গাজীপুর সিটির প্রকৌশলী

করোনাযোদ্ধা সাধনা মিত্রের জীবন গেল দুর্ঘটনায়

যোগফল রিপোর্ট

07 Jul, 2020 06:18pm


করোনাযোদ্ধা সাধনা মিত্রের জীবন গেল দুর্ঘটনায়
ছবি : সংগৃহীত

সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করতেন সাধনা মিত্র (৫০)। নমুনা সংগ্রহের একপর্যায়ে নিজেই করোনায় সংক্রমিত হলেন। সুস্থ হয়ে তিনি আবার ফিরে এলেন নমুনা সংগ্রহের কাজে।

দৃঢ় মনোবল এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনাকে জয় করলেও সড়কে দুর্ঘটনার কাছে হেরে গেছেন তিনি। প্রায় নয় ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে হার মেনেছেন। সোমবার [৬ জুলাই ২০২০] রাত পৌনে বারোটার দিকে খুলনার একটি বেসরকারি হাসপাতালে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

সাধনা মিত্র যশোরের মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট (ইপিআই) পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি স্বামী, তিন সন্তান রেখে গেছেন।

মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শুভ্রা রানী দেবনাথ বলেন, সোমবার বিকালে সাধনা মিত্র একটি জরুরি কাজে স্বাস্থ্য সহকারী জাহিদুল ইসলামের মোটরসাইকেলে করে যশোর-চুকনগর আঞ্চলিক মহাসড়ক দিয়ে কেশবপুর যাচ্ছিলেন। বেলা সোয়া তিনটার দিকে উপজেলার ছাতিয়ানতলা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলের চাকার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি মহাসড়কের ওপর পড়ে যান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। সঙ্গে সঙ্গে তাকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। কিন্তু অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে খুলনার বেসরকারি গাজী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত পৌনে বারোটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানে তিনি মারা যান।

শুভ্রা রানী দেবনাথ আরও বলেন, সাধনা খুব ভালো স্বাস্থ্যকর্মী ছিলেন। তিনি এক এক এর পর এক উপজেলার সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। একসময় নিজেই কোভিড-১৯ আক্রান্ত হন। যথাযথভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে করোনা জয় করেছেন। পরে তিনি আবার নমুনা সংগ্রহের কাজ শুরু করেন। তার মৃত্যুতে অনেক ক্ষতি হয়ে গেল।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, মনিরামপুরে নমুনা সংগ্রহ শুরু হয় গত ২ এপ্রিল থেকে। প্রথম দিন থেকেই নমুনা সংগ্রহ করেন সাধনা মিত্র। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১০০ জনের নমুনা সংগ্রহ করেছেন। নমুনা সংগ্রহের একপর্যায়ে তার শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও গলাব্যথা হয়। ২৭ এপ্রিল তিনি নিজের নমুনা সংগ্রহ করলেন, সঙ্গে আরও ছয় স্বাস্থ্যকর্মীর। ২৯ এপ্রিল নমুনা পরীক্ষার ফল এলো। তাতে তিনিসহ চারজনই করোনা পজিটিভ। এরপর তিনি বাসায় আইসোলেশনে চলে যান। আইসোলেশনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছেন। এরপর দুবার তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। দুইবারই ফল আসে নেগেটিভ। গত ১৪ মে তিনি সুস্থতার ছাড়পত্র পান। এরপর নিয়ম মেনে বাসায় কোয়ারেন্টিনে থেকে আবার কাজে নেমে পড়েন তিনি।

গত ১ জুন প্রথম আলোতে ‘করোনা জয়ী সাধনা আবার নমুনা সংগ্রহের কাজে’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘যত দিন করোনাভাইরাস থাকবে, তত দিন আমি এই সেবা দিয়ে যাব।’ এরপর আরও অনেক গণমাধ্যমে সাধনাকে লিড করে।