৮৮ দিন পর সিল করা ড্রামে পাওয়া গেলো ব্যবসায়ীর লাশ

যোগফল প্রতিবেদক

04 Jul, 2020 04:46pm


৮৮ দিন পর সিল করা ড্রামে পাওয়া গেলো ব্যবসায়ীর লাশ
ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে অপহরণের ৩ মাস পর হেকমত আলী নামের এক ব্যবসায়ীর লাশ ড্রামের ভেতর সিমেন্ট দিয়ে জমাটবাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই ২০২০) দুপুরে উপজেলার কাঞ্চনের কুশাবো এলাকার দোকান কর্মচারী রফিকুল ইসলামের স্বীকারোক্তি ও তথ্য অনুযায়ী পুলিশ এই লাশ উদ্ধার করে।

হেকমত আলী পশ্চিম কালাদী গ্রামের মৃত কদম আলীর সন্তান। তিনি গাউছিয়া মার্কেটে মোটর পার্টসের ব্যবসা করতেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে এলাকাবাসী।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আবু সায়েম জানান, গত ৪ এপ্রিল সকালে কাঞ্চন পৌরসভার কালাদী এলাকার ভুলতা ইউনিয়নের নুর ম্যানশন মার্কেটের মোটর সাইকেল ও গাড়ির পার্টস ব্যবসায়ী হেকমত আলী তার দোকানের ম্যানেজার ও আত্মীয় রফিকুল ইসলাম সবুজের বিয়ের জন্য পাত্রী দেখতে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় ১৪ এপ্রিল নিখোঁজ ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা বেগম বাদি হয়ে ম্যানেজার রফিকুল ইসলাম সবুজসহ ৪ জনকে আসামি করে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পান রূপগঞ্জ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম। তিনি মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম সবুজকে ঢাকার ডেমরা থেকে গ্রেফতার করেন। সবুজ পুলিশের কাছে কোনও স্বীকারোক্তি না দেওয়ায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে তাকে আদালত জেল হাজতে পাঠান।

মামলার বাদির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকতর অগ্রগতির জন্য আদালত গত ১৮ জুন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) নারায়ণগঞ্জের ওপর দায়িত্বভার অর্পণ করে। গত ২৬ জুন মামলাটির তদন্তের জন্য পিআইবি এর এসআই আবু সায়েমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ৩০ মে আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ কারাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ দিনের রিমান্ডে আনেন রফিকুল ইসলাম সবুজকে। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা। প্রায় ৮৮ দিন আগে ব্যবসায়ী হেকমতকে অন্য সহযোগীদের সহায়তায় হত্যার পর একটি তেলের ড্রামে ঢুকিয়ে ড্রামটি সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে ঢাকা-বাইপাস সড়কের কুশাবো এলাকার একটি পুকুরে ফেলে রাখে হত্যাকারী রফিকুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার [২ জুলাই] দুপুরে রফিকুলের দেখানো সেই পুকুর থেকে ঢালাই করা ড্রামভর্তি লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের পরনে পাঞ্জাবি ও শরীরের বিভিন্ন অংশ দেখে মামলার বাদি ব্যবসায়ীর স্ত্রী রোকসানা ও পরিবারের অন্যরা নিশ্চিত করেন এটা নিখোঁজ ব্যবসায়ী হেকমত আলীর লাশ।

রোকসানা আক্তার জানান, দোকানের ম্যানেজার ও তার বোনের সন্তান রফিকুলের সঙ্গে ব্যবসার টাকা পয়সা নিয়ে প্রায় সময়ই ঝামেলা হতো হেকমত আলীর। টাকা পয়সা আত্মসাতের জন্যই তার স্বামীকে রফিকুল অন্য সহযোগীর সহায়তায় হত্যা করেছে।

এ বিষয়ে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পুলিশ সুপার এ আর এম আলিফ হোসেন বলেন, পিবিআই মামলাটির দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করায় মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার সূত্র বের করা সম্ভব হয়েছে। আশাকরি অল্প সময়ের মধ্যে আমরা রফিকুলের অন্য সহযোগীদেরও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবো।


বিভাগ : অপরাধ


এই বিভাগের আরও