খুঁজুন
advertisement
advertisement
শনিবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৫ কার্তিক, ১৪৩৩

২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান, চলতি শিক্ষাবর্ষেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান, চলতি শিক্ষাবর্ষেই বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দীর্ঘ ২৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন আইন ও নামে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়। চলতি ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেই গুচ্ছ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরুর লক্ষ্যে একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী একাডেমিক ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান। বগুড়ার সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো মতবিনিময়ের জন্য এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য বলেন, ২০০১ সালে বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নামে আইন পাস হলেও প্রতিষ্ঠানটি বাস্তবে যাত্রা শুরু করতে পারেনি। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ৪ জুন রাষ্ট্রপতি তাকে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে বৃহৎ পরিসরে বহুমাত্রিক বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়ায় উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

তিনি বলেন, গত ১৬ জুলাই নতুন আইনের গেজেট অনুমোদন পায় এবং ১৯ জুলাই আইনটি কার্যকর হয়। ২০০১ সালের আইনের সঙ্গে বর্তমান আইনের প্রায় ৯৯ শতাংশ পার্থক্য রয়েছে। নতুন আইন কার্যকর হওয়ার আগে পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। তবে গত আড়াই মাসে একাডেমিক ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি অনেকটাই সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে জরুরি ভিত্তিতে চারজন কর্মকর্তা ও সাতজন কর্মচারীসহ মোট ১১ জনকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও জানান উপাচার্য।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ সদস্যের সিন্ডিকেটের মধ্যে এখন পর্যন্ত ছয়জন সদস্য পাওয়া গেছে। ন্যূনতম নয়জন সদস্যের ফোরাম পূর্ণ হলে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শহরের যানজট এড়ানো, মাঠ, কাঁচাবাজার ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ভবন নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে স্মার্টবোর্ড সংবলিত শ্রেণিকক্ষ, কম্পিউটার ল্যাব, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির সুবিধা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও অধ্যাপক মুনিয়ারের নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সক্ষমতা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

চাকরির বাজারের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে নয়টি যুগোপযোগী বিষয় চালুর প্রস্তাব ইউজিসির কাছে তুলে ধরা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য। প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), রোবোটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স ও ফিনটেক (ফিন্যান্সিয়াল টেকনোলজি)।

তিনি বলেন, ইউজিসির চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়া মাত্রই মার্চে নির্ধারিত গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির কার্যক্রম শুরু করা হবে।

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান সৃষ্টির জায়গা। একজন অযোগ্য শিক্ষক দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষতির কারণ হতে পারেন। স্বজনপ্রীতি বা সুপারিশের ভিত্তিতে কোনো শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে না। যোগ্য প্রার্থীরাই নিয়োগের সুযোগ পাবেন।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মোহন আখন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক অনুমোদন, প্রস্তাবিত নয়টি বিভাগ, ভর্তি পরীক্ষার সময়সূচি এবং মেধাভিত্তিক ও স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করার আহ্বান জানান।

বগুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রেজাউল হাসান রানু উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রস্তাবিত অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় আঞ্চলিক চাহিদার প্রতিফলন রাখার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ২০০১ সালে পাস হওয়া আইনটি দীর্ঘদিন কার্যকর না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। তাই নতুন উদ্যোগে আর বিলম্ব না করে চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকেই শিক্ষার্থী ভর্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি স্থায়ী ক্যাম্পাসের স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সমন্বিত ক্যাম্পাস কাঠামো বিবেচনায় রাখার জন্য উপাচার্য ও জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ আন্তর্জাতিক কর্মক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা সায়েন্সনির্ভর আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অন্যদিকে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক প্রতিনিধি মেহেরুল সুজন উত্তরাঞ্চলে পেশাদার সাংবাদিকতার বিকাশ এবং গণমাধ্যম চর্চার সুযোগ বাড়াতে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ খোলার প্রস্তাব দেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. কুদরত-ই-জাহান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাংবাদিকতা বিভাগ অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিক মানের মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম


