বিদেশে না গিয়ে ভাঙ্গারী ব্যবসায় স্বাবলম্বী রিপন

আসাদুল্লাহ বাদল

26 Jan, 2020 02:42pm


বিদেশে না গিয়ে ভাঙ্গারী ব্যবসায় স্বাবলম্বী রিপন
রিপন

১৯৯৯ সালে এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে জামালপুরের মেলান্দহের বাসিন্দা রিপন মিয়া সিঙ্গাপুর যাওয়ার জন্য ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু এক আত্মীয়ের পরামর্শে সিদ্ধান্ত বদল করে গাজীপুরের টঙ্গীতে এসে ভাঙ্গারী ব্যবসা শুরু করেন তিনি। ব্যবসা করে সফল তিনি, স্বাবলম্বীও।

মাত্র ৫০ হাজার টাকা পুজি নিয়ে শুরু করেছিলেন ব্যবসা। এখন তার ব্যবসায় ১৫ জন শ্রমিক কাজ করে। নিজে দেখাশুনা করেন সব কাজ। শ্রমিকরা ৮ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা বেতন নেন। শ্রমিক হওয়ার চেয়ে শ্রমিক খাটিয়ে স্বাধীন ব্যবসা করে তিনি আনন্দিত।

আছিয়া ও মান্নান নামের দুই শ্রমিক সামান্য আপত্তির সুরে বলেন, ‘কাজের সন্ধানে এখানে যুক্ত হয়েছি। আরও নিরাপদ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা হলে ভাল হতো।’

কারণ খোলা মাঠে অধিকাংশ কাজ হয়। ফেরিওয়ালারা গৃহস্থালি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহ করে এখানে এনে বিক্রি করেন। অন্তত ২৫টি প্লাস্টিকের আইটেম সংগ্রহ করেন তারা। এর মধ্যে বোতলের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

প্লেট, জগ, মগ, বালতি কিছুই ফেলনা নয় বলে মন্তব্য রিপন মিয়ার। তিনি মনে করেন এসব জিনিসপত্র নষ্ট বা ভেঙে যাওয়ার পর যেখানে সেখানে ফেলে রাখলে পরিবেশ বিনাশের আশঙ্কা থাকে। আবার ভাঙা বা নষ্ট জিনিসের মাধ্যমে নানা রকম সমস্যাও হতে পারে। সব মিলিয়ে ভাঙ্গারী জিনিসপত্র তিনি পাইকারি দরে কিনে তা মেশিনে ভাঙিয়ে গুড়া করে বস্তা ভর্তি করে ঢাকায় বিক্রি করেন। স্থানীয় ডার্ড কম্পোজিট বোতল জাতীয় ভাঙ্গারী বেশিরভাগই কিনে নেন বলে জানিয়েছেন রিপন।

একই রকম আরও বেশ কয়েকটি ভাঙ্গারী রয়েছে বাংলাবাজার এলাকা ও আশেপাশে। বাংলাবাজার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। রিপন ১৫ বছর যাবত টঙ্গী ছেড়ে এখানে এই ব্যবসা করছেন।

রিপন জানিয়েছেন, তিনি প্রায় চার বিঘা জমি ভাড়া নিয়ে ভাঙ্গারী মাল রেখেছেন। এতে তার প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা ভাড়া দেন। ২ লাখ টাকা অগ্রিমও দিয়েছেন। বড় একটি গোডাউন ভাড়া নিয়ে ব্যবসা চালাচ্ছেন।

রিপন এখন পর্যন্ত কোন ব্যাংক থেকে ‘লোন’ পাননি। এই ব্যবসার জন্য বাংক লোন পাওয়া যায় কিনা এই ধারণাও নেই তার। সরকারি কোনো উদ্যোগ তার ব্যবসার জন্য আছে কিনা এটিও তিনি অবগত নন। এছাড়া তাকে কেউ কোনোরকম প্রণোদনা দেননি। নিজেই সব চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের মনমতো। তিনি আরও জানান, তার কাছ থেকে কাজ শিখে তার চেয়ে বড় ব্যবসায়ী হয়েছেন দুয়েকজন। আবার নিঃস্বও হয়েছেন কেউ কেউ। ১৫ অক্টোবর ২০১৯।


বিভাগ : ফিচার