হাসপাতালে রোগী ভতি না করায় অটোরিকশায় সন্তান প্রসব

যোগফল ডেস্ক

07 Apr, 2020 02:41pm


হাসপাতালে রোগী ভতি না করায় অটোরিকশায় সন্তান প্রসব

প্রসব বেদনা নিয়ে মিষ্টি আকতার (২০) গিয়েছিলেন গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে। তিনি প্রসব বেদনায় ছটফট করছিলেন। কিন্তু ভর্তি না নেওয়ায় তিনি সড়কের ওপরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় সন্তান প্রসব করেছেন। সোমবার [৬ এপ্রিল ২০২০] রাত আটটার দিকে গাইবান্ধা শহরের মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

মিষ্টি আকতার গাইবান্ধা সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের আবদুর রশিদের স্ত্রী। আবদুর রশিদ মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল ২০২০) দুপুরে বলেন, ‘আজ সকালে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া আমরা বাড়ি চলে এসেছি। মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ আছেন।’

আবদুর রশিদ জানান, সোমবার সন্ধ্যায় বাড়িতে মিষ্টি আকতারের প্রসব বেদনা ওঠে। তখন মিষ্টি আকতারকে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাযোগে গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে নিয়ে যান। এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তৌহিদা বেগম কোনও পরীক্ষা না করেই তাঁকে অন্য কোনো হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলেন। তারপরও তিনি এই প্রসূতিকে ভর্তি করে নিতে পরিদর্শিকা তৌহিদা বেগমকে একাধিকবার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কোনও কথা শোনেননি। পরে নিরুপায় হয়ে অন্যত্র সেবা পাওয়ার উদ্দেশে ওই অটোরিকশাযোগেই সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় মিষ্টি আকতার ব্যথায় চিৎকার করতে থাকেন। গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র থেকে মাত্র ২০০ গজ দূরে শহরের মধ্যপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের সড়কে তিনি ওই অটোরিকশার ভেতরেই একটি ফুটফুটে ছেলে সন্তান প্রসব করেন।

গাইবান্ধা পৌরসভার ৬নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শহিদ আহমেদ বলেন, প্রসূতির প্রচুর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে উৎসুক জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র ঘেরাও করে। খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করি এবং এই প্রসূতিকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই।

পরে বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ মিষ্টি আকতারকে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে ভর্তি করেন। তিনি আরও জানান, করোনা আতঙ্কে যদি কোনও কর্মচারী রোগীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করে থাকেন, তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা যুব নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক জিয়াউল হক বলেন, গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এ ধরনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটিয়ে থাকেন। তাঁরা রোগী না দেখেই শহরের ক্লিনিকগুলোতে যাওয়ার পরামর্শ দেন।

পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা তৌহিদা বেগম মোবাইল ফোনে বলেন, ‘আমি কাগজপত্র দেখে রোগীর স্বাভাবিকভাবে সন্তান প্রসব সম্ভব নয় বলে ফিরিয়ে দেই। কিন্তু রাস্তায় সন্তান প্রসব করবে এমনটা ভাবিনি।’

গাইবান্ধা মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের চিকিৎসক সেকেন্দার আলী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দায়িত্বরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



এই বিভাগের আরও