যোগফলের নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ

যোগফল বার্তা বিভাগ

06 Jul, 2020 04:38am


যোগফলের নৈতিকতা এবং মূল্যবোধ
ছবি প্রতীকী

যোগফল সাংবাদিকতার মূল্যবোধ হচ্ছে: সত্য এবং ঠিক [ঠিক ঠিকই, সঠিক বলে পোক্তা করতে হয় না] তথ্য, নিরপেক্ষতা, স্বাধীনতা, জনস্বার্থ, পাঠকের কাছে জবাবদিহি। বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালা ভিন্নভাবেও ব্যাখ্যা করা হতে পারে। ফলে সম্পাদকীয় বিষয়ে সন্দেহ থাকলে উপদেশ নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।

পৃথিবীর যে কোন জায়গায় অনলাইনে যোগফলের কনটেন্ট যে নৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মূল্যবোধ ধারণ করতে হয়, তার বিস্তারিত যোগফলের সম্পাদকীয় নীতিমালায় তুলে ধরা হয়েছে। এই নীতিমালা আপনাকে কঠিন সম্পাদকীয় সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

এখানে, নীতিমালার কিছু অংশের সারমর্ম তুলে ধরা হবে যেগুলো আপনার দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করবে। এই তালিকা একবারে পরিপূর্ণ নয়, এবং কোন কোন বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে নীতিমালা ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হতে পারে। যখনই কোন বিষয়ে সন্দেহ থাকবে, তখনই উপদেশ বা পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আপনি কোন খবর প্রথম ‘ব্রেক’ করতে চান, কিন্তু আপনি খবরের সত্যতা নিশ্চিত করতে চান। যোগফলের সাংবাদিকদের জন্য দ্রুততার চেয়ে সত্যতা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আপনার উচিত ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে নিজে তথ্য সংগ্রহ করা। কোন ‘ব্রেকিং স্টোরি’ শুধু একটি সংবাদ সংস্থা বা সামাজিক মাধ্যম সাইটের খবরের উপর নির্ভর করে পরিবেশন করা গ্রহণযোগ্য নয়।

নিরপেক্ষতার জন্য সব তথ্য আপনাকে সত্যনিষ্ঠ ভাবে, খোলা মন নিয়ে, সব দিককে সমানভাবে বিবেচনা করতে হবে। যখনই কোন খবর পরিবেশন করা হবে, তখন প্রত্যেকবার সব বক্তব্যকে সমান ভাবে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রত্যেক অনুষ্ঠানে সব পক্ষের মতামতকে সমান সময় দেওয়ারও প্রয়োজন নেই। প্রসঙ্গ বিবেচনা করে সময় কম বেশি হতে পারে।

আপনি বা যোগফলের জন্য কাজ করছেন এমন কেউ কোন পরিস্থিতিতেই বাইরের কোন সংগঠন বা যোগফলে অংশগ্রহণ করেছে এমন কারও কাছ থেকে কোন উপহার নিতে পারেন না। সাধারণত, পেশার স্বার্থে ভ্রমণ, থাকা-খাওয়া এবং অন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় ভার যোগফল বহন করবে। 

একজন সাংবাদিক হিসেবে আপনি যদি নিজস্ব ব্লগ শুরু করতে চান, তা হলে প্রথমে আপনার সম্পাদকের সাথে আলাপ করবেন। আপনার সম্পাদক অযৌক্তিকভাবে আপনাকে বাধা দেবেন না, কিন্তু ব্লগ লেখার সাথে ঝুঁকি এবং যোগফলের সাংবাদিক হিসেবে আপনার স্বার্থের সাথে দ্বন্দ্ব হতে পারে কি না, সেটা তিনি আলোচনা করতে চাইবেন। আপনার যদি ব্লগ থাকে, তা হলে সেখানে আপনার রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করবেন না বা খোলাখুলি পক্ষপাতিত্ব করবেন না, যেটা আপনার এবং যোগফলের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে। বিশেষত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মত প্রকাশের ক্ষেত্রে আপনি যোগফলকে প্রাধান্য দিয়ে কাজ করবেন।

যে তথ্য জনস্বার্থে প্রচার করা উচিত সেটা মাঝে-মধ্যে শুধু বেনামী সূত্র থেকে পাওয়া যায়। নাম না প্রকাশ করে তথ্য প্রচার করা হচ্ছে একেবারে শেষ রাস্তা, এবং কোন সূত্রকে বেনামী থাকার অধিকার সহজে দেওয়া যাবে না। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে, আপনি যখন কোন সূত্রের পরিচয় গোপন রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তখন আপনি সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারবেন। বেনামী সূত্রের দেওয়া তথ্য যদি অনুষ্ঠানে অন্তর্ভুক্ত হয়, তখন আপনার সম্পাদকের অধিকার আছে সেই সূত্রের পরিচয় জানার। ক্রসচেক করার জন্য এই নীতি গোপনীয়তা রক্ষার চেয়ে ঝুঁকিমুক্ত হওয়ার উপায়।

আপনি যদি শিশু বা কিশোরদের আপনার কাজে অন্তর্ভুক্ত করতে চান, প্রথমে তাদের সম্মতি নিতে হবে। সাধারণত, আপনাকে শিশুর পিতা মাতার সম্মতি নিতে হবে। অথবা শিশুর আইনগত অভিভাবক বা অন্য কোন ব্যক্তি যার শিশুর জন্য আইনগত দায়িত্ব রয়েছে যেমন স্কুলের শিক্ষক, তাদের অনুমতি নিতে হবে। শিশু বা কিশোরের বয়স যত কম হবে, অভিভাবকের সম্মতি ততই জরুরি হবে।

যখন দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক বিপর্যয়, জন অসন্তোষ, সহিংসতা, যুদ্ধ ইত্যাদি নিয়ে খবর সংগ্রহ করবেন, তখন মানুষের ঠিক তথ্য জানার অধিকার এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য সমবেদনা এই দুইটি দিকের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। যখন দুর্ঘটনা বা বিপর্যয়ে আহত বা শোকাহত মানুষের সাক্ষাৎকার নেওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন তাদের বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে সাক্ষাৎকারের আয়োজন করা উচিত।

মাঝে-মধ্যে কোন কন্ট্রিবিউটর সাক্ষাৎকার দেওয়ার আগে শর্ত আরোপ করার চেষ্টা করতে পারে। বেশিরভাগ সময়, সাক্ষাৎকারের উপর নিজের নিয়ন্ত্রণ  ছেড়ে দেয় না। যদি কোন কন্ট্রিবিউটর আগে থেকে প্রশ্ন ঠিক না করা হলে বা কোন বিষয় সাক্ষাৎকার থেকে বাদ না দিলে সাক্ষাৎকার দিতে অস্বীকার করে, তখন আপনাকে সাবধানে বিবেচনা করতে হবে সেই সাক্ষাৎকার আপনি আদৌ নেবেন কি না। এ’ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন সম্পাদকের পরামর্শ নিলে ভাল হয়।

যোগফল মর্গে ‘যোগফল রীতিনীতি’ নামক একটি নির্দেশনা আছে। এটি ভিন্নতর নয়। বরং পুরিপূরক। 


বিভাগ : মর্গ