শ্রীপুরে পুলিশের উপর হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয়জন গ্রেপ্তার

মো. মোজাহিদ

26 Sep, 2020 07:36pm


শ্রীপুরে পুলিশের উপর হামলা ও অস্ত্র ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছয়জন গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে কসাইপট্টি এলাকায় দুই আদম ব্যবসায়ীকে জিম্মিদশা থেকে উদ্ধার করতে গিয়ে হামলার শিকার হয় দুই পুলিস সদস্য। এ সময় দুই পুলিসসহ এক আনসার সদস্য ও পাঁচজন ব্যবসায়ী আহত হয়।

৯৯৯ এর ফোনের পর জিম্মিদশা থেকে উদ্ধারের জন্য শ্রীপুর থানার এসআই মো. রফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল খোরশেদ আলম ও এক আনসার সদস্য ঘটনাস্থলে যায়। পরে ইসমাইল ও তার অনুগতরা অতর্কিতভাবে পুলিশের উপর হামলা চালায়। পুলিশের শর্টগান ও পিস্তলের গুলিভর্তি ম্যাগজিন ছিনিয়ে নেয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার ও ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এসময় পুলিশের শর্টগান ও গুলি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করে পুলিশ। পরে ওসি’র নেতৃত্বে পুলিশের একাধিক ফোর্স অভিযান চালিয়ে ছয় হামলাকারীকে গ্রেপ্তার ও ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্র উদ্ধার করে।

তারা হলেন: শেরপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার দমদমা গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের সন্তান রুশমি আরা, শ্রীপুর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের নাজমুল হোসেন রকির স্ত্রী মনিশা মনি, একই উপজেলার দিঘিপাড়া নয়নপুর গ্রামের আফসার উদ্দিনের সন্তান ফরহাদ, নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার লাফুয়া গ্রামের জাফর মোল্ল্যার সন্তান তাজুল ইসলাম মোল্ল্যা ও ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার হাজারীগঞ্জ গ্রামের সোলাইমানের সন্তান আব্দুর রহমান। এছাড়া মো. আজাহার নামে এক ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যোগফল তার বিস্তারিত ঠিকানা সংগ্রহ করতে পারেনি।

মারধরের ঘটনায় আহতরা হলেন: কুমিল্লা জেলার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের ইদ্রিস মিয়া সন্তান  আবুল কালাম, একই উপজেলার নবিয়াত গ্রামের আয়াত আলীর সন্তান রনি, জেলার চান্দিনা উপজেলার কাতকী গ্রামের আব্দুল মালেকের সন্তান মাসুম, কুমিল্লা জেলার হোমনা থানার মঙ্গলকান্দি গ্রামের শাহ্ আলমের সন্তান ফয়সাল, লক্ষীপুর জেলার রায়পুরা উপজেলার কেওড়া ডুবি গ্রামের নিখিল বেপারীর সন্তান ওমর বেপারী।

হামলার শিকার কুমিল্লার দেবীদ্বার থানার নবিয়াদার গ্রামের আবুল হোসেন রনি জানান, তিনি ঢাকার পুরানা পল্টন এলাকার “রাখা ইন্টারন্যাশনাল”এর মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। লাইসেন্সধারী এ প্রতিষ্ঠান থেকে বিভিন্ন দেশে বৈধভাবে কর্মী পাঠানো হয়। এবছরের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলার রাজাবাড়ি নোয়াগাঁও এলাকার ইসমাইল হোসেন ও শাহাদত হোসেন নামের দুইজনকে দুবাই পাঠানোর জন্য তাদের কাছ থেকে দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। কাগজপত্রের কাজ করতে গিয়ে করোনাকালীন লকডাউনে তাদের কার্যক্রম স্থবির হয়ে যায়। এতে করে তাদের আর বিদেশ পাঠানো সম্ভব হয়নি। 

এমতাবস্থায় ইসমাইল হোসেন তাদের জমা দেওয়া টাকা ফেরত দিতে বলেন। পরে এপ্রিলে ইসমাইলকে ৫০ হাজার টাকা বিকাশ করে ফেরত পাঠানো হয়। পরে গত ১৫ সেপ্টেম্বর ফোন করে ইসমাইল আমাকে তার গ্রামের বাড়িতে দাওয়াত দেন এবং আরও কয়েকজনকে বিদেশ পাঠানোর জন্য আলোচনা করার প্রস্তাব দেন। দাওয়াত পেয়ে বৃহস্পতিবার [২৪ সেপ্টেম্বর] বিকালে তিনি (আবুল হোসেন রনি) ও তার অপর বন্ধু ফয়সাল আহমেদকে নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ইসমাইলের বাসায় যান। পরে ইসমাইল তার ঘরের ভেতর আমাদের খাওয়া-দাওয়া সেরে দরজা আটকে দিয়ে তার স্ত্রী শারমিন আক্তার রিমা ও শ্বশুর-শাশুড়িসহ কয়েকজন নানা ভয়-ভীতি দেখিয়ে একটি ৩০০ টাকা মূল্যের সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় এবং তারা সঙ্গে থাকা দুইটি মোবাইল ফোনও ছিনিয়ে যায়। 

পরে ওই স্ট্যাম্পে ইসমাইল আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা পাবেন বলে লিখে এনে আমাকে ওইদিনই পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করার জন্য চাপ দেয়। বিষয়টি জানিয়ে আমার সহকর্মী ফয়সালকে খবর দিলে পরদিন শুক্রবার রাত আটটায় ফয়সাল, তার বন্ধু ওমর বেপারী, মো. কালাম ও মাসুমকে সঙ্গে নিয়ে ইসমাইলের বাড়িতে পৌঁছান। মাসুম ছাড়া অন্যরা ওই ঘরে ঢুকেন। তারপর ঘরের দরজা আটকে স্ট্যাম্প দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করে ইসমাইল ও তার অনুগতরা। একপর্যায়ে টাকা না নিয়ে যাওয়ায় তাদের মারধর করেন। 

মাসুম বাইরে থেকে মারধরের বিষয়টি টের পেয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নাম্বার ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানায়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হাসান জানিয়েছেন, এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানায় মারামারি, সরকারি কাজে বাধা ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। মামলায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

স্মরণীয়: মূল হামলাকারী ইসমাইলসহ অন্যরা পলাতক রয়েছে।


বিভাগ : অপরাধ


এই বিভাগের আরও