নৈসর্গিক সাজে ‘ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান’

যোগফল প্রতিবেদক

26 Jan, 2020 03:03pm


নৈসর্গিক সাজে ‘ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান’
ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান

চারদিকে সবুজের সমারোহ। পাখিদের কিচিরমিচিরে সুরের মূর্ছনা। কোথাও আবার ঝিঁঝিঁ পোকার ডাক। খানিকপথ হেঁটে গেলেই সুবিশাল স্বচ্ছ জলের লেক। যেন পত্র পল্লবে সেজেছে গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান। কচি কচি পাতায় ছেয়ে গেছে পাঁচ হাজার হেক্টরের সুবিশাল শাল বাগান।

ঢাকা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ভ্রমণপিপাসুদের চিত্তবিনোদন ও ভাওয়াল অঞ্চলের প্রাকৃতিক বনজসম্পদ সংরক্ষণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৭৪-৭৫ সালে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (ন্যাশনাল পার্ক) প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম শুরু হয়ে ১৯৮২ সালে শেষ হয়। ২০০৮ সাল থেকে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছে ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ। মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর বনাঞ্চল নিয়ে ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান গঠিত। বর্তমানে উদ্যানে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে ৯৪০ হেক্টর বনভূমিতে।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও ভাওয়াল রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল হাশেম জানান, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে বিশ্রামাগার আছে ১৯টি। এর মধ্যে চম্পা, জেসমিন, অর্কিড, রজনীগন্ধা, শাপলা, কটেজ-১ ও ২, গোলাপ, মাধবী, জুঁই, চামেলী ও শ্রান্তি অন্যতম। এছাড়া পার্কে ৩১টি পিকনিক স্পটের মধ্যে পলাশ, শিউলি-১ ও ২, নিরিবিলি-৪, বনশ্রী ১-৩, অবকাশ-১ ও ৪ পর্যটকদের পছন্দের তালিকায়।

ঢাকা বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগসূত্রের তথ্যমতে, ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে শাল গাছগুলো কপিচ থেকে উৎপন্ন। জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর এ উদ্যানে প্রায় বিলুপ্ত বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণের কাজ চলছে। এক জরিপে এ উদ্যানে বিভিন্ন প্রজাতির লতা, ঘাস, ঔষধি, করতল, গুল্ম, বৃক্ষসহ ২২১ প্রজাতির উদ্ভিদ সনাক্ত করা হয়েছে। বন্যপ্রাণীদের মধ্যে স্তন্যপায়ী ১০ প্রজাতি, সরীসৃপ ৯ প্রজাতি, পাখি ৩৯ প্রজাতি এবং উভচর ৬ প্রজাতির প্রাণী রয়েছে।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানের ১৩ কিলোমিটার লেকের পাড়ে দেশী-বিদেশী মূল্যবান বিভিন্ন প্রজাতির কাঠ ও শোভবর্ধনকারী ৬০ প্রজাতির বৃক্ষ, ৪ প্রজাতির বেত ও ৭ প্রজাতির বাঁশের চারা রোপিত হয়েছে। বন্যপ্রাণীর খাদ্য ও আবাসস্থলের জন্য আম, জাম, কাঁঠাল, জলপাই, কামরাঙা, আমলকি, হরতকি, বহেরা, বট, ডেউয়া ও ডুমুরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বনজ ও দেশীয় বৃক্ষও রোপন করা হয়েছে।

ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে সুবিশাল দৈর্ঘ্যরে লেকে নৌকা ভ্রমণের জন্য রয়েছে নৌবিহার। আছে শিশু পার্ক, সিনেমা শুটিংয়ের ব্যবস্থা, মিনি চিড়িয়াখানা ও সুউচ্চ (৬০ ফুট) ওয়াচ টাওয়ার। আরও আছে ক্যান্টিন ও মসজিদ। জাতীয় উদ্যানে প্রবেশের জন্য রয়েছে ৬টি প্রবেশদ্বার। উদ্যানে প্রবেশে টিকিটমূল্য ১০ টাকা। উদ্যানের ভেতরে পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত জোরদার। উদ্যানে বন বিভাগের বিট কর্মকর্তাসহ ২১ জন দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সরকার কর্তৃক নিয়োজিত ইজারাদার প্রতিষ্ঠান সুমি এন্টারপ্রাইজেরও রয়েছে আটজন দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্টাফ।


বিভাগ : ফিচার