ধীরাশ্রম নামেই স্টেশন

আসাদুল্লাহ বাদল

26 Jan, 2020 09:02am


ধীরাশ্রম নামেই স্টেশন
ধীরাশ্রম স্টেশন

ধীরাশ্রম রেল স্টেশন ঢাকা বিমান বন্দর স্টেশনের আগে নির্মিত হয়ে এখনও চালু আছে। কিন্তু কমিউটার, ডেমু ও তুরাগ ছাড়া আর কোন ট্রেনে এই স্টেশনের যাত্রীরা রেলে চড়ার সুযোগ পায় না। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার অসংখ্য মানুষ প্রতিনিয়তই ঢাকা আসা-যাওয়া করেন। কিন্তু রেল স্টেশনের পাশে বসবাস করেও রেলের সুযোগ পান না। কখনো কখনো সিগন্যালের কারণে কোন ট্রেন থামলে যারা জয়দেবপুরে নেমে অন্য যাবনাহনে ধীরাশ্রম বা আশেপাশে যেতে চান, তারা চান্স মতো নেমে পরতে পারেন।

গাজীপুর জেলার শ্রীপুরে ৫ বছর যাবত বন্ধ হয়ে আছে ইজ্জতপুর রেল স্টেশন। সম্প্রতি বন্ধ হয়েছে সাতখামাইর রেল স্টেশন। খুড়িয়ে চলে ভাওয়াল গাজীপুর ও ধীরাশ্রম স্টেশন। এমন চিত্র কেউ আশা করে না যাতে ধীরাশ্রমও সাতখামাইর বা ইজ্জতপুরের পথে হাঁটে।

জয়দেবপুর স্টেশনেও কোন কোন ট্রেন থামে না। শ্রীপুর স্টেশনে সব ট্রেন থামার জন্য স্থানীয়রা আন্দোলনে নেমেছে। কিন্তু অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। বন্ধ হওয়া দুটি স্টেশন চালু হবে কি না এই প্রশ্ন অনেকের। আর যে স্টেশনগুলো নামেই স্টেশন এগুলো মানুষের উপকারে আসবে কি না এটিও জানার অপেক্ষায়।

ধীরাশ্রম স্টেশনটি জয়দেবপুর স্টেশনের দক্ষিণে। এখানে ঢাকাগামি অসংখ্য যাত্রীর চাপ থাকলেও স্টেশনের চাহিদা বৃদ্ধি না করায় স্থানীয় জনগণের ইচ্ছা পূরণ হচ্ছে না। গত ইদের দুইদিন আগে ধীরাশ্রম স্টেশনে দুই যাত্রী নিহত হয়েছে আউটার সিগনালে। এর ছয় মাস আগে একজন কাটা পড়ে নিহত হয়েছে। যেখানে যাত্রী ওঠার সুযোগ পায় না, কিন্তু মানুষ মরার সুযোগ থাকে এটি (দুর্ঘটনা) বন্ধ করা জরুরি। কি কারণে বারবার দুর্ঘটনা ঘটে এখানে, এটি কেউ জানতে পারে না। রেল স্টেশন দুর্ঘটনা মুক্ত থাকুক, স্টেশনের পরিবেশ স্বাভাবিক থাকুক এটি কামনা করেন স্টেশনের আশেপাশের বাসিন্দারা। খাজা সুজন একজন স্টেশন মাস্টার। তিনি চাকরি করছেন ১৯ বছর যাবত। রেল সম্পর্কে তার বিস্তর ধারণা থাকলেও রেল বর্ধিত সেবা না প্রদান করলে রেলের প্রতি জনগণের আগ্রহ কেবল আগ্রহই থেকে যাবে বলে মনে করেন। অফিসগামি মানুষ রেলের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে কিন্তু সব রেল না থামলে সর্বসাধারণের সুযোগ থাকে না।

ধীরাশ্রম স্টেশনের আশে পাশের জায়গা বেদলে। বেশিরভাগ দোকানপাট গড়ে ওঠেছে। স্টেশনে আগন্তুকরা বসে থাকে নিরাপত্তার বিষয় না দেখেই। ফলে দুর্ঘটানার মাত্রা বাড়ার একটা সুযোগ থাকে। রেল স্টেশন আড্ডার জায়গা নয় এটি বিস্তত করতে হবে জনমনে।

এখানে সিগন্যাল দেখানো হয় পতাকা তুলে। একাধিক ভবন পরিত্যক্ত। কর্মকর্তা কর্মচারিদের আবাসস্থলের কোন ব্যবস্থা নেই। পরিত্যক্ত ভবন ধসেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরিত্যক্ত ভবন ঘিরে অপরাধ প্রবণতাও থেকে যায়।

ধীরাশ্রমের বাসিন্দা রহম আলী (৭০) আশা করেন শেষ বয়সে হলেও নিয়মিত রেল থামবে ধীরাশ্রম স্টেশনে। কম খরচে যাতায়াত করতে পারবে মানুষ। কেবল সিগন্যাল দেওয়ার স্টেশন দরকার নাই বলে মনে করেন আছমা খাতুন (৪০)। এখানে (ধীরাশ্রম) ডিপো হবে বলে শুনছেন অনেকদিন যাবত। কিন্তু হচ্ছে না। কবে হবে এটিও জানেন না।

জয়দেবপুরের সন্নিকটে হলেও ধীরাশ্রম স্টেশন হতে পারে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের স্টেশন। শহরতলিতে এই স্টেশনকে সমৃদ্ধ করা হলে পুরাতন একটি স্টেশন বহুমুখি সেবা দিতে পারবে বলে ধারণা। ২৮ জুলাই ২০১৮।


বিভাগ : ফিচার