গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ

যোগফল রিপোর্ট

29 Jun, 2020 08:59pm


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ
ছবি : সংগৃহীত

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র স্বৈরশাসকদের নেতৃত্বে পরিচালিত দেশের সমস্যা নয়৷ গণতন্ত্র আছে এমন দেশগুলোতেও এই স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করেন জার্মানির রেডিয়ো ডয়চে ভেলে’র প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল৷

মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার কোনো বিলাসী পণ্য নয়৷ গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না৷ সুতরাং এই স্বাধীনতা যে রক্ষা হয় তা দেশগুলোকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে৷ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত দেশের একটি অন্যতম স্তম্ভ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা৷ কারণ, এটি থাকলে মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তা পায়৷ মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকলেই কেবল দুর্নীতির খবর প্রকাশ করা যায়, সম্ভব হলে প্রতিরোধও করা যায়৷ এছাড়া রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যায়, বাধাহীনভাবে তদন্ত চালানো যায় এবং গবেষণার ফল প্রকাশ করা যায়৷

হিটলারের হিসাব

নাৎসি আমল থেকে আমরা জার্মানরা স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব কতখানি, তা বুঝতে পেরেছি৷ কারণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার মাধ্যমেই  আডল্ফ হিটলার তাঁরধারাবাহিক সহিংসতা শুরু করেছিলেন৷

নাৎসি আমল আমাদের কী শিখিয়েছে? প্রথমত, সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের খবর প্রকাশ থেকে আমরা কখনও বিরত থাকতে পারি না, গ্রেপ্তার হওয়া আমাদের সহকর্মীদের মুক্তির দাবি থেকে সরে আসতে পারি না এবং যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের বাকস্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করা থেকে বিরত রাখতে বাধ্য করতে হবে৷

ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশ পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি ও রোমানিয়ায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে৷ সেখানে গণমাধ্যমবিরোধী আইন করা হচ্ছে, বিরোধী মতের সমর্থক বিচারকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে আর বিরুদ্ধ মতের অধিকারীদের মুখ বন্ধ রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে৷ সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এমন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কী করা যায়, ইইউ-কে তা ভাবতে হবে৷

চলতি বছর বিশ্বের ১৩ জন ব্লগার ও সিটিজেন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে৷ গতবছরের তুলনায় সংখ্যাটি প্রায় দ্বিগুন৷ হত্যার শিকার হওয়া এই ব্যক্তিরা অনেকক্ষেত্রে তাদের দেশের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার কয়েকটি সূত্রের একটি ছিলেন৷

ট্রাম্প ও গণমাধ্যম

সহিংস হামলাই সাংবাদিকদের জন্য একমাত্র হুমকি নয়৷ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুটিনের মতো রাজনীতিকরা জানেন, সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা৷ তাই তারা এই বিষয়টিতে আঘাতের চেষ্টা করেন৷ ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন গণমাধ্যমকে ‘নকল খবর' বলে ডাকেন তখন সেটি শুধুমাত্র তার মিথ্যাকে ঢাকার চেষ্টার চেয়েও বেশি কিছু৷ গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে ফেলার একটি অংশ এটি৷

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো খবরের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হতে হবে৷ এছাড়া সহকর্মীদের বেশি বেশি প্রশ্ন করতে হবে, আর ভুল হলে তা চেপে না রেখে স্বীকার করে নিতে হবে৷


বিভাগ : মুক্তমত