ত্রাণের মডেল টোকের ‘মমতাজ’ শিক্ষার্থীদের সহায়তা নিয়ে আসছেন অচিরেই

আসাদুল্লাহ বাদল

31 May, 2020 09:09pm


ত্রাণের মডেল টোকের ‘মমতাজ’ শিক্ষার্থীদের সহায়তা নিয়ে আসছেন অচিরেই
ত্রাণ বিতরণ সময়ে

গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার টোকে ‘মানবতার ঘর’ এর উদ্যোগে তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬০ জন শিক্ষার্থীর পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হয়েছে। 

রোববার [৩১ মে ২০২০] দুপুরে উপজেলা টোক ইউনিয়নের কেন্দুয়াব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভেঙ্গুরদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উজলী বড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের পরিবারকে এক কেজি তেল, এক কেজি বেগুন, দুই কেজি আলু, মিষ্টি কুমড়া, চালকুমড়া, এক কেজি ডাল দেওয়া হয়।

দুই দিন আগে আরও ৬০টি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইদের আগে এক হাজার ৪০০ পরিবারকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগে। এসব সামগ্রী নেওয়া দেওয়ার সময় শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়েছে। সকলেই মুখে মাস্ক পড়ে এসেছিলেন।

খাদ্য সামগ্রী দেওয়ার সময় হাজির ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মো. আমানত হোসেন খান, মানবতা ঘরের প্রধান উদ্যোক্তা ও উজলী দিঘীরপাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মমতাজ উদ্দিন, প্রধান শিক্ষক আলমগীর হোসেন, কানিজ ফাতেমা, হেলেনা বেগম, রফিক মিয়া, মাসুম বিল্লাহ, আসাদুল্লাহ মাসুম।

টোক ইউনিয়নের ২২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অসহায় শিক্ষার্থীদের পর্যায়ক্রমে সহায়তা প্রদান করা হবে বলে যোগফলকে জানিয়েছেন মমতাজ। আলাপকালে তিনি পরে কিন্টারগার্টেন (কেজি) স্কুলের শিক্ষক ও কর্মচারি ও শিক্ষার্থীদেরও সহায়তা করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।


  1. জমানো ত্রাণ সামগ্রী

করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর কম আয়ের মানুষজন অসহায় হয়ে পড়ে। তাদের সহায়তা করতে মমতাজ একটি ঘর নিয়ে সেখানে একটি সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছিলেন। এতেই তিনি সফলতা পেয়েছেন। এখন পর্যন্ত কাউকে অনুরোধ করে এই ঘরে ত্রাণ নিতে হয়নি। স্বেচ্ছায় সকলেই জমা দিয়েছেন বিভিন্ন সামগ্রী। জমানো ওই সামগ্রী যাদের দরকার, তাদের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন। দেশে ত্রাণ বিতরণে যখন নানা অনিয়মের প্রশ্ন ওঠছে মমতাজ তখন বিশেষ মডেল হয়ে ওঠেছেন।

১৫ বছর যাবত শিক্ষকতা করছেন মমতাজ। এলাকার মানুষের সহায়তা বরাবরই তিনি সিদ্ধ হস্ত। ফলে তাকে কোথাও বদলি হতে হয়নি। অনেকের চাহিদা এখানেই তিনি শিক্ষকতা করলে অফিসের দায়িত্বের বাইরে মানবিক কাজ করার সুবিধা ভোগ করবে অনেকে।

খুব বেশি প্রচার তিনি আশা করেন না। ফেসবুকের মাধ্যমেই চলছে কার্যক্রম। করোনাকালে তার নতুন উপলদ্ধি জন্মেছে কাজের অভিজ্ঞতা থেকে। যোগফলের নিকট তিনি সেই অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করেন।

কাপাসিয়া উপজেলার ১১ ইউনিয়নে তার কার্যক্রম গড়ে তুলতে চান। এটি করোনা কেন্দ্রিক সহায়তা নয়। একেবারেই অভিনব আইডিয়া তার। যোগফলের তরফ থেকে তার এই মহতী কাজের জন্য আগাম অভিনন্দন। তার সঙ্গে শরিক হওয়ার ইচ্ছা করলেই এই খবরটি পড়ে নিজেকে তৈরি করতে পারেন। 

তিনি  উপজেলার সব ইউনিয়নে সাধারণ গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বইয়ের ঘর গড়ে তুলতে চান। যাদের পড়া শেষ হবে, তারা পুরাতন বই জমা দিবেন ওই ঘরে। যারা আর্থিক অসঙ্গিতর কারণে বইপত্র জোগাড় করতে সমস্যা, তারা সেখান থেকে বই নিয়ে পড়তে পারবেন। এই জন্য কারও টাকাপয়সা খরচ করতে হবে না। স্কুল থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য এই উদ্যোগ নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন মমতাজ উদ্দিন।

আশা করা যায় দশের মঙ্গলের জন্য তার শ্রম সার্থক হয়ে ওঠবে। তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন এই মোবাইল ফোন নম্বরে ০১৭১৬৫১৩০০৩



এই বিভাগের আরও