মনিপুরে ১৮ লাখ টাকায় বনভূমি বিক্রি!

তানজেরুল ইসলাম

22 Jul, 2020 09:10am


মনিপুরে ১৮ লাখ টাকায় বনভূমি বিক্রি!
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুরে ১৮ লাখ টাকায় বাড়িসহ ১৪ শতাংশ বনভূমি বিক্রি হয়েছে। ‘মালিকানা হস্তান্তর’ দলিলের নামে গাজীপুরে বনভূমি বিক্রিতে সক্রিয় একাধিক চক্র। অথচ শিল্প অধ্যুষিত বন দখলপ্রবণ গাজীপুরে বন বিক্রি বন্ধে নিষ্ক্রিয় ভূমিকায় বন বিভাগ। 

ঢাকা বন বিভাগের অধীন গাজীপুর জেলার রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটে বনভূমির পরিমাণ ৭৪৪ একর। তবে গত দুই দশকে লাগাতার দখল উৎসবে মনিপুর বিটের সিংহভাগ বনাঞ্চল বনখেকোদের দখল ও নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে। এতে বাস্তুচ্যুত হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য পশুপাখি। বন দখল প্রতিরোধে বেঁচে যাওয়া অবশিষ্ট বনভূমি রক্ষায় লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে মনিপুর ফরেস্ট বিট অফিস। যদিও বনভূমি বিক্রি বন্ধে মনিপুর বিট অফিসের নিষ্ক্রিয়তায় উদ্বেগ জানিয়েছেন গাজীপুর সদরের স্থানীয় অধিবাসীরা।

অনুসন্ধান বলছে, রাজেন্দ্রপুর রেঞ্জের মনিপুর বিটের জেসন গেট থেকে পশ্চিমে নয়াপাড়া পাকারাস্তা সংলগ্ন লোল্লাপাড়া এলাকায় প্রায় ছয় বছর আগে আসাদ নামে এক ব্যক্তি বনে নির্মিত একটি বাড়ি ক্রয় করেন। ছোট-বড় মিলে ৭ রুম বিশিষ্ট ওই বাড়িটি গত ১১ জুলাই শনিবার বিকালে তিনি বিক্রি করেন। ১৪ শতাংশ বনভূমিতে নির্মিত বাড়িটি বিক্রি হয় ১৮ লাখ টাকায়। ক্রেতা কবির এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নগদ ১২ লাখ টাকা অগ্রিম বা বায়না দিয়ে বাড়িটি কিনে নেন। স্থানীয় দলিল লেখক হাশেম মাস্টার ১০০ টাকার স্ট্যাম্পে আসাদের ভোগ দখলীয় জমিসহ বাড়ি বিক্রি কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেন। 

ক্রেতা কবির জানান, ১২ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে বনে নির্মিত বাড়িটি তিনি ক্রয় করেছেন। তবে বিষয়টি সাংবাদিক মহলে জানাজানি হলে বিক্রেতা আসাদ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। যদিও অদ্যবদি তিনি টাকা ফেরত পাননি। 

বনভূমি বিক্রি দলিলে সাক্ষী বোরহান জানান, তিনি ওই হস্তান্তর দলিলে সাক্ষি হয়েছেন। সেই সময় স্থানীয় লুৎফর, বাচ্চু মিয়াসহ আরও বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

বনভূমি বিক্রির ব্যাপারে সিরাজুল ইসলামের সন্তান আসাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ক্রেতা কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে, মনিপুর বিট কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ জানান, বন বিক্রির সত্যতা যাচাই করে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।



বিভাগ : তালাশ