গুম ও রিমান্ডের ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ রমনা থানায় প্রথম আটক হন। একই বছরের ১৪ জুলাই দ্বিতীয়বার গুম হন বলে দাবি করেন তিনি। এরপর ২০২০ সালের ১০ ডিসেম্বর ডিবি তাঁকে আটক করে এবং পরবর্তী সময়ে ডিজিএফআইয়ের হাতে আটক হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। এ ছাড়া ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ১০ দিনের রিমান্ডে থাকার কথা জানান তিনি।

জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে বিরোধকে রাজনৈতিক বিরোধ হিসেবে দেখতে চান না উল্লেখ করে তারেক রহমান লেখেন, ‘যারা আমাকে সহ্য করতে পারছেন না, তাদের সঙ্গে আমার রাজনৈতিক বিরোধ নেই। এই বিরোধ সার্বভৌমত্বের বিরোধ।’

পোস্টে মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কথা বলার বিরোধিতা করা হয়েছিল। এর বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার সবচেয়ে বড় লড়াই হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান আরও অভিযোগ করেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তি ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে জামায়াতের নেতাদের ভারত-সংশ্লিষ্টতা নিয়েও তিনি বিভিন্ন দাবি করেন। তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি।

বিএনপির নেতাদের পদায়ন নিয়ে জামায়াতের অবস্থান প্রসঙ্গেও মন্তব্য করেন তারেক রহমান। নিজের বিরুদ্ধে হয়রানির ঘটনায় বিচলিত নন জানিয়ে তিনি জুলাই-সম্পর্কিত মামলায় কারাগারে থাকা কোনো বীর মুক্তিযোদ্ধা থাকলে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাঁকে জামিন দেওয়ার জন্য আদালতের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, জামিনে থাকা অবস্থায় কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে আবার গ্রেপ্তার করা সম্ভব। তাঁর মতে, জুলাইয়ের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের দূরত্ব কমানোর একটি উপায় হতে পারে এ উদ্যোগ।

পোস্টের শেষাংশে তারেক রহমান বাংলাদেশপন্থি দল, জাতীয়তাবাদী দল ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি তাঁকে সঙ্গে রাখার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতিও ভালোবাসা প্রকাশ করেন তিনি।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় গাফিলতি নয়, সরকারের প্রতি নাহিদ ইসলামের আহ্বান

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪:৫৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসায় গাফিলতি নয়, সরকারের প্রতি নাহিদ ইসলামের আহ্বান

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসায় প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে কোনো ধরনের গাফিলতি যেন না হয়, সে বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালায় জুলাই আন্দোলনে স্থায়ী পঙ্গুত্ব বরণ করা মো. বাপ্পিকে দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ আহ্বান জানান।

নাহিদ ইসলাম বলেন, বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ফসল। হাজারো মানুষের জীবনদান, অঙ্গহানি ও পঙ্গুত্বের বিনিময়ে নির্বাচন ও সরকারের ক্ষমতায় আসার পথ তৈরি হয়েছে। তাই রাজনীতিসহ সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে আহত যোদ্ধাদের প্রতি সরকারের বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যেন তাঁদের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। আহত যোদ্ধাদের আর্থিক সহযোগিতা, পুনর্বাসন, তাঁদের পরিবারের সহায়তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ছিল। একটি রাজনৈতিক দলের পক্ষে যতটুকু করা সম্ভব, রাষ্ট্রের পক্ষে তার চেয়ে অনেক বেশি করা সম্ভব।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আহতদের জন্য অনেক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব হলো সেগুলোর যথাযথ দেখভাল করা এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা।

সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, জুলাই যোদ্ধারা এ দেশের বীর। তাঁদের বীরত্বের কারণেই বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীন হয়েছে। তাঁদের ত্যাগের কারণেই আজ মানুষ নতুন করে স্বপ্ন দেখতে পারছে। তাঁদের যেন কখনো ভুলে যাওয়া না হয়। অনেকেই হয়তো আর সুস্থ জীবন ফিরে পাবেন না। তাই রাষ্ট্র হিসেবে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।

এ সময় এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সারজিস আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, ঢাকা বিভাগীয় উত্তরের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল্লাহ হায়দার, সহসাংগঠনিক সম্পাদক শওকত আলী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার নাবিলা তাসনিদ, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আলী নাসের খান এবং গাজীপুর জেলা এনসিপির আহ্বায়ক আবু রায়হান মেজবাহসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম