যোগফলের জবাবদিহি নীতি

যোগফল বার্তা বিভাগ

06 Jul, 2020 03:53am


যোগফলের জবাবদিহি নীতি
ছবি : সংগৃহীত

পাঠকদের কাছে দায়বদ্ধ থাকা মানে এই নয় যে তাদের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে, বা তারা যা দেখতে চাইবে শুধু সে ধরনের সাংবাদিকতা করতে হবে। তবে, আপনার সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তগুলোর জন্য জবাবদিহি করতে হবে আপনাকেই। জবাবদিহিকে অনেকে জবাবহিহিতা বলে থাকে। এটি ভুল ধারণা।

সাংবাদিকদের জবাবদিহি করতে হয়, সেটা তারা পছন্দ করুক আর নাই করুক। প্রতিনিয়ত সাংবাদিক অটোমেটিক জবাবদিহির আওতায় পড়ে।

যে কোন সংবাদ মাধ্যমে সাংবাদিক হয়ে কাজ করার সাথে জনগণের কাছে দায়িত্ববোধ থাকে, আপনার নিজের পাঠক এবং সার্বিক জনগণের কাছে।

জনগণের কাছে যে ধরনের সাংবাদিকতার কোন দায় বোধ নেই, সেটা বিনোদন ছাড়া কিছুই নয়, বলতে পারেন, সেটা কোন সাংবাদিকতাই না। মনগড়া রিপোর্ট প্রত্যাখ্যাত হয়।

জনগণের কাছে জবাবদিহির জন্য যোগফলের সাংবাদিকতার একটি বিশেষ বাধ্যবাধকতা আছে। কাজেই, তাদের পাঠকের কাছে জবাবদিহি করার জন্য যোগফলের সাংবাদিকদের সব সময় প্রস্তুত থাকতে হবে। এড়িয়ে চলার কোন সুযোগ নেই।

যোগফলের সাংবাদিকদের আরও দায়িত্ব আছে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করতে। যাদের নানাবিধ স্বার্থ আছে, যারা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং সামাজিক প্রেক্ষাপট থেকে এসেছে এবং দিনের প্রধান ঘটনা বা স্টোরিগুলোর সাথে যাদের সম্পৃক্ততা একই পর্যায়ের না। ফলে ক্ষুদ্ররা বাদ পড়বে এমন নয়। বরং প্রান্তিকদের প্রাধান্য দেওয়া হয়।

যোগফল এই কাজটা করে এভাবে:

উপর্যুক্ত স্টাইলে পরিষ্কার এবং সহজে বোঝা যায় সেরকম ভাষায় রিপোর্ট করে। পাঠকদের খাটো করে দেখে না। ভাসাভাসা ধারণা যোগফলে অচল।

ঘটনা কী ঘটেছে এবং কেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ, সেটা ব্যাখ্যা করে এবং এমনভাবে বিষয়টির উপর আলোকপাত করে যাতে পাঠক খবরটি নিয়ে আগ্রহী হয়।

সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত কীভাবে এবং কেন নেওয়া হলো, সেটা পাঠকের কাছে জবাবদিহি করার জন্য প্রস্তুত থাকে।

ভুল সংশোধন এবং তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে। যোগফলে প্রকাশ হওয়া সংবাদের অসত্য তথ্য নিয়ে আপত্তি নেই বললেই চলে। সতর্কতা এক্ষেত্রে অত্যন্ত প্রবল।

পাঠকের কাছে দায়বদ্ধ থাকা মানে এই নয় যে তাদের দ্বারা পরিচালিত হতে হবে, বা তারা যা দেখতে চাইবে শুধু সে ধরনের সাংবাদিকতা করতে হবে। সমাজের কল্যাণকর দিক বিবেচনায় রাখা যোগফলের অন্যতম শর্ত।

সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকাও জবাবদিহির মানে নয়।

কিন্তু এর মানে হচ্ছে, আপনি যে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তগুলো নেবেন সেগুলোর জন্য আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। আর এটা এমনভাবে করতে হবে যাতে, এমনকি যে সকল পাঠক আপনার সিদ্ধান্তের সাথে একমত নন, তারাও বোঝেন যে আপনি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার পেছনে ভাল কারণ রয়েছে।

এবং ওই কারণগুলো যোগফলের সাংবাদিকতার মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

ভুল

কোন সংবাদ প্রতিষ্ঠান বা কোন সাংবাদিক সব কাজ সব সময় নির্ভুল করে না।

আপনি যত চেষ্টাই করুন ঠিক, নিরপেক্ষ এবং ন্যায্য হবার জন্য, সময়ের চাপে হউক বা সব তথ্য জানার আগেই রিপোর্ট করার তাগিদে হউক, কোন কোন সময় আপনার ভুল হতে পারে ।

