মেজর রাশেদের শরীরে গুলির জখম সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন

যোগফল ডেস্ক

05 Aug, 2020 06:55pm


মেজর রাশেদের শরীরে গুলির জখম সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন
ছবি : সংগৃহীত

মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খানের শরীরে চারটি নয়, ছয়টি গুলির আঘাত ছিল। সুরতহাল প্রতিবেদনে বুকে, কাঁধে, হাতে, পিঠে ও কোমরে গুলির জখমের কথা উল্লেখ রয়েছে। যদিও তার মৃত্যুর পর টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নন্দদুলাল রক্ষিত এজাহারে চারটি গুলির কথা উল্লেখ করেন।

প্রশ্ন উঠছে, অন্য দুটি গুলি তা হলে কে ছুড়েছে? পুলিশ জানে না কতটি গুলি খরচ হয়েছে? আগাগোড়াই বিতর্ক তৈরি হচ্ছে পুলিশের ভুমিকায়। বুধবার ককসবাজার আদালতে মামলা হয়েছে নয় পুলিশের নামে।

ককসবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে সিনহা মো. রাশেদের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এসআই মো. আমিনুল ইসলাম। ককসবাজার সদর মডেল থানার এই এসআই নিয়ম অনুযায়ী যে অবস্থায় লাশটি পেয়েছেন, তার বিবরণ লিপিবদ্ধ করেছেন। ওই প্রতিবেদনে লেখা, বাঁ পাশে কাঁধের নিচে গভীর রক্তাক্ত জখম একটি, বাহুতে একটি, বাঁ পাঁজরে একটি, বাঁ কোমরের ওপর একটি, পিঠের পেছনে একটি, কোমরের ভেতরে একটিসহ মোট ছয়টি গুলির রক্তাক্ত গভীর চিহ্ন পাওয়া গেছে।

সুরহতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় উপস্থিত ছিলেন মর্গের কর্মী আহামদ কবির মনু।

বুধবার [৫ আগস্ট ২০২০] এসআই আমিনুল ইসলাম বলেন, ৩১ জুলাই দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তিনি লাশটির সুরতহাল করেন। যেখানে যে জখম পেয়েছেন, সেভাবেই লিখেছেন। তিনি ছয়টি গুলির আঘাত পেয়েছেন।

মৃত্যুর পর টেকনাফ থানায় পুলিশ মামলা করে। এজাহার অনুযায়ী গুলি ছুড়েছিলেন টেকনাফের বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলী। এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত লেখেন, ‘সেনাবাহিনীর মেজর পরিচয়দানকারী ব্যক্তি কিছুক্ষণ তর্ক করে গাড়ি থেকে নেমে একপর্যায়ে কোমরের ডান পাশ থেকে পিস্তল বের করে গুলি করার জন্য উদ্যত হলে আইসি স্যার (লিয়াকত আলী) নিজের ও সঙ্গীয় অফিসার ফোর্সদের জানমাল রক্ষার্থে সঙ্গে থাকা তার নামে সরকারি ইস্যুকৃত পিস্তল হইতে চার রাউন্ড গুলি করে।’

এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, পুলিশ সদস্যদের অস্ত্রের বিপরীতে গুলি বরাদ্দ দেওয়া হয়। কোনো সদস্য কী কারণে কতটি গুলি করেছেন, সেটি অস্ত্র ব্যবহারের পরপরই সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ বাধ্যবাধকতা আছে।

এদিকে ককসবাজার সদর হাসপাতাল মঙ্গলবার সিনহা মো. রাশেদ খানের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট জমা দিয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাহীন আবদুর রহমান চৌধুরী জানান, মঙ্গলবার তারা প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।



এই বিভাগের আরও