আদিবাসী দিবস পালন

যোগফল প্রতিবেদক

10 Aug, 2020 07:39am


আদিবাসী দিবস পালন
ছবি : সংগৃহীত

সাংবিধানিক স্বীকৃতির দাবি জানানোর মধ্য দিয়ে রোববার [৯ আগস্ট ২০২০] পালিত হয়েছে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ২০২০ উপলক্ষে রবিবার বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম আয়োজিত সারাদিনব্যাপী ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আদিবাসী দিবসের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বীকৃতি প্রয়োজন। স্বীকৃতি না দিয়ে আদিবাসী বা আদিবাসী দিবস পরিকল্পিতভাবে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দেশের সার্বিক উন্নয়নের মূলধারায় আদিবাসীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠন করতে হবে। সকাল দশটায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনার মাধ্যমে এ ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন হয়। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, কবিতা পাঠ ও অন্যান্য অনুষ্ঠানসহ এদিন বিকেল পাঁচটায় একটি অনলাইন জুম আলোচনা অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে অংশগ্রহণ করেন ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আদিবাসী বিষয়ক সংসদীয় ককাসের আহ্বায়ক ফজলে হোসেন বাদশা, ঐক্য ন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক সাদেকা হালিম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীস্টান ঐক্যপরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানাদাশ গুপ্ত, মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির, টিআইবির নির্বাহি পরিচালক ডক্টর ইফতেখারুজ্জামান, আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সভাপতি রবীন্দ্রনাথ সরেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর মেসবাহ কামাল, আদিবাসী ফোরামের সদস্য মেইনথিন প্রমীলা ও অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী অভিলাষ ত্রিপুরা।

বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাংসদ রাশেদ খান মেনন বলেন, আদিবাসী বা আদিবাসী দিবস পরিকল্পিতভাবে ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আদিবাসী দিবসের রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বীকৃতি প্রয়োজন। বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা তার সভাপতির বক্তব্যে বলেন, দেশে আজও আদিবাসী জনগণের মানবাধিকার পরিস্থিতি ভাল নয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আদিবাসীদের ভূমি বেদখল ও তাদের চিরায়ত ভূমি থেকে উচ্ছেদ করার হীন উদ্দেশ্যে আদিবাসীদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা, ভূমি জবরদখল ও উচ্ছেদ, আদিবাসী নারীর ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু ২২ বছরেও মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি। বিশেষত ভূমি কমিশন পুরোপুরি অকার্যকর অবস্থায় রয়ে গেছে। বহুবার দাবি তুলে ধরা সত্ত্বেও চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কার্যকর সময়সূচিভিত্তিক পরিকল্পনা (রোডম্যাপ) ঘোষণা করা হয়নি। অস্থায়ী সেনাক্যাম্পসহ ‘অপারেশন উত্তরণ’ প্রত্যাহার করা হয়নি। ঐক্যন্যাপের সভাপতি পঙ্কজ ভট্টাচার্য বলেন, আজ ২৩ বছর হতে চলল পার্বত্য চুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো যথাযথভাবে আজও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ দেশের স্বার্থে এ চুক্তি বাস্তবায়ন হওয়া অতীব জরুরী। তিনি সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশনের জোর দাবি জানান। সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, আদিবাসীদের জায়গা-জমি থেকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে। 

করোনাকালীন সময়ে আদিবাসীরা এর থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক মন্ত্রণালয় ও ভূমি কমিশন গঠনের জোর দাবি জানাই। মানবাধিকার কর্মী এ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেন, আমরা সবাই জানি আদিবাসীরা নানা সমস্যায় জর্জরিত। তারা মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। অথচ মানুষ হিসেবে তাদের সে অধিকারগুলো দরকার। আমরা আদিবাসীদের সংগ্রামের সঙ্গে সহভাগী হতে চাই। 

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সবাইকে আদিবাসী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, আদিবাসীরা তো সারাটা জীবন রাষ্ট্রকে দিয়ে গেলেন। কিন্তু রাষ্ট্র সেভাবে আদিবাসীদের অধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেনি।


বিভাগ : উপজীব্য


এই বিভাগের আরও