প্রার্থী মিডিয়ার মতো হবে, না মিডিয়া প্রার্থীর মতো?

আসাদুল্লাহ বাদল

24 May, 2020 09:17pm


প্রার্থী মিডিয়ার মতো হবে, না মিডিয়া প্রার্থীর মতো?
আসাদুল্লাহ বাদল

একজন প্রার্থী কখন ঘুম থেকে জাগবে, কখন সজাগ হবে, পরে কখন গণসংযোগ করবে এরপর মিডিয়ার সাথে প্রয়োজনীয় কথা বলবে এটি মিডিয়ার সুবিধার কারণে মিডিয়া নাক গলায়। এমন কি প্রার্থী ব্যালট পেপাপ ব্যালট বাক্সে ফেলে দেওয়ার পর কোন মিডিয়াকর্মী ঘটনাস্থলে হাজির হওয়ার কারণে প্রার্থীকে পূনরায় ভোট দানের দৃশ্যে অভিনয় করতে হতে পারে। এহেন অভিনয় হয়তো মিডিয়াকর্মীর চাকরির জন্য সুবিধা। কিন্তু নৈতিকতা কতটা এহেন আচরণকে পারমিট করে? 
মিডিয়া তাদের এজেণ্ডার কারণে কোন প্রার্থীকে জিতিয়ে আনার জন্য প্রচারণা চালাতে পারে। কিন্তু এই প্রচারণার ধরণ কি হবে? প্রার্থীকে মিডিয়া কি কি পরামর্শ দিতে পারে? প্রার্থী শশুর বাড়িতে নতুনত্বের মতো মুখে রুমাল এটে অনেক কিছু হজম করে। প্রচারণা থেকে পিছে পড়তে চায় না। কিন্তু সহনীয়তার মাত্রা কি হবে। প্রার্থী যদি অনৈতিক প্রচার না চায় তাহলে মিডিয়া কি জোর করে প্রচারণা চালাবে? কোন মিডিয়াকর্মী কি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে বলতে পারে আপনি বিজয়ী হউন এটি আমি চাই। ফলে আমি যেভাবে বলি আপনি সেভাবে অভিনয় করেন।
টকশোতে টেলিভিশনের নিজের সেটআপ চিন্তা করে প্রার্থীর জন্য মেকআপের ব্যবস্থা থাকতে পারে। কিন্তু মাঠে ময়দানে পরিশ্রমী প্রার্থীর চুলের সৃজনশীরতার প্রশ্ন অবান্তর। কাকে কোন প্রশ্নবানে জর্জরিত করা হবে আর কাকে সোজাসাপটা প্রশ্ন করে পার করে দেওয়া হবে এই রিহার্সেল তখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংবাদকর্মীরা ভোটার হলে প্রার্থীর নিকট জবাবদিহির প্রশ্নে কোন চাহিদার কথা বলতে পারে। কিন্তু প্রাথী কি কোন চাহিদা পূরণ করা হবে ওই বিষয় নিশ্চিত করতে পারে? সাংবাদিকরা কি সরাসরি ব্যক্তি লাভের জন্য কোন প্রার্থীর নিকট নির্বাচন চলাকাালীন সময়ে কোন আবদার করতে পারে। বিশেষত স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জিতে একজন মেয়র বা উপজেলা চেয়ারম্যান একজন সাংবাদিককে কি কি সুবিধা দিতে পারবে? লাইনে দাঁড়িয়ে রাজনৈতিক দর্শন প্রচারের আহবান মোটেও শোভনীয় নয়। ঘোষণা দিয়ে বলছি যোগফল কোন মতবাদ প্রচেিরর মাধ্যম নয়। কোন শেণি মাধ্যম নয়। নিতান্তই গণমাধ্যম। যোগফলের একটি আধেয় বা কনটেক্সট আছে। ওই আধেয় ইতোপূর্বে প্রচার করা হয়েছে।
মিডিয়াকর্মী কোন প্রার্থীকে রুটিন বেঁধে দিতে পারে কি না? বরং মিডিয়াকর্মীকে প্রার্থী একটি রুটিন বেঁধে দিতে পারে। মিডিয়াকর্মীর বেঁধে দেওয়া রুটিন মতো প্রার্থী চললে টাইম ব্যালেন্স বা টাইম মেনেজম্যান্ট কি হবে? ভবিষতে ওই প্রার্থী ওই মিডিয়াকর্মী সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করবে? না, পরে যা ভাবে ভাবুক, আপাতত যা করার তা করছি!
 
 
নির্বাচন হচ্ছে বিদ্যমান অবস্থাকে টিকিয়ে রাখার জন্য একটি ব্যবস্থা। ওই নির্বাচন অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটতে থাকে নানাবিধ ঘটনা। এসব ঘটনায় মিডিয়াও একটি অনুঘটকের ভূমিকা পালন করে। প্রার্থী কিভাবে কোলাকুলি করবে, কিভাবে ভোট চাইবে, কোন পোশাকে মাঠে থাকবে, কোন পোশাকে ড্রয়িঙ রুমে থাকবে এসব যতটা রাজনৈতিক দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির ব্যক্তিরা ঠিক করে ততটা উল্টা পাল্টা করে মিডিয়া। টেলিভিশনে কোন রঙের কাপড় বেশি দেখা যাবে, টিভির কোথায় আলো থাকলে প্রার্থীকে যুবক দেখা যাবে, এমনসব রঙ চঙের বিষয়েও মিডিয়া হস্তক্ষেপ করে। মিডিয়ার এসব হস্তক্ষেপের কারণে একবার তোলা পতাকা নামিয়ে আবার তোলা হয়। ফটোসেশনের জন্য ক্যামেরা দিকে তাকিয়ে থাকতে বলা হয়। ছো মেরে পুরস্কার নেওয়ার একটি প্রবণতা আমাদের আছে। একসময় পুরস্কার বিতরণ শিক্ষকরা নিজেই করতো। এখন নেতা ছাড়া পুরস্কার বিতরণ করলে শিক্ষকের চাকরি থাকবে কি না এই প্রশ্ন বিবেচনায় রাখতে হবে।