শ্রীপুরে করোনা সন্দেহে লাশ দাফনের অসহযোগিতার অভিযোগ

শফিকুল ইসলাম ভুইয়া

13 Apr, 2020 08:41pm


শ্রীপুরে করোনা সন্দেহে লাশ দাফনের অসহযোগিতার অভিযোগ
খোকনের লাশের নমুনা সংগ্রহ

গত ৯ এপ্রিল সকাল সাড়ে দশটায় খোকন নামে এক কাঠ মিস্ত্রি অসুস্থ হওয়ায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় । আর এই মৃত্যুকে করোনা আক্রান্তে মৃত্যু বলে গুজব ছড়িয়ে লাশ দাফনে সহযোগিতা থেকে বিরত রাখে সমাজের সাধারণ মুসল্লীদের। এমন কি খোকনের লাশ রাখার খাটিয়া এবং কবর খোঁড়ার যন্ত্রপাতি পর্যন্ত দেয়নি কথিত সমাজপতিরা। আর এই ঘটনাটি ঘটেছে গাজীপুর জেলার শ্রীপুরের কাইচা বাড়ী গ্রামে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় খোকন পেশায় কাঠ মিস্ত্রি ছিলো। বিগত প্রায় ৪-৫ বছর ধরে সে পেটের পীড়াসহ আরও নানাবিধ অসুস্থতায় আক্রান্ত ছিলো। ঘটনার দুদিন আগে নতুন করে অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ায় ৯ এপ্রিল খোকনের স্বজনরা তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য হাসপাতালে নিয়ে যায়। তখন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডিউটি ডাক্তাররা খোকনকে পর্যবেক্ষণ করে দেখে। হাসপাতালে নেওয়ার আগেই মারা গেছে বলে ঘোষণা করেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরীক্ষা করতে লাশের নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতালের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে শ্রীপুর মডেল থানা থেকে ক্লিয়ারেন্স নিয়ে লাশ স্বজনদের মাধ্যমে সরকারি অ্যাম্বুল্যান্সে খোকনের বাড়িতে পৌঁছে দেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

খোকনের স্বজনরা দাবি করেন এত আনুষ্ঠানিকতার পরও সমাজের নামধারী কিছু মানুষ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও অতিউৎসাহী হয়ে খোকন ও এর আশপাশের পরিবারগুলোকে সামাজিক হেয় করতে, করোনা আক্রান্ত গুজব ছড়ায়।  ফলে খোকনের পরিবার বিভিন্নভাবে মানসিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। ঘটনার পর থেকে তারা সামাজিক ভাবে একপ্রকার অবরুদ্ধ হয়ে পরে। দেশের এই ক্রান্তিকালে তাদের সাথে সমাজপতিদের এমন আচরণে তারা আরও বেশি পরিমাণে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পরেছি আমরা।

খাট এবং কবর খোঁড়ার যন্ত্রপাতি না দেওয়ার বিষয়ে সমাজের মসজিদ কমিটির সভাপতি দেলোয়ার ফকির ও সম্পাদক ফজলুল হক ফকিরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ওই সমাজের কয়েকজনের সাথে কথা বললেও তারা কোন সদুত্তর দিতে পারেনি কিন্তু খাট না দেওয়ার বিষয়টি অমানবিক বলে মত দেন।                             
 
এবিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্তমান আরএমও ফাতেহ্ আকরামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, করোনা সন্দেহ করে লাশ দাফনে খাট বা করব খুঁড়তে যন্ত্রপাতি দেয়নি এটা অমানবিক ও গর্হিত কাজ। এমনটা করা মোটেই উচিৎ নয়। তিনি আরও বলেন কোন লাশের শরীরে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ সন্দেহ অথবা নিশ্চিত ভাইরাস থাকলেও রুগী মারা যাওয়ার পরে সর্বোচ্চ ৩ ঘন্টা জীবাণু সক্রিয় থাকতে পারে। সুতরাং খাট না দেওয়ার কোন যৌক্তিকতা নাই এগুলো সচেতনতার অভাব বা কুসংস্কার। এসব পরিহার করা উচিত। 

খোকনের লাশের নমুনা সংগ্রহ করে টেস্টের জন্য পাঠানোর পর সোমবার [১৩ এপ্রিল ২০২০] রিপোর্ট এসেছে করোনা নেগেটিভ।

সমাজের লোকজন দাফন কাফনের ব্যবস্থা না করলেও স্বজনরা নিজেদের মত করে খাটিয়া ছাড়াই ইমামের সহযোগিতায় লাশের গোসল জানাজা এবং কবর দেওয়ার কাজ ওইদিনই সম্পন্ন করেন।

গ্রামবাসীরা সহযোগিতা না করলেও দূরে দাঁড়িয়ে স্বজনদের দাফন কাফনে দেখছিল কয়েকজন।

মৃত্যুকালে খোকন স্ত্রী এবং তিন মেয়ে এক ছেলে রেখে যান, তেমন সহায়সম্পদ না থাকায় খোকনের পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।কোনাবাড়ীর এসআই সাইফুল প্রত্যাহার



এই বিভাগের আরও