সিনহা হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছে র‌্যাব

যোগফল রিপোর্ট

20 Aug, 2020 07:30am


সিনহা হত্যা মামলায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচ্ছে র‌্যাব
ছবি : সংগৃহীত

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে মিলেছে এসব তথ্য।

বুধবার [১৯ আগস্ট ২০২০] রাতে সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ এ তথ্য জানান।

ককসবাজারে র‌্যাব-১৫ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, র‌্যাবের হাতে থাকা সিনহা হত্যা মামলার সব আলামত বুঝে পেয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

পাশাপাশি আদালতের আদেশক্রমে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট ২০২০) রামু থানা থেকে শিপ্রা ও সিফাতের বাকি ২৯টি ডিভাইস বুঝে নেওয়া হবে।

আশিক বিল্লাহ আরও জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ সুপারের মাধ্যমে টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জকে ২৫ জুলাই থেকে ৬ আগস্ট পর্যন্ত থানার সিসিটিভি ক্যামরার ফুটেজ প্রদানে লিখিত আবেদন করেছিলেন।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ থানার ওসি জানিয়েছেন, থানায় ২টি সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। এর মধ্যে একটির ডিভাইস নষ্ট, অন্যটির ডিভাইস পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের দায়ের করা মামলায় ৯ পুলিশকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।

ওই মামলায় বর্তমানে আদালতের মাধ্যমে বরখাস্ত ৭ পুলিশ সদস্য র‌্যাবের রিমান্ডে রয়েছেন। বাকি ২ পুলিশ সদস্যের পরিচয় ও তথ্য প্রদান করতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ককসবাজারের পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন।

সিনহা হত্যাকাণ্ডের সবকিছু বিচার-বিশ্লেষণ করে পেশাদারত্ব নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এই স্পর্শকাতর মামলাটি তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার এই পরিচালক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও জানান, র‌্যাবের কাছে রিমান্ডে থাকা ৪ পুলিশ সদস্যসহ ৭ জনের রিমান্ড বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।

যদি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করেন, তা হলে পরে যে কারও রিমান্ডের জন্য আদালতে আবেদন করবেন।

৩১ জুলাই রাতে টেকনাফের মারিশবুনিয়া পাহাড়ে ভিডিয়োচিত্র ধারণ করে মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ককসবাজারের হিমছড়ি এলাকার নীলিমা রিসোর্টে ফেরার পথে শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খান।

সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌসের করা হত্যা মামলায় উল্লিখিত সাতজনসহ ১৩ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এদিকে ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করতে নিহত অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার সহযোগী শিপ্রা দেবনাথ ও সাহেদুল ইসলাম সিফাত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত বারোটার দিকে তাদের আইনজীবী নিয়ে ককসবাজার সদর মডেল থানায় যান। এ সময় মামলার এজাহারটি আমলে নেয়নি ককসবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ।

ককসবাজার সদর মডেল থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ খায়রুজ্জামান বলেন, যে কোনো ব্যক্তি মামলা করার অধিকার সংরক্ষণ করেন।

তবে ঘটনাস্থল ককসবাজার সদর মডেল থানার আওতাধীন না হওয়ায় মামলাটি গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থানা বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ট্রাইবুনালে ইচ্ছে করলে মামলার বাদি এজাহার দায়ের করতে পারবেন।

এগুলো থেকে শিপ্রা দেবনাথের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিয়ো আপত্তিকরভাবে এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে। ব্যক্তিচরিত্র হনন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার করায় শিপ্রা দেবনাথের সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।

তাই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে থানায় মামলা করতে এলে ওসি মোহাম্মদ খায়রুজ্জামান ঘটনাস্থল হিমছড়ি হওয়ায় রামু থানা ও বিশেষ ট্রাইবুনালে মামলার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইনজীবী মাহাবুবুল আলম টিপু বলেন, দুইজনকে চিহ্নিত করে ১৫০ জনকে আসামি করে এজাহার তৈরি করা হয়েছে।

তার মধ্যে চিহ্নিত ফেসবুক আইডি পিবিআই পুলিশ ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ও সাতক্ষীরা জেলার পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।


বিভাগ : আড়চোখ


এই বিভাগের আরও