করোনাভাইরাস

নিয়মিত কোর্টের দাবিতে আরও জোরালো কর্মসূচি পালন করা হবে: মেহেদী

যোগফল প্রতিবেদক

01 Jul, 2020 06:59pm


নিয়মিত কোর্টের দাবিতে আরও জোরালো কর্মসূচি পালন করা হবে: মেহেদী
ছবি : সংগৃহীত

আইনজীবীরা যখন নিয়মিত আদালত চালুর আবেদন জানিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন, তখন সুপ্রীমকোর্টের রেজিস্ট্রার মো. আলী আকবর এর ৩০ জুনের সই করা একটি নোটিশে জানানো হয়েছে, ভার্চুয়াল কোর্ট একটি সাময়িক ব্যবস্থা। আপিল দায়ের করার নতুন করে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। 

এক সপ্তাহের মধ্যে সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণ ও ঢাকা বারে দুই দফা আইনজীবীরা সমাবেশ করে নিয়মিত আদালত চালুর জন্য মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে। বুধবার [১ জুলাই ২০২০] এই কর্মসূচি পালিত হয়। এই দিন পটুয়াখালী ও কুষ্টিয়ার সাধারণ আইনজীবীরাও একই কর্মসূচি পালন করেছে।


মঙ্গলবার [৩০ জুন ২০২০] গোপালগঞ্জ, বরিশাল, যশোহর জেলায় আইনজীবীরা কর্মসূচি পালন করেছে। দিনাজপুরেও একই রকম সমাবেশ হয়েছিল।

এ ব্যাপারে আইনজীবী রউফ খান বলেন, ‘অবস্থাদৃষ্টে এমন মনে হচ্ছে যে, আদালত খুলে দিলেই বাংলাদেশের ১৭ কোটি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করিবেন।’ তার সূত্র ধরে অ্যাডভোকেট সোহেল খান ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘তারা বেতন-ভাতা ইদ বোনাস দিয়ে কোরবানির গরু কিনবে, গোশত খাবে আর আইনজীবীরা চেয়ে চেয়ে দেখবে সুতরাং অনতিবিলম্বে ভার্চুয়াল কোর্ট বর্জনসহ কঠোর কর্মসূচি দিতে হবে।’ 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আইনজীবীদের জীবন জীবিকার স্বার্থে সুপ্রিমকোর্টসহ দেশের সব আদালতের নিয়মিত কোর্ট চালু করার দাবিতে সুপ্রীমকোর্ট প্রাঙ্গণে একটি সমাবেশ করে আদালত খুলে দেওয়ার দাবি জানানো হয়। 

মোমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী সাধারণ আইনজীবী পরিষদের আহ্বায়ক ও সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক। তিনি ঢাকা বারেরও সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দুই মেয়াদে কার্য নির্বাহি সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, ১৩ মার্চ থেকে সুপ্রিমকোর্ট ও ২৬ মার্চ থেকে দেশের সব আদালতের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। মার্চ মাসে মূলত আদালত চালু থাকলেও জরুরি মামলা ছাড়া বিশেষ কোন কাজ হয়নি। সেই হিসাবে ৪ মাস যাবত আইনজীবী ও তাদের সহকর্মীরা অবসর সময় পার করছেন।

এরমধ্যে সরকার ভার্চুয়াল বিচার ব্যবস্থা চালু করেছে। অধিকাংশ আইনজীবীর জমানো টাকা নেই। যারা আইনজীবীদের সঙ্গে কাজ করেন মোহরার হিসাবে, তারা কেউ সচ্ছল নয়। যারা আইনজীবীদের মামলা কম্পোজ করেন, ফাইল টানাটানি করেন, চেম্বার গুছিয়ে রাখেন, তারা সকলেই দুর্যোগে রয়েছেন।

হাজারও আসামি পলাতক, তারা আইনের আশ্রয় লাভের সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে ফেরারি জীবন যাপন করছেন।


এনআই অ্যাক্ট ছাড়া অন্য কোনো আইনে নতুন মামলা ফাইলিং হচ্ছে না। এ অবস্থায় আইনজীবীদের মাঝে মারাত্মক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। চলমান এনআই অ্যাক্টের মামলায় টাকা পরিশোধের শর্তে মামলা আপোস করা হয়। এমন হাজার হাজার মামলা আটকে গেছে। এসব মামলার ক্ষেত্রে নতুন আদেশ জরুরি।

থানায় মামলা দায়ের হলেও কোর্টে মামলা দায়ের হচ্ছে না। আবার হাজতি আসামি ছাড়া অন্যরা বিচার বঞ্চিত হচ্ছে। যৌতুকের মামলাসহ অনেক সিআর মামলা কোর্টে দায়ের। পারিবারিক ও দেনমোহরের মামলাও কোর্টে দায়ের হয়। এসব মামলা করতে না পেরে অনেকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

দেনমোহর ও ভরণ পোষণের মামলার কিস্তিতে টাকা পরিশোধ হয়। অনেকে কিস্তি না পেয়ে সন্তানসহ মানবেতর জীবন যাপন করছে। সাধারণত মাসিক কিস্তিতে টাকা পরিশোধ হয়ে থাকে। যৌতুকের মামলায়ও আদালতের সম্মতি সাপেক্ষে উভয় পক্ষ আপোস মীমাংসা করে দেনমোহর পরিশোধ করার প্রথা চালু আছে। এসব মামলা রয়েছে আদালতগুলোতে হাজার হাজার। মানি স্যুটসহ অনেক মামলা ঝুলে আছে। আবার প্রভাবশালীরা আদালত বন্ধ থাকার সুযোগে নানান ফায়দা নিচ্ছেন।


আইনজীবীরা অবিলম্বে শ্রম আদালত, বিদ্যুৎ আদালত, মোবাইল কোর্টের আপিলসহ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ৯৮, ১০০, ১০৭, ১৪৪ ও ১৪৫ ধারার কার্যক্রম চালু করতে রেগুলার আদালত চালু করা জরুরি।

ভার্চুয়াল কোর্ট হলেও যাবতীয় আয়োজনের জন্য আইনজীবী ও তাদের সহযোগীদের আদালত এলাকায় যেতেই হয়। ফাইল কেনা, কাগজ কেনা, ওকালতনামা, জামিননামা পরোয়ানা ফেরতসহ আরও অনেক কাগজপত্র আদালত এলাকায়ই পাওয়া যায়। মনিহারি দোকানে পাওয়া যায় না।

‘নিয়মিত আদালত চালু করাই সমাধান। যত নিয়ম দরকার, সব নিয়ম প্রয়োগ করে হলেও, এই মত আইনজীবী  মাহতাব হাসানের।

এ ব্যাপারে মোমতাজ উদ্দীন আহমদ মেহেদী যোগফলকে জানিয়েছেন, শুরুতেই ১৫-১৬টি বার ভার্চুয়াল আদালতে যেতে চায়নি। অবিলম্বে নিয়মিত আদালত চালু না হলে আগামী সপ্তাহে আরও জোরালো কর্মসূচি পালন করা হবে। দেশের অনেক বার থেকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


বিভাগ : উপজীব্য


এই বিভাগের আরও