টঙ্গীতে করোনা রোগী সন্দেহে হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে

মো. আনোয়ার হোসেন

02 May, 2020 09:56am


টঙ্গীতে করোনা রোগী সন্দেহে হাসপাতালে ঢুকতে দেয়নি অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাকে
আবেদা হাসপাতাল

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সন্দেহে শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ নামে অসুস্থ এক মুক্তিযোদ্ধাকে হাসপাতালেই ঢুকতে দেয়নি কর্তৃপক্ষ। করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখানোর পরও তিনি কোনও ধরনের সহানুভূতি ও চিকিৎসা সেবা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। টঙ্গী স্টেশন রোডের আবেদা মেমোরিয়াল (প্রাইভেট) হাসপাতালে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি ও টঙ্গী নতুন বাজার এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।

মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ শহীদুল্লাহর স্ত্রী গাজীপুর মহানগর মহিলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শিরিন শহীদ জানান, তার স্বামী গত কয়েক দিন যাবৎ সামান্য জ্বর ও মাথা ব্যথায় ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার তাকে টঙ্গী গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে পরীক্ষায় তার করোনা নেগেটিভ আসে। পরে তার প্রশ্রাব পরীক্ষায় ইনফেকশন ধরা পড়ে।

গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসাপত্র নিয়ে তাকে বাসায় নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাত এগারটায় হঠাৎ তার জ্বর ও মাথা ব্যথা বেড়ে গেলে তাকে প্রথমে টঙ্গী শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কোনও ডাক্তার না পেয়ে তাকে পাশেই আবেদা মেমোরিয়াল (প্রাইভেট) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর তার জ্বরের কথা শুনে হাসপাতালের গেটই খলেনি।

এসময় তার সাথে থাকা করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট দেখিয়ে বহু অনুরোধ করার পরও কোনও ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মী তার কাছেই যাননি। 

শিরিন শহীদ আরও বলেন, আমার স্বামীর অন্তত প্রেসারটা (রক্তচাপ) মেপে দেখার জন্য তাদের বহু অনুরোধ করেছি। কিন্তু তাদের একটুকুও মায়া হয়নি। কোনও ধরনের সহযোগিতা ও সহানুভূতি দেখায়নি। প্রায় ২ ঘণ্টা অপেক্ষা করে অবশেষে বাধ্য হয়ে তাকে বাসায় ফেরত নেওয়া হয়। 

তাকে উত্তরায় কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নেওয়া হলে করোনা পজেটিভ না থাকায় সাথে থাকা ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী বাসায় চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তবে তার অবস্থা আশংকাজনক এবং তার প্রচন্ড জ্বর ও মাথা ব্যথা রয়েছে বলে শিরিন শহীদ জানান।

যোগাযোগ করা হলে আবেদা হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাক্তার ইফতেখার আহমেদ সাগর বলেন, আমার হাসপাতালে এমন হওয়ার কথা নয়, আমি সকলকে পিপিইসহ সকল ধরনের সুরক্ষামূলক উপকরণ দিয়েছি। কেন এমন হলো আমি খবর নিচ্ছি।

অভিযোগ রয়েছে: স্থানীয় সোহেল সরকারের কাছ থেকে চুক্তিভিত্তিক ভাড়া নিয়ে আবেদা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ হাসপাতালটি পরিচালনা করে আসছেন। চলতি মাসসহ প্রায় এক কোটি ১০ লাখ ৩৯ হাজার  টাকা ভাড়া বকেয়া থাকায় এবং একাধিবার সময় নিয়েও টাকা পরিশোধ না করায় ভবন মালিক জেনারেটর রুমে তালা ঝুলিয়ে দেন এবং হাসপাতালে তালা লাগিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে টঙ্গী পূর্ব থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

পরে অনতিবিলম্বে বকেয়া ভাড়া পরিশোধ এবং ওই হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের অজুহাতে জেলা প্রসাশক বরাবর আবেদন করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে দেশের চলমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এবং করোনাসহ বিভিন্ন রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় প্রশাসন হাসপাতালটি খোলা রাখার নির্দেশ দেন। অথচ ওই হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদের উদাসীনতা এবং কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে এখানে কোন রোগীই চিকিৎসা সেবা পাচ্ছে না। ফলে স্থানীয় রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। 

এ খবর শুনে অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।



বিভাগ : হ-য-ব-র-ল