পুলিশি হয়রানির প্রতিকার কি?

যোগফল রিপোর্ট

01 Jul, 2020 08:12pm


পুলিশি হয়রানির প্রতিকার কি?
ছবি প্রতীকী

যদি কোন ব্যক্তি কোন ফৌজদারি অপরাধ করে তবে সে যে পেশায় থাকুক না কেন তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালতে মামলা করা যায়। কিন্তু প্রত্যেক পেশার দায়িত্বশীল ব্যক্তি যদি তার পেশাগত দায়িত্ব পালন না করে তবে তার বিরুদ্ধে প্রতিকার কি? সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত ব্যক্তি যদি পেশাগত দায়িত্ব পালন না করে বা অবহেলা করে বা হয়রানি করে তাহলে সাধারণ জনগণ হিসেবে সে বিষয়ে প্রতিকার জানা অত্যন্ত জরুরি। এতে করে সাধারণ জনগণ তাদের অধিকার আদায়ে সফল হতে পারবে। আমরা জানবো পুলিশের অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে একজন সাধারণ মানুষের প্রতিকার।

বর্তমান করোনা সংকটের আগে জনগণ আদালত বা থানায় মামলা করতে পারতো, কিন্তু বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করার একমাত্র উপায় হলো থানা। কিন্তু এমন একটি অভিযোগ মাঝে মাঝে পাওয়া যায়, তা হলো থানায় বিভিন্ন কারণে মামলা নিতে চায় না। পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব হলো আমলযোগ্য অপরাধ সংক্রান্ত মামলা গ্রহণ করা, কিন্তু মামলা যদি গ্রহণ না করে তখন পুলিশের এমন অপেশাদার আচরণের বিরুদ্ধে সাধারণ জনগণের প্রতিকার কি?

দেশ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক কাজ করছে বাংলাদেশ পুলিশ। পুলিশের রয়েছে গৌরবময় সাফল্য ও ইতিহাস। বর্তমান পরিস্থিতিতে পুলিশ যে দায়িত্ব পালন করছে তা ব্যাপক প্রসংশনীয়। যত দিন যাচ্ছে পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা, আস্থা ও নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তারপরও কিছু কিছু পুলিশের অপেশাদার আচরণের কারণে পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় কিছু মুষ্টিমেয় পুলিশের বিরুদ্ধে অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকান্ডের অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশের ‍বিরুদ্ধে মামলায় দায়িত্বশীল আচরণ না করা, মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া, ঘুষ নেওয়া, পুলিশ হেফাজতে থাকাকালীন নির্যাতন, চাঁদা আদায় করা, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর হুমকি, প্রাণনাশের হুমকিসহ নানা ধরণের হয়রানির অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের এহেন অপেশাদার ও অনৈতিক আচরণের বিরুদ্ধে কি করা উচিত বা কোথায় অভিযোগ করবেন তা অনেকেই জানেন না। এক সময় মনে করা হতো পুলিশের অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার কোন সুযোগ নেই। অনেকে অভিযোগে কোন প্রতিকার পাওয়া যাবে না মনে করে অভিযোগে আগ্রহ দেখান না। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে ৪২ হাজার ৬৩২ জন পুলিশের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে কনস্টেবল থেকে উপ-পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার ৪২ হাজার ৪৭৬ জন, ইনপেক্টর পদমর্যাদার ১৪৫ জন এবং এএসপি থেকে তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার ১১ জন রয়েছেন।

আগে থেকেই পুলিশের অপেশাদার আচরণ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযোগের সুযোগ থাকলেও অভিযোগ প্রক্রিয়া আরও সহজ করার লক্ষ্য ২০১৭ সালের ১৩ নভেম্বরে পুলিশ হেডকোয়াটার্সে “আইজিপি কমপ্লেইন সেল” চালু করা হয়েছে। তখন থেকে জনগণ পুলিশের কোনো অপেশাদার ও অনৈতিক কর্মকানণ্ড সম্পর্কে সরাসরি, কুরিয়ার সার্ভিসে, ডাকযোগে, মোবাইলে বা ই-মেইলে অভিযোগ করতে পারে। এই কমপ্লেইন সেল দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। মোবাইলে অভিযোগের নম্বর: ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৫ ও ০১৭৬৯৬৯৩৫৩৬। ই-মেইলে অভিযোগের ঠিকানা: complain@police.gov.bd

এই সেল চালুর পর থেকে উক্ত সেল এ ২০১৭ সালে ৬১৯টি ও ২০১৮ সালে ১৩৭১টি ও ২০১৯ সালের আগস্ট পর্যন্ত এক হাজার ৫০৩টি অভিযোগ এসেছে।

গত ৩১ মে গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসাইন ও এসআই সাদেকুর রহমান শিরিরচালা গ্রামের সাহিদা আক্তারের নিকট থেকে চার লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন মর্মে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে দৈনিক যোগফলের সম্পাদক ও প্রকাশক অ্যাডভোকেট আসাদুল্লাহ বাদল, স্টাফ রিপোর্টার মো. মোজাহিদ ও রিপোর্টার রুকনুজ্জামান খানকে আসামি করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে সংবাদ অনুসন্ধানকালে মামলা দেয়। ওই মামলায় ভোক্তভোগী নারী সাহিদা আক্তার ও দৈনিক মুক্তবলাকার স্টাফ রিপোর্টার মিলন শেখকেও আসামি করা হয়েছে। আফজাল হোসাইন আরও অন্তত দুইটি ঘটনায় ঘুষ নিয়েছেন মর্মে যোগফলে সংবাদ ছাপা হয়েছিল।

সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘন করে দায়ের করা ওই মামলা নিয়ে সম্পাদক পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক ও প্রগতিশীল মুক্তচিন্তার বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলনে নেমেছেন।

পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও মামলার এজাহার পরিবর্তনের অভিযোগ করেছেন কারারুদ্ধ সাংবাদিকরা। তাদের পরিবারও সাহিদা আক্তারের ভিডিয়ো বক্তব্যসহ লিখিত অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি নিয়েছেন। তারা আদালত চালু হলে সুপ্রীমকোর্টে রিট করারও প্রস্তুতি নিয়েছেন।