গাজীপুরে লিচুর বাম্পার ফলন

যোগফল প্রতিবেদক

13 May, 2020 08:13am


গাজীপুরে লিচুর বাম্পার ফলন
লিচু ফাইল ছবি

শিল্প অধুষ্যিত জেলা গাজীপুর। তবে মৌসুমি বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনেও গাজীপুরের খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। গাজীপুরে বাম্পার ফলন হওয়া মৌসুমি ফলের মধ্যে লিচু অন্যতম। সুসংবাদ হচ্ছে, ‘চলতি বছর গাজীপুরে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে।’ তবে করোনা পরিস্থিতি ও চলমান লকডাউনে লিচু বিক্রি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষীরা। যদিও লিচু বিক্রি ও পরিবহণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম।   

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাজীপুর উপ-পরিচালকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে গাজীপুরে এক হাজার ৪৪৪ হেক্টর জমিতে ২৬ হাজার ৮৮০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হয়েছিল [২.৪৭১ একরে এক হেক্টর, ১০০ শতাংশে এক একর]। চলতি বছর গাজীপুরে দেড় হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করেছে চাষীরা। 

আগামী এক মাসের মধ্যে (১৩ মে ১৩ জুন, ২০২০) গাজীপুরের বাগানগুলো থেকে লিচু তোলা ও বিক্রি হবে প্রায় ৩০ হাজার মেট্রিক টন [এক হাজার কেজিতে এক টন]। চলতি বছর গাজীপুরে কদমী, চায়না থ্রি, বোম্বাই ও দেশিয় উন্নত জাতের লিচু চাষ হয়েছে। লিচু বাগানগুলোতে ফুল আসার সাথে সাথে মধু সংগ্রহের জন্য ২ হাজার ৬১৩টি মউ বক্স স্থাপন করা হয়েছিল। এরমধ্যে বক্সগুলো থেকে ১৮ হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করেছে চাষীরা। এতে চাষীরা লিচু চাষের খরচ যেমন কিছুটা পুষিয়ে নিতে পেরেছেন তেমনি বাজারে বিশুদ্ধ মধুর মজুদ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গাজীপুর উপ-পরিচালক মো. মাহবুব আলম জানান, গত বছর শিলাবৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে লিচু চাষিরা ক্ষতিগ্রস্থ হন। তবে এবার অনুকূল আবহাওয়া এবং চাষীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা চাষীদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছেন। চলতি বছর লিচু গাছে পোকার উপদ্রব কিংবা রোগ বালাইয়ের কোন অভিযোগ নেই। লিচুর গাছ ও ফলের বিভিন্ন ধরনের ভেষজ গুণ রয়েছে। বিশেষ করে বোলতা, বিছে কামড়ালে লিচু গাছের পাতার রস ব্যবহারে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া কাঁশি, পেটব্যাথা, টিউমার এবং গ্ল্যান্ডের বৃদ্ধি দমনে লিচু ফল কার্যকর। লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু মৌসুমি ফল। 

শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী এলাকার লিচু চাষী কবির হোসেন মৃধা জানান, তিনি ২০ বিঘা জমিতে বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ করেছেন। বিশেষ করে তিন বিঘা জমিতে কদমী জাতের লিচু চাষ করছেন। গত বছর কদমী এক একটি লিচু পাইকারি দরে ৬-৮ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। ২০১৯ সালে তিনি ১২ লাখ টাকার লিচু বিক্রি করেছেন। তবে চলতি বছর লিচুর বাম্পার ফলন হলেও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ ও অবরুদ্ধ বা লকডাউনের কারণে লিচু পাইকারদের আনাগোনা কমে গেছে। চলতি বছর তার বাগানের লিচুর দাম উঠেছে ৮ লাখ টাকা। লকডাউনের কারণে পাইকারদের আনাগোনা কমে গেছে বলে তার ধারণা।

এ ব্যাপারে গাজীপুর জেলা প্রশাসক এস.এম তরিকুল ইসলাম জানান, লিচু চাষী ও পাইকারদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হবে। লিচু বিক্রি ও পরিবহণ কোথাও যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় এ ব্যাপারে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।    

শ্রীপুর উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সাঈদ চৌধুরী জানান, কিছু পাইকার চাষীদের ভুল বুঝিয়ে কখনও আবার ঠকিয়ে সস্তায় বিভিন্ন জাতের মৌসুমি ফল কিনে থাকে। অথচ এসব ফল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরাঞ্চলে পাইকাররা উচ্চমূল্যেতে বিক্রি করছে। বাজারে সবজিসহ বিভিন্ন ধরনের নিত্যপণ্যের মজুদ স্বাভাবিক আছে। পণ্য পরিবহণেও বাধা নেই। সুতরাং, লিচু চাষীদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। গাছে লিচু পাকলে পাইকাররা আসবেই। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ অজুহাতে লিচু চাষিদের কেউ যাতে ঠকাতে না পারে এ ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।  

অন্যদিকে, কাপাসিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমন কুমার বাসক বলেন, উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের রাণীগঞ্জ, রাওনাট, নাশেরা, দেলগাঁও এলাকায় লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এ ছাড়া রায়েদ ও তরগাঁও ইউনিয়নের কিছু কিছু এলাকায় লিচু চাষ করেছে চাষিরা। লিচু চাষীরা সাধারণত লিচুর মুকুল ধরার কিছুদিন পরে পাইকারদের কাছ থেকে দাদন (আগাম টাকা) নিয়ে থাকে। এ কারণে লিচু বিক্রি ও পরিবহণে সমস্যা হওয়ার কথা না। 


বিভাগ : খেতখামার