মোস্ট ওয়েলকাম সোহেল তাজ

আসাদুল্লাহ বাদল

11 Jun, 2020 08:56pm


মোস্ট ওয়েলকাম সোহেল তাজ
ছবি : সংগৃহীত

মোস্ট ওয়েলকাম সোহেল তাজ

মোস্ট ওয়েলকাম সোহেল তাজ। দেশের রাজনীতিতে যারা নানা কারণে সোহেল তাজকে প্রয়োজন মনে করে তাদের পক্ষ থেকে এই স্বাগত। সোহেল তাজের পুরো নাম তানজিম আহমদ সোহেল তাজ। তিনি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সন্তান।

যদিও সোহেল তাজ রাজনীতিতে ফিরছেন বলে স্পষ্ট কোন বার্তা দেননি। বরং ছয় মাস আগে তিনি বোনের সাথেই (রিমির সাথে) কাজ করবেন বলে জানিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল তিনটায় তার ফেসবুক পেইজে একটি পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন অনুযায়ী তিনি আগামি ইদের পর বিশেষত যুব সমাজের জন্য কিছু করা যায় কি না এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন কি না। এতে মোটেও স্পষ্ট নয় সোহেল তাজ রাজনীতিতে ফিরবেন কি না। তবু আশাবাদীদের আশা জিইয়ে থাকুক। রাজনীতি না করে সামাজিক কাজ করলেও সোহেল তাজ জয়ী হবেন এমন আশা অনেকের।

উল্লেখ্য, সোহেল তাজের একটি অনুসারী গ্রুপ আছে যারা স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন। রাজনীতিতে সৎ লোকের টিকে থাকার আশা করেন তারা। সোহেল তাজ প্রথম ২০০১ খ্রিস্টাব্দে কাপাসিয়া আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তখন ওই আসনের এমপি ছিলেন সোহেল তাজের চাচা আফসার উদ্দীন আহমদ খান। স্থানীয় রাজনীতিতে গ্রæপিং এর ফলে আফসার খান বাদ পড়েন। পরে ২০০৮ খ্রিস্টাব্দে সাংসদ নির্বাচিত হয়ে ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ৬ জানুয়ারি গঠিত সরকারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান সোহেল। মাত্র ছয় মাসের মাথায় তিনি মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগ করেন। পরে জাতীয় সংসদ থেকেও পদত্যাগ করেন। কিন্তু পদত্যাগটি স্বশরীরে না হওয়ায় গৃহিত হয়নি। পদত্যাগ নিশ্চিত করণের লক্ষে পরে তিনি সশরীরে পদত্যাগ করেন।

সোহেল তাজের মন্ত্রীসভা থেকে পদত্যাগের বিষয়ে কোন প্রজ্ঞাপনের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বরং তার ব্যাংক একাউন্টে বেতন ভাতা জমা হতে থাকে। এটি গণমাধ্যমে প্রচার হওয়ার পর সোহেল তাজ ব্যাংক একাউন্ট থেকে সরকারের টাকা ফেরতের সিদ্ধান্ত নেন।

কাপাসিয়া আসনে আওয়ামীলীগের টিকেটে ২০১২ খ্রিস্টাব্দের ৩০ সেপ্টেম্বর উপনির্বাচনে সাংসদ নির্বাচিত হন সোহেল তাজের বোন সিমিন হোসেন রিমি। রিমি পরে ২০১৪ খ্রিস্টাব্দের ৫ জানুয়ারি পুনরায় সাংসদ নির্বাচিত হন।

সম্প্রতি সোহেল তাজ কাপাসিয়া ঘন ঘন আসা যাওয়া করার ফলে আবার তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হচ্ছেন বলে অনেকে ধারণা করেছিলেন। কিন্তু তিনি বোনের সাথেই কাজ করবেন বলায় আগ্রহীরা কিছুটা হতাশ হন। আওয়ামীলীগের গত জাতীয় কাউন্সিলে যোগদান করেছিলেন সোহেল তাজ। মিডিয়ায় আলোচনা চালু হয়েছিল তিনি দলে গুরুত্বপূর্ণ পদ পাচ্ছেন। কিন্তু পাননি কোন পদ। আলোচনাকালে সোহেল তাজ কোন মন্তব্য না করলেও পরে তার ফেসবুক পেইজে মন্তব্য করেন, তিনি পদের জন্য কাউন্সিলে যোগদান করেন নি!

সব ছাপিয়ে সোহেল দেশের রাজনীতি বা সামাজিক যেকোন কাজে যোগদান করলে সত্যিই একটি পজিটিভ ধারণা উন্নতি লাভ করতে পারে।

সোহেল তাজের ছেড়ে দেওয়া আসনে সম্প্রতি আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন তার ফুফাতো ভাই আলম আহমদ। সোহেল তাজ রাজনীতিতে ফিরলে বোন ও মামাতো ভাইয়ের প্রতিযোগিতাও শেষ হয়ে যেতে পারে বলে অনেকের ধারণা। কিন্তু কাপাসিয়ায় কৃষক লীগের ইফতারে হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ।



এই বিভাগের আরও