সিরাজগঞ্জে ২০৩টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন এসিল্যাণ্ড আনিসুর রহমান

সেলিম শিকদার

22 Jan, 2020 02:44pm


সিরাজগঞ্জে ২০৩টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন এসিল্যাণ্ড আনিসুর রহমান

সিরাজগঞ্জে দায়িত্ব পালনের সময় গত ২২ মাসে ২০৩টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করে রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুর রহমান। এসডিজির লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম বাল্যবিয়ে বন্ধ। তার এ অর্জন ইতিবাচকভাবে দেখছে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসন। 

এজন্য ২০১৯ খ্রিস্টাব্দের ২৩ জুন আন্তর্জাতিক পাবলিক সার্ভিস দিবসে সদরের এই সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বাল্যবিবাহ বন্ধে অবদান রাখায় বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন সাবেক জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দীকা।

আনিসুর রহমান যেখানেই দায়িত্বে ছিলেন সেখানেই নিষ্ঠার সাথে কাজ করে গেছেন। 

গত ২০১৪ সালের আগস্ট থেকে ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যশোরে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় তার ভেজাল বিরোধী অভিযানে সমগ্র দক্ষিণ বঙ্গে সাড়া পড়ে যায়। এজন্য যশোরের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের মুখে এখনও ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের প্রশংসা শুনা যায়। 

গত ২০১৭ সালের শেষ দিকে বদলি হয়ে যমুনা নদী বিধৌত সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলায়। তিনি সেখানে সহকারী কমিশনার (ভূমি) এর পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। এরপর এখানে অনিয়মের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন তিনি। দুইটি ইলিশ প্রজনন মৌসুমে তিনি নিয়ম ভাঙা ১২৪ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করেন। 

এছাড়া এ বছর মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে সিরাজগঞ্জ সদরে ১১৬ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করে ইলিশ রক্ষায় অবদান রাখেন। যা এখনও চৌহালীবাসীর মুখে মুখে।

চৌহালী উপজেলা থেকে সকল পাবলিক পরীক্ষায় নকল একেবারে দূর করেছিলেন। শুধু তাই নয় চৌহালী উপজেলায় কর্মকালীন ৩৩ সপ্তাহে ৩৪টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন। এরপর বদলি হয়ে আসেন সদর উপজেলায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে। এখানে সাড়ে ১২ মাসে ১৬৯টি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেন। 

ইতিমধ্যে একদিনে ৭টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে অনবদ্য রেকর্ড সৃষ্টি করেন। এরমধ্যে পৌরসভায় ৩২টি, ইউনিয়ন পর্যায়ে খোকশাবাড়ীতে ১১টি, সয়দাবাদে ১৬টি, কালিয়া হরিপুরে ১৯টি, বাগবাটিতে ২৬টি, রতনকান্দিতে ২৯টি, বহুলীতে ১৩টি, শিয়ালকোলে ১০টি, ছোনগাছায় ১০টি, কাওয়াখোলায় ৩টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়।

এদের মধ্যে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষায় ৪ জন, চতুর্থ শ্রেণির ২ জন, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৬ জন, ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ১০ জন, সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২১ জন, অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৫৮ জন, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ৩৭ জন, দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ২৭ জন, একাদশ  শ্রেণির ৪ জন। 

সিরাজগঞ্জ সদরে ২০১৯ সালে জানুয়ারি মাসে ২টি, ফেব্রয়ারি মাসে ২টি, মার্চ মাসে ১০টি, এপ্রিল মাসে ২২টি, মে মাসে ৮টি, জুন মাসে ১৫টি, জুলাই মাসে ১৭টি, আগস্ট মাসে ২৭টি, সেপ্টেম্বর মাসে ২৩টি, অক্টোবর মাসে ১৭টি, নভেম্বর মাসে ১৬টি, ডিসেম্বর মাসে ৫টি এবং জানুয়ারি ২০২০ মাসে ৫ টি বাল্যবিবাহ বন্ধ করেন এসিল্যান্ড আনিসুর রহমান।

এ সময়ে বাল্যবিবাহ বন্ধে সদর উপজেলায় ১২ লাখ ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় ও ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। 

অনেক ক্ষেত্রে বর ও কনের বাবার মুচলেকা নেওয়া হয়। তিনি চৌহালী উপজেলায় ৩৪টি ও সদর উপজেলায় ১৬৯টিসহ মোট ২০৩টি বাল্যবিবাহ নিজে উপস্থিত হয়ে বন্ধ করেছেন। তিনি বাল্যবিবাহ বন্ধে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে মা-বাবাদের বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে সচেতন করেন।

সিরাজগঞ্জ সদরের প্রায় সকল উচ্চ বিদ্যালয় ও মাদরাসার শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, মাদক ও জুয়া সম্পর্কে সচেতন করেন এবং সামাজিক এ ব্যাধিগুলো দূর করার জন্য কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহযোগিতা চান। 

এছাড়া বাল্যবিবাহ থেকে রক্ষা পাওয়া অসহায় গরীব ৩ শিক্ষার্থী পড়াশুনার দায়িত্ব নিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান।


বিভাগ : উন্নয়ন


এই বিভাগের আরও