দেশে ভিন্ন আমেজের ইদ

যোগফল প্রতিবেদক

25 May, 2020 10:08am


দেশে ভিন্ন আমেজের ইদ
ছবি : সংগৃহীত

করোনাভাইরাসের মহামারির মধ্যেই বাংলাদেশে সোমবার [২৫ মে ২০২০] পালিত হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ইদ-উল-ফিতর। মসজিদগুলোতে অনুষ্ঠিত হয়েছে ইদের নামাজ।

তবে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে অন্য বছরের তুলনায় এবার ইদের আয়োজন ভিন্ন।

বাংলাদেশে ভেদাভেদ ভুলে ইদের জামাতের পর কোলাকুলি আর স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের বাড়িতে বেড়ানোর মধ্য দিয়ে ইদের আনন্দ ভাগাভাগির রেওয়াজ থাকলেও এবছর থাকছে না তেমন কোন আয়োজন। এর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে ইদের নামাজে ৩ ফুট দূরত্ব রাখার পরামর্শ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

নিষেধাজ্ঞা আসে কোলাকুলি করার ক্ষেত্রেও। ইদ হলেও সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

ঢাকার মিরপুর এবং আশেপাশের এলাকাগুলোর বেশ কয়েকটি মসজিদে দেখা যায় যে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে মসজিদের ভেতরে জায়গা না হওয়ার কারণে অনেকেই রাস্তায় বসে ইদের নামাজ আদায় করেছেন।

কাউকে কোলাকুলি করতে দেখা যায়নি। প্রায় সবাই মাস্ক ব্যবহার করছেন।

তবে একটি জামাত শেষে অন্য আর একটি জামাতের জন্য মুসল্লিদের মসজিদ থেকে বের হওয়া এবং প্রবেশের সময় বেশ ভিড় তৈরি হতে দেখা গেছে।

এর আগে রোববার [২৪ মে ২০২০] সন্ধ্যায়, ইদ-উল-ফিতর উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবাইকে ঘরে থেকে ইদ উদযাপনের আহ্বান জানান। সাথে সব ধরনের স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, "এ বছর আমরা সশরীরে পরস্পরের সাথে মিলিত হতে বা ইদের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে না পারলেও টেলিফোন বা ভার্চুয়াল মাধ্যমে আত্মীয়স্বজনের খোঁজখবর নেব"।

এর আগে ইদ-উল-ফিতরকে সামনে রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যেসব নির্দেশনা মানার পরামর্শ দেওয় সেগুলো হচ্ছে:

সব ক্ষেত্রে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে

কমপক্ষে ৩ ফুট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ইদের জামাতে অংশ নিতে হবে

ইদের কোলাকুলি থেকে বিরত থাকতে হবে

ইদের আনন্দ উচ্ছলতার কারণে শিশুরা যাতে ঝুঁকির মুখে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে

অবশ্যই শিশুসহ সবাইকে নিয়মিত মুখে মাস্ক পড়তে হবে

বাইরে থেকে ঘরে ফিরে সাবান-পানি দিয়ে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুতে হবে

বাইরের খোলা খাবার খাওয়া যাবে না

নিজের হাতের প্রতি সজাগ থাকতে হবে। অযথা নাক-মুখ-চোখে হাত দেওয়া যাবে না। শিশুদের এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে।

যারা এরই মধ্যে আক্রান্ত তাদের আইসোলেশনের নিয়ম পালন করতে হবে।

পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে। পানি ও তরল খাবার বেশি খেতে হবে।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু, কমলা, মাল্টা, পেয়ারা ও টাটকা শাকসবজি বেশি করে খেতে হবে।

জিঙ্ক সমৃদ্ধ খাবার যেমন ডিম, মাংস, কুমড়ো ও লাউয়ের বীজ, মাশরুম, রসুন, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার বেশি খেতে হবে।

হালকা ব্যায়াম করতে হবে।


বিভাগ : শিকড়


এই বিভাগের আরও