এআই সার্চের চাপে এক দিনে ৫১ হাজার কোটি ডলার হারাল অ্যালফাবেট

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
এআই সার্চের চাপে এক দিনে ৫১ হাজার কোটি ডলার হারাল অ্যালফাবেট

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সার্চ ব্যবস্থার কারণে বিজ্ঞাপন থেকে আয় কমে যাওয়ার আশঙ্কায় এক দিনেই ৫১ হাজার কোটি ডলারের বেশি বাজারমূল্য হারিয়েছে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির শেয়ারের দর ১২ শতাংশের বেশি কমে ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। খবর বিবিসির।

বুধবার প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে অ্যালফাবেটের আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়ে ১২ হাজার ৭৬০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে বিজ্ঞাপন খাতের আয় বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

অ্যালফাবেটের প্রধান ব্যবসায়িক কর্মকর্তা ফিলিপ শিন্ডলার জানান, গুগলের কথোপকথনভিত্তিক এআই সার্চ সুবিধা ‘এআই মোড’ প্রচলিত সার্চ ফলাফলের পাশে প্রদর্শিত বিজ্ঞাপন থেকে আয়ে প্রভাব ফেলছে। ব্যবহারকারীরা সরাসরি এআইয়ের কাছ থেকে উত্তর পাওয়ায় প্রচলিত সার্চ বিজ্ঞাপনের আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তবে এআইভিত্তিক সার্চ ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী শিন্ডলার। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির অগ্রগতির ধারা নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট।

এআইয়ের দ্রুত বিস্তারে মানুষের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে গুগলের দীর্ঘদিনের আধিপত্যও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। লাখো মানুষ এখন চ্যাটজিপিটি ও ক্লডের মতো এআই প্রোগ্রাম ব্যবহার করছেন।

গুগলের বিজ্ঞাপন ব্যবসার সাবেক প্রধান কিম স্কট বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান গুগলের ব্যবসার জায়গা দখল করার আগেই নিজেদের এআই সারাংশের মাধ্যমে প্রচলিত সার্চ আয়ের ক্ষতি মেনে নিতে প্রস্তুত গুগল। তাঁর মতে, অন্য কাউকে নিজেদের ব্যবসা দখল করতে দেওয়ার চেয়ে গুগল নিজেই ব্যবসায় পরিবর্তন আনতে চায়।

স্কট আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি প্রযুক্তিগত বিনিয়োগের ঝুঁকি নেওয়ার ধারণার ওপরই গুগলের প্রতিষ্ঠা। তাই স্বল্পমেয়াদে ক্ষতি হলেও এআই খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার অ্যালফাবেটের শেয়ারের দর ১২ শতাংশের বেশি কমে যায়। দিনের শেষে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য আগের দিনের ৩ লাখ ৯৭ হাজার কোটি ডলার থেকে কমে ৩ লাখ ৪৬ হাজার কোটি ডলারে দাঁড়ায়।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফরেস্টারের প্রধান বিশ্লেষক ট্রেসি উ বলেন, গুগলের সার্চ ব্যবসার হতাশাজনক ফলাফল দেখিয়েছে, প্রতিষ্ঠিত ব্যবসার শক্তি ধরে রাখার পাশাপাশি এআই খাতে বিপুল বিনিয়োগের অর্থ জোগাড় করা কতটা কঠিন।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম


৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩৪ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৯ মাস পর অভিনয়ে ফিরলেন তানিয়া বৃষ্টি

ছবি সংগৃহীত

  নিজস্ব প্রতিবেদক:

ব্রেন টিউমার ও দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে অভিনয়ে ফিরেছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তানিয়া বৃষ্টি। অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ ৯ মাস শুটিংয়ের বাইরে ছিলেন তিনি। সম্প্রতি ইকসান রনির পরিচালনায় ‘অংশীদার’ নামের একটি নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে আবারও ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন এই অভিনেত্রী। এরই মধ্যে নাটকটির শুটিং শেষ হয়েছে।

নাটকটি রচনা ও পরিচালনা করেছেন ইকসান রনি। সংলাপ লিখেছেন ফারুক আহমেদ রানা ও নন্দী জুয়েল। সমাজে নারীর ন্যায্য অধিকার, আত্মমর্যাদা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের গল্প তুলে ধরা হয়েছে এতে। বিশেষ করে বাবার মৃত্যুর পর পৈতৃক সম্পত্তিতে মেয়েদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম নাটকটির মূল বিষয়।

