শিরিরচালায় জেল-জরিমানা করেও থামানো যাচ্ছে না গ্যাসের অবৈধ সংযোগ

যোগফল প্রতিবেদক

25 Sep, 2020 06:06pm


শিরিরচালায় জেল-জরিমানা করেও থামানো যাচ্ছে না গ্যাসের অবৈধ সংযোগ
ছবি : সংগৃহীত

কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই, নেই আবেদনও। এর পরও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে গাজীপুর সদর উপজেলার শিরিরচালাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে দেওয়া হচ্ছে গ্যাসের অবৈধ সংযোগ। মোবাইল কোর্টের লাগাতার অভিযানে জেল-জরিমানা করেও শিরিরচালায় থামানো যাচ্ছে না গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার।

এর আগেও অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর দুই-এক দিনের মধ্যে বাড়ি প্রতি ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা তুলে ফের একই জায়গায় সংযোগ দিয়ে দিচ্ছে এলাকার প্রভাবশালী একটি চক্র। নিয়মিত থানায় মামলা না হওয়ায় অভিযানের মুখেও থেমে নেই তাদের সংযোগ দেওয়ার কাজ। আর এতে তৈরি হচ্ছে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ফাঁদ।

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এবং বাঘের বাজার প্যানটেক্স গার্মেন্টস এর নিকট থেকে শফিক মাস্টার ও হারুনের বাড়ি পর্যন্ত দ্বিতীয় বারের মতো বাসাবাড়িতে অবৈধভাবে গ্যাস  সংযোগ দেওয়া প্রায় ১৫০টি বাড়ির ৫০০ চুলা এবং শিরিরচালা ডিগনিটি মোড়,  এলাকায় প্রায়  ৪৫০টি বাড়ির এক হাজার ৫০০ অবৈধ চুলার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০)  সকাল দশটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির এর উদ্যোগে ও গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ইসলাম এর নেতৃত্বে শিরিরচালাও বানিয়ারচালা এলাকার অবৈধ গ্যাস পাইপ লাইন বিচ্ছিন্ন করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

এসময় অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের দায়ে ভাওয়ালড় ইউনিয়নের বানিয়ারচালা মেম্বারবাড়ী এলাকার রিয়াজুল এর স্ত্রী সেলিনা বেগমকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন। রিয়াজুল আওয়ামীলীগ নেতা ও গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান।

রিয়াজুলের বাড়িতে জরিমানা করার পর যোগফলকে চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি ওই এলাকায় বৈধ গ্যাসের কোন সংযোগ নাই। কিন্তু ক্ষমতাশালী অনেক নেতার বাড়িতে অবৈধ গ্যাসের চুলা আছে। ফলে অভিযান চালিয়েও তেমন কোন ফল পাওয়া যায় না। একাধিক অফিসেও এমন অবৈধ সংযোগ রয়েছে বলে দাবি তথ্যদাতাদের।

এসময় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার খবর পেয়ে অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারীও সংযোগ প্রদানকারীরা পালিয়ে যায়। ওই এলাকার গ্যাসের দালাল হিসাবে পরিচিত শাজাহান অভিযানের খবর পেয়ে পালিয়ে যায়। অবশ্য কয়েকমাস আগে তার স্ত্রীকে জরিমানা করা হয়েছিল।

তিতাস কর্মকর্তারা জানান, আগেও কয়েকবার ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ লাইন উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কিন্ত স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আবারও এলাকাবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে গ্যাস সংযোগ প্রদান করে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সম্প্রতি অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আফজাল হোসাইনের নাম গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়। পরে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়। আফজালের সঙ্গে দালাল শাজাহানের সম্পর্ক এলাকায় আলোচিত।

এদিকে গাজীপুর সিটিকরপোরেশন দক্ষিণ সালনার ১৯ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় অবস্থিত এ্যাপারেল প্রসেসিং ইন্ডাষ্টিজে এ মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। এ্যাপারেল প্রসেসিং ইন্ডাষ্টিজকে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে গ্যাস আইন-২০১০ এর ধারা ১১(২)অনুযায়ী নগদ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেন এবং অবৈধভাবে গৃহীত শিল্প সংযোগটি বিচ্ছিন্নসহ স্থায়ীভাবে কিলিং করে মোবাইল কোর্ট কর্তৃক উক্ত প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

ফারজানা ইসলাম বলেন, যারা অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ গ্রহণ করেছেন এবং যারা গ্রামের সাধারণ মানুষকে গ্যাসের প্রলোভন দেখিয়ে ভয়াবহ গ্যাস দুর্ঘটনার দিকে ঠেলে দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এবং এখন থেকে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের সহায়তায় নিয়মিতভাবে অবৈধ গ্যাস সংযোগ উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

অভিযান পরিচালনাকালে উপস্থিত ছিলেন, প্রকৌশলী.মো. সুরুয আলম, ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী এস.এম. আবু সুফিয়ান, প্রকৌশলী মির্জা শাহনেওয়াজ লতিফ, উপব্যবস্থাপকরা এবং রাজস্ব উপশাখার এস.এম. আহম্মদ উল্লাহ, মো.আব্দুর রাজ্জাক, মো. ইকবাল হোসেন চৌধুরী, সহকারী কর্মকর্তারা ও মো. সাবিনুর রহমান।



এই বিভাগের আরও