সময়ের চাপের মধ্যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া; প্রতিবেদন ফাইল করার জন্য ডেডলাইনের চাপে অনুমান-নির্ভর কিছু করা: কোন ভয়েস ক্লিপ যেটা হয়তো যা বলা হচ্ছে তার সাথে খাপ খাচ্ছে না, এসব নানা কারণে ভুল হতে পারে ।

অনেক সাংবাদিকের জন্য, ‘দুঃখিত’ বলাটা খুবই কঠিন কাজ  হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু আপনি যখন কোন ভুল করেছেন তখন দ্রুত এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে আস্থা গড়া এবং ধরে রাখার অংশ।

শিক্ষণীয়

অন্য সবার মত সাংবাদিকরা তাদের ভুল থেকে শিক্ষা নেন। আপনি যদি আপনার ভুল স্বীকার না করেন বা তার জন্য ব্যাখ্যা না দেন, তাহলে সেগুলো থেকে আপনি কিছু শিখতে পারবেন না।

যোগফল জনগণের অর্থায়নে পরিচালিত একটি সংস্থা, কাজেই অন্য কারও চেয়ে যোগফলের সাংবাদিকদের নিজেদের এই প্রশ্ন করা উচিত:

‘আমি যদি কোন পাবলিকের টাকায় পরিচালিত সংস্থার কাছে কোন অভিযোগ করি, যে সংস্থার অর্থায়নে আমারও অংশ আছে, তাহলে আমি কী প্রত্যাশা করবো?’

অন্ততপক্ষে, আপনি একটি ব্যাখ্যা আশা করতে পারেন। আর যদি কোন ভুল করা হয়ে থাকে, তা হলে আপনার প্রত্যাশা থাকবে যে তারা দুঃখ প্রকাশ করবে।

সব চেয়ে ভাল হয় যদি সাংবাদিকরা তাদের ভুল সম্পর্কে সচেতন হবার সাথে সাথেই সেটা সংশোধন করে দেয়। এটা বিশেষভাবে প্রযোজ্য লাইভ এবং চলমান সংবাদ পরিবেশনা বা ওয়েবসাইটের ক্ষেত্রে। পাঠকরা বোঝেন যে কোন কোন ঘটনার তথ্য অল্প অল্প করে জানা যায়, এবং শুরুর দিকে অনুমান বা বিশ্লেষণের মাধ্যমে যা বলা হয়েছিল তা সব সময় ঠিক নাও হতে পারে।

অন্যদিকে, নিউজের কনটেন্ট এখন আর ক্ষণস্থায়ী, গতকালের খবর না। ওয়েবসাইট, ডিজিটাল কনটেন্ট সাইট, এক স্টোরির সাথে আর এক বা পুরনো স্টোরির লিঙ্ক ইত্যাদির মানে হচ্ছে সাংবাদিকতার অনেক কনটেন্ট এখন চিরস্থায়ী।

কাজেই, ভুলগুলোও চিরস্থায়ী। এক সময় ছাপার কাগজ খুঁজে পাওয়া যেত না। কিন্তু ডিজিটাল মাধ্যম হারানোর সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়।

অভিযোগ

আপনি যদি কোন অভিযোগ পেয়ে থাকেন, তা হলে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, সেগুলো হলো:

অভিযোগ তদন্ত করার যে সমস্ত প্রক্রিয়া আছে, সেগুলো অনুযায়ী অভিযোগ খতিয়ে দেখুন। মনে রাখবেন, এই প্রক্রিয়া কোন সিরিয়াল অভিযোগকারী থেকে আপনার স্বার্থও রক্ষা করবে।

অভিযোগের ভাষা যাই থাকুক না কেন, সব সময় ঠাণ্ডা মাথায়, ভদ্রভাবে জবাব দেবেন। কখনও তাড়াহুড়া করে ইমেইল পাঠাবেন না বা ফোন করবেন না।

অভিযোগকারীকে অবহিত করবেন। আপনি যদি অভিযোগের বিষয়বস্তুর ব্যাকগ্রাউন্ড খতিয়ে দেখতে চান, তা হলে অভিযোগকারীকে সেটা জানাবেন।  কখন আপনার তদন্তের ফল প্রত্যাশা করছেন, সেটাও জানিয়ে দেবেন।

যদি অভিযোগ ঠিক হয়, তাহলে সেটা পরিষ্কারভাবে বলবেন, এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনি কী পদক্ষেপ নেবেন তাও জানিয়ে দেবেন।

যদি অভিযোগ ভুল হয় বা সেখানে যদি মতামতের ভিন্নতা থাকে, তা হলে সেটা জানাবেন এবং কেন আপনি নিশ্চিত যে আপনার মত ঠিক, তার ব্যাখ্যা দেবেন।

সব কিছুর নোট রাখবেন। কারণ, অভিযোগকারী তার অভিযোগ আর এক ধাপ উপরে নিয়ে যেতে পারে।


বিভাগ : মর্গ