শ্রীপুরে মসজিদে দান করা জমি দখলচেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

যোগফল প্রতিবেদক

21 May, 2020 04:37pm


শ্রীপুরে মসজিদে দান করা জমি দখলচেষ্টা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
ছবি সংগৃহিত

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখন্ড গ্রামের (আনসার রোড সংলগ্ন) ‘হাসেম আলী বাড়ি বাইতুল আমান জামে মসজিদ’ এর জমি বেদখল চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে। ওই অভিযোগে সই করে লিখিতভাবে সমর্থন জানিয়েছেন বিভিন্ন বয়সী ওই সমাজের ১৪৭ জন ব্যক্তি। 

রোববার [১৭ মে ২০২০] অভিযুক্তদের নামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি 'গিয়াস উদ্দিন আরাফাত' শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ওই অভিযোগে অভিযুক্তরা হলেন, পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখন্ড গ্রামের মৃত ইদ্রিস আলীর সন্তা আজিজুল ইসলাম, ফজলুল হক, জাকিরুল ইসলাম ও হামিদুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মৃত হাশেম আলী পৌর এলাকার ৭ নম্বর  কেওয়া মৌজার এসএ ২৩৮ নম্বর খতিয়ানে উল্লেখিত মসজিদের  ওয়াকফ (দান) করেন। ২০০২ সালে মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু করার সময় অভিযুক্তরা বাধা বিঘœ সৃষ্টি করে মসজিদের সামনের অংশ (মিম্বর) ভাঙচুর করে। পরে ইমামের থাকার ঘরে আগুন জ্বালিয়ে পড়িয়ে দেয়। পরে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকে বিষয়টি মীমাংসা হওয়ায় থানা পর্যন্ত অভিযোগ করা হয়নি।

এই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে হাসেম আলী ঘটনাস্থলে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।পরে ওই শোক সইতে না পেরে কিছুদিন পর মৃত্যুবরণ করেন।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান উমেদ আলী যোগফলকে জানিয়েছেন, আমার পিতা হাসেম আলী মসজিদে জমি ওয়াকফ (দান) করেছেন। উক্ত জমি বেদখল করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ অভিযুক্তরা পায়তারা চালাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় মসজিদ নির্মাণ কাজে আমরা জমে থাকা গাছ কাটতে গেলে অভিযুক্তরা আমাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে।

মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি গিয়াস উদ্দিন যোগফলকে জানিয়েছেন, রোববার [১০ মে ২০২০] তারিখে মসজিদের জমিতে থাকা গাছপালা কেটে মসজিদ নির্মাণ কাজে টাকা খরচ করবো এমন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গাছ কাটতে গেলে অভিযুক্তরা দা, লাঠি ও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অভিযুক্তরা আমাদের উপর হামলা করার চেষ্টা করে। এছাড়াও মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আমরা এমন জঘন্য কাজের বিচার দাবি করছি। 

অভিযুক্ত আজিজুল ইসলাম যোগফলকে জানিয়েছেন, ‘তাদের সাথে আমাদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে। আমরাও মুসলমান, মসজিদের কাজে বাঁধা দেওয়ার প্রশ্নই আসেনা। বর্তমানেও মসজিদের কাজ চলমান রয়েছে। এ অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন'। ১৪৭ জনের গণ সই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তারা কিভাবে সই করেছে তা আমার জানা নেই।

মসজিদের কাজে বাঁধা প্রদান অথবা ভাঙচুরের বিষয়টিও জানা নেই। আমার অন্য ভাইয়েরাও এসবে জড়িত না। 

এব্যাপারে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানিয়েছেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

স্মরণীয়: মসজিদের নির্মাণ কাজে বাঁধা দেওয়া ও পূর্বে মসজিদ ভাঙচুরের প্রতিবাদে বর্তমানে এলাকাবাসী ফুঁসে উঠেছে। তাদের বিচারের দাবিতে ১৪৭ জনের লিখিত ওই অভিযোগ তাই প্রমাণ করে। এলাকার সচেতনরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।


বিভাগ : উপজীব্য


এই বিভাগের আরও