এতে তানিয়া বৃষ্টির সঙ্গে আরও অভিনয় করেছেন ফজলুর রহমান বাবু, ডলি জহুর, নন্দী জুয়েল, আর সি অরণ্য, আশরাফুল আশীষ ও পংকজ মজুমদার।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তানিয়া বৃষ্টি। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ে। প্রথমে ঢাকায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণ করা হলেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ভারতের চেন্নাইয়ে যেতে হয়। সেখানে তাঁর আরও একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। দীর্ঘ চিকিৎসার পাশাপাশি কঠোর বিশ্রাম ও কেমোথেরাপির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে।

গত ৩ অক্টোবর নিজের ফেসবুক লাইভে এসে শারীরিক অবস্থার উন্নতির কথা জানান অভিনেত্রী। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন নাটকের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ায় তাঁর ভক্ত ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে আনন্দের খবর ছড়িয়ে পড়েছে।

নির্মাতা সূত্রে জানা গেছে, খুব শিগগিরই কেএসআই এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেল ও একটি টেলিভিশন চ্যানেলে নাটকটি প্রচার করা হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম


শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা সেলাই করে দিলেন প্রধান শিক্ষিকা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা সেলাই করে দিলেন প্রধান শিক্ষিকা

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ক্লাসের ফাঁকে এক শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা সেলাই করে দিয়েছেন প্রধান শিক্ষিকা। দূর থেকে সেই দৃশ্যের ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার বেরীকান্দি বড়খলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ মানবিক দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) খাইরুন নাহার লিপি নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে প্রধান শিক্ষিকার এমন কর্মকাণ্ডের ছবি ও বর্ণনা দিয়ে পোস্ট করা হয়। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই তা শেয়ার করে প্রধান শিক্ষিকার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন।

কালবেলার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি বিদ্যালয়টির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানিয়েছেন, এমন মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য প্রধান শিক্ষিকা নাইলা আগে থেকেই এলাকায় পরিচিত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বরাবরই তাঁর আন্তরিক সম্পর্ক।

সহকারী শিক্ষিকার ফেসবুক পোস্ট থেকে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও পাঠদান-সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নিচ্ছিলেন প্রধান শিক্ষিকা। এ সময় তাঁর নজরে আসে, এক শিক্ষার্থীর গায়ের জামাটি ছেঁড়া। বিষয়টি দেখার পর কাউকে দিয়ে কাজটি করানোর অপেক্ষা না করে নিজেই সুঁই-সুতো ও কাঁচি হাতে নিয়ে জামাটি সেলাই করে দেন।

পোস্টে খাইরুন নাহার লিপি লেখেন, প্রতিদিন বিদ্যালয়ে এসে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পুরো বিদ্যালয় পরিচালনা করেন প্রধান শিক্ষিকা নাইলা। তবে এদিন তাঁকে দেখা গেছে ভিন্ন এক রূপে। এক শিক্ষার্থীর ছেঁড়া জামা চোখে পড়তেই প্রশাসনিক গাম্ভীর্য সরিয়ে রেখে নিজেই সুঁই-সুতো হাতে বসে পড়েন। পরম মমতায় সেলাই করে দেন শিক্ষার্থীর জামাটি।

তিনি আরও লেখেন, শিক্ষাঙ্গন কেবল চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো প্রতিষ্ঠান নয়; বরং এটি যত্ন ও ভালোবাসার একটি পরিবার। প্রধান শিক্ষিকা নাইলা তাঁর কাজের মাধ্যমে সেটিই আবারও প্রমাণ করেছেন। এমন মানবিক ও অসাধারণ একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করতে পারাকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই মন্তব্যে প্রধান শিক্ষিকার এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন। নানা নেতিবাচক ঘটনা ও সমালোচনার মধ্যে শিক্ষকদের এমন মানবিক কর্মকাণ্ড সামনে আসা প্রয়োজন বলেও মনে করছেন অনেকে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম