গোপালগঞ্জে যুবলীগ নেতার ইন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরি

যোগফল রিপোর্ট

15 Aug, 2020 08:46am


গোপালগঞ্জে যুবলীগ নেতার ইন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরি
ছবি : সংগৃহীত

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) থেকে চুরি যাওয়া কম্পিউটারের মধ্যে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার মহাখালীর একটি আবাসিক হোটেল থেকে কম্পিউটারগুলো উদ্ধার করা হয়।

চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই দুইজন ঘটনার সঙ্গে গোপালগঞ্জের স্থানীয় এক যুবলীগ নেতার সংশ্লিষ্টতার কথা জানিয়েছেন।

গ্রেপ্তার হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ময়মনসিংহ জেলার চোরখালী গ্রামের মইজউদ্দিনের সন্তান হুমায়ূন (৩৫) ও কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার ইদারচর গ্রামের সেলিম মিয়ার সন্তান দুলাল (২৫)। তাদের মহাখালীর ‘জিসার ইন্টারন্যাশনাল’ হোটেলের একটি রুম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হোটেলের মালিক গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি পলাশ শরীফ। 

পুলিশ বলছে, পলাশ শরীফও এই চুরির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার দুই ব্যক্তি। পলাশের ভাই আমিনুল ইসলাম গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান।

গোপালগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে জিসার ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে বনানী থানা ও গোপালগঞ্জ সদর থানার পুলিশ। এ সময় ওই হোটেলের একটি রুম থেকে ৩৪টি কম্পিউটার উদ্ধার করা হয়।

মিজানুর রহমান জানান, যুবলীগ নেতা পলাশ শরীফসহ একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ত। ঘটনার পর থেকে পলাশ শরীফ পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইদের ছুটির মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির পেছনের জানালা ভেঙে ৪৯টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ১০ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নূরউদ্দিন আহমেদ বাদি হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন। একই সঙ্গে ১৯ নিরাপত্তা প্রহরীকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয়। তবে কম্পিউটার চুরির ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন নয়। এর আগেও দুই দফায় ৯৭টি কম্পিউটার চুরির ঘটনা ঘটে।

বিশ্ববিদ্যালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান আবদুল কুদ্দুস মিয়া বলেছেন, তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। নির্দিষ্ট সময়ে মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে তারা এখনই কিছু বলবেন না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, দুইজনকে গ্রেপ্তার করে তারা গোপালগঞ্জ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। এই দুজনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পুরো চক্রকে পাওয়া যাবে বলে তিনি মনে করেন।



বিভাগ : অপরাধ


এই বিভাগের আরও