নারায়ণগঞ্জে একটি সৎকারের করুণ কাহিনি

নিলয় চক্রবর্তী

27 Apr, 2020 09:53am


নারায়ণগঞ্জে একটি সৎকারের করুণ কাহিনি
কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ

নারায়ণগঞ্জ শহরের গলাচিপা এলাকার ব্যবসায়ী, ৭ তলার ভবনের মালিক। ৭ বন্ধু মিলে এই ফ্ল্যাট বাড়িটি তৈরি করেছেন। ওই ভবনের ৪ তলাতে তিনি স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়ে নিয়ে বাস করতেন। বিত্তবৈভব ধনসম্পত্তির কমতি নেই। 

তার শারীরিক অবস্থা যখন প্রচন্ড খারাপ হয়, তখন আশপাশের ফ্ল্যাটে থাকা তার সেই বন্ধুদের এবং পরিচিত আত্মীয় স্বজনদের ডেকেছিলেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতা করতে। কিন্তু কেউ আর তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। পরে, স্ত্রী ও ছোট দুই মেয়েই তাকে কোনও একটা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে নামিয়ে আনছিলেন। সেইসময় নামানোর পথে সিঁড়িতেই তিনি মারা যান। 

এরপরও কেউ এগিয়ে আসেনি। করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ লাশ সিঁড়িতেই পড়েছিল। কেউ একবারের জন্যও ছুঁয়ে দেখেনি। এমনকি স্ত্রী-কন্যার কান্নায়ও মন গলেনি কারও। বেলা বারটার দিকে খবর পেয়ে লাশ সংগ্রহ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ। তিনি ও তার দলের লোকজন মৃতের সৎকার সম্পন্ন করেন। 


মৃতের সম্প্রদায় কিংবা তার স্বজনরা কেউ না আসায় পরিবারের অনুমতি নিয়ে খোকন সাহার মুখাগ্নির কাজটিও করেন মাকসুদুল আলম খন্দকার নিজেই। করোনা ভাইরাস শুধুমাত্র মানুষের স্বার্থপরতার দিকটি উন্মোচন করেনি, মাকসুদুল আলম খন্দকারের মতো কিছু পূর্ণাত্মাকেও খুঁজে পেতে সহযোগিতা করেছে। অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে শ্রদ্ধা আপনার জন্য।

নোট: লেখক মৃত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করলেও যোগফলে নামটি প্রকাশ করিনি।




এই বিভাগের আরও