আমের আঁটি কেজি দরে বিক্রি হয়

যোগফল রিপোর্ট

10 Jul, 2020 09:42pm


আমের আঁটি কেজি দরে বিক্রি হয়
ছবি : সংগৃহীত

মৌসুমি ফল আম। আমের পুষ্টির গুণ সবারই জানা। আম খেতে খুব মিষ্টি  আম খেতে পছন্দ করে না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। কয়েক বছর আগে গ্রামাঞ্চলে দেখা যেত, মানুষ আম খেয়ে আমের আঁটিটি মাটিতে ফেলে দিতো, সেই আঁটি থেকে আমের গাছ জন্মাতো। কিন্তু ইদানীং দেখা যাচ্ছে, রংপুরের পীরগাছা উপজেলার গ্রামগুলোতে পড়ে থাকা আমের আঁটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কেন? খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি কেজি আমের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০টাকায়। সেগুলো আঁটি কিনে নিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় নার্সারির মালিকরা অথবা ব্যবসায়ীরা।

মিনহাজুল ইসলাম নামের একজন বিক্রেতা বলেন, আমের আঁটির আগে দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০ টাকা। এখন একটু দাম কমছে। দিনে কয় কেজি করে বিক্রি করেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি প্রতিদিন ৪-৫ কেজি আমের আঁটি বিক্রি করি। এখন গাছের আম কমতে শুরু করেছে, তাই আগের মতো আর আমের আঁটি খুঁজে পাই না।

আর একজন বিক্রেতাকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল কিভাবে আমের আঁটি সংগ্রহ করেন, তিনি বলেন, গ্রামের আনাচে কানাচে পড়ে থাকা আমের আঁটি সংগ্রহ করি। যেগুলো মানুষ খেয়ে মাটিতে ফেলে দেয় অথবা নিজেও খেয়ে আমের আঁটিগুলো সংগ্রহ করে রাখি। পরে ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করে দেই।

আমের আঁটি কিনতে আসা উপজেলার জ্ঞানগঞ্জ বাজারের মো. আশরাফুল আলম বলেন, আমরা আমের আঁটিগুলো বাড়িতে নিয়ে শুকানোর পর প্রক্রিয়াজাত করি। তারপর সারিবদ্ধভাবে কিছু জায়গা ফাঁকা রেখে আমের আঁটিগুলো রোপন করি। ২-৩ মাস পর চারা গজালে নিয়ম অনুযায়ী কলমের মাধ্যমে গাছে রূপান্তর করা হয়। প্রয়োজনে ইউরিয়া সার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এতে খরচও কম, লাভও বেশি বিধায় আমরা এই পদ্ধতিতে চারা রোপন করার জন্য গ্রামগঞ্জে আমের আঁটি কিনতে আসি।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি অফিসার মো. শামিমুর রহমান বলেন, সব আমের আঁটিতে চারা রোপন হয় না তবে হাড়িভাঙ্গা, আম্রপালি ও গুঁটি আমের আঁটি থেকে বেশি চারা উৎপাদন করা হয়। আমাদের এলাকায় যেসব আমের আঁটি থেকে চারা হয় তার মধ্যে গুঁটি আমের আঁটি বেশি। এবারে উপজেলায় ৬.৫ হেক্টর [২৪৭.১০ শতাংশে এক হেক্টর] জমিতে এসব আম উৎপাদন হয়েছে। এবার উপজেলায় ১১৭ মেট্রিক টন ফলন উৎপাদন সম্ভব হবে বলে আমি মনে করি।

তিনি আরও জানান, পড়ে থাকা এসব আমের আঁটি সংগ্রহ করার ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ বান্ধব হচ্ছে অন্যদিকে মশা-মাছির বংশবিস্তার রোধ হচ্ছে। কারণ পাকা আমের ঘ্রাণে বা আমের আঁটিতে দ্রুত মাছি ছড়িয়ে পড়ে। যা পরিবেশ নোংরা করে।


বিভাগ : খেতখামার