ব্যালিস্টিক মিসাইল

যোগফল ডেস্ক

29 Jan, 2020 07:53am


ব্যালিস্টিক মিসাইল
ব্যালিস্টিক মিসাইল

ব্যালিস্টিক মিসাইলের প্রক্রিয়া কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠানো বা মহাকাশে রকেট পাঠানোর মতোই। পার্থক্য এই যে কৃত্রিম উপগ্রহ অরবিটে স্থান করে নেয় আর মিসাইলের একটা অংশ ফেরত আসে, উৎক্ষেপণের ধাপ একই। আর তাই অনেক রাষ্ট্র মহাকাশ গবেষণার নাম করে গোপনে ব্যালিস্টিক মিসাইল বানায়। সম্প্রতি ইরানী জেনারেল কাশেমকে আমেরিকানরা ড্রোন দিয়ে হামলার পর ইরান পাল্টা জবাব দেয় ইরাকে অবস্থিত দুই মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২২টি মিসাইল ছুড়ে। 

এতে কোন মার্কিন সেনা নিহত হোক বা না হোক, ইরানীদের মিসাইল সক্ষমতা ঠিকই প্রকাশ পেয়েছে। উত্তর কোরিয়ার মতো ইরানের মিসাইল প্রযুক্তি নিয়ে মার্কিনীরা অনেকবার মশকরা করলেও এবার ঠিকই ইরান জানিয়ে দিল তারা জটিল এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করে ফেলেছে। কিন্তু মিসাইল বা ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রযুক্তি কিভাবে কাজ করে তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

ব্যালিস্টিক মিসাইল ভূ-পৃষ্ঠ থেকে নিক্ষেপের পর তা উঠে যায় আকাশে। প্রাথমিক উৎক্ষেপনের পর অনেক সময় দ্বিতীয় এবং তৃতীয় ধাপে আরও একটি রকেট চালু হয়, যা মিসাইলকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যায়। এক্ষেত্রে আগের রকেটগুলো বিচ্ছিন্ন হতে থাকে। এরপর মিসাইল লক্ষ্যবস্তুর দিকে নেমে আসে। এতে পারমাণবিক বা রাসায়নিক বা প্রথাগত ওয়ারহেড যুক্ত করা হয়। ওয়ারহেড বলতে বোঝায় বিস্ফোরক, যেটা মিসাইলের একদম ওপরের দিকে থাকে। সাধারণ মিসাইলের সঙ্গে পার্থক্য এই যে, সাধারণ মিসাইলে অভিকর্ষের কোন প্রভাব থাকে না। কিন্তু ব্যালিস্টিক মিসাইলে অভিকর্ষের প্রভাব থাকে। তাই তখন অভিকর্ষের টানে প্রচণ্ড গতি পায়। আর এই অকল্পনীয় গতির ফলে মিসাইল প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মিসাইল ধ্বংস করা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। 

ব্যালিস্টিক মিসাইল লক্ষ্যে আঘাত করার আগে শব্দের গতিবেগের কয়েকগুণ বেশি গতি লাভ করে। পৃথিবীর হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছেই আছে ব্যালিস্টিক মিসাইল। আর্মস কন্ট্রোল এ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ৩১টি দেশের হাতে আছে ব্যালিস্টিক মিসাইল। তবে সবার মিসাইল সক্রিয় নয়। কিছু দেশের ভা-ারে সোভিয়েত আমলের মিসাইল আছে, যা আদৌ সচল কিনা জানা যায়নি।

ব্যালিস্টিক মিসাইলের জ্বালানি দুই রকম। আগেরদিনের মিসাইলে তরল জ্বালানি ব্যবহার করা হতো। বর্তমানে সলিড ফুয়েল রডের ব্যবহারই বেশি। কঠিন অবস্থায় থাকা জ্বালানি অপেক্ষাকৃত কম জায়গা দখল করে। দামেও সাশ্রয়ী, রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা মিসাইলের লক্ষ্যেতে আঘাত হানার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেক।

মার্কিন ঘাঁটিতে হামলায় ইরান ফতেহ-১১০ মিসাইল ব্যবহার করেছিল, যেটি সলিড ফুয়েলে চালিত। ব্যালিস্টিক মিসাইলের আরেক চ্যালেঞ্জ সঠিক স্থানে আঘাত করা। ইরানের মিসাইল যদি কোনভাবে ১-২ কিলোমিটার দূরে গিয়ে পড়ত তাহলে হাজারখানেক নিরীহ মানুষের প্রাণ যেতে পারত। ব্যালিস্টিক মিসাইল যখন বায়ুম-লে প্রবেশ করে তখন তাকে নির্দিষ্ট কোণে প্রবেশ করতে হয়। না হলে আকাশেই সেটি ধ্বংস হয়ে যাবার সম্ভাবনা আছে।

প্রায় সব মডেলের মিসাইলের ক্ষেত্রেই পুনঃপ্রবেশ কোণ ২২ থেকে ৪৫ ডিগ্রি। এ সময় মিসাইলের ওপর জি ফোর্সের প্রভাব বেড়ে যায়। মিসাইল ভেদে জি ফোর্সও আলাদা হয়। তবে সব মিসাইলকেই অন্তত ২০ বা ২৫ এর বেশি জি ফোর্স সহ্য করতে হয়। আর তাই ওয়ারহেডকে জি ফোর্স সহ্য করে টিকে থাকার মতো করে বানাতে হয়। কোন কারণে মিসাইল যদি পুনঃপ্রবেশের নির্ধারিত স্থান থেকে এক মিটার দূরেও সরে যায়, তাহলে সেটা ভূমিতে লক্ষ্য থেকে শত কিলোমিটার দূরে গিয়ে আঘাত হানতে পারে। আর তাই মিসাইল নির্মাণ করলেও সঠিক লক্ষ্যে আঘাত হানা নিয়ে চিন্তা থেকে যায় নির্মাণকারী দেশের।

ব্যালিস্টিক মিসাইলে অনেক সময় একাধিক ওয়ারহেড থাকে। এক্ষেত্রে পুনঃপ্রবেশের স্থান হয় কয়েকটি। একাধিক ওয়ারহেড আঘাত হানতে পারে একাধিক শহরে। অনেক সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ধোঁকা দিতে একই লক্ষ্যে কয়েকটি ওয়ারহেড ফেলা হয়, যার মধ্যে কিছু নকল ওয়ারহেড থাকে।

সূত্র : আর্মস কন্ট্রোল এ্যাসোসিয়েশন, সায়েন্স ডেইলি।


বিভাগ : ভার্চুয়াল


এই বিভাগের আরও