বইমেলার মেয়াদ বাড়বে না

যোগফল রিপোর্ট

30 Jan, 2020 02:53pm


বইমেলার মেয়াদ বাড়বে না

সিটি নির্বাচনের কারণে এবারের অমর একুশে বইমেলা একদিন দেরিতে শুরু হলেও বিশেষ কারণে বইমেলার সময় বাড়ানো সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি।

বইমেলা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, এবারের বইমেলা একদিন পেছালেও আগামী ৩ মার্চ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতি অনুষ্ঠান আছে। তাই এবারের বইমেলা ২৯ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই শেষ করতে হবে, পেছানোর কোনো সুযোগ নেই।

আগামী ২ ফেব্রুয়ারি বিকাল তিনটায় বইমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে মেলা পরিদর্শন করবেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ, শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব বাংলা একাডেমির পরিচালক জালাল আহমেদ বলেন, এবারের বই মেলার থিম হচ্ছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ।

তিনি জানান, এবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মেলা প্রাঙ্গণটি ‘শিকড়’, ‘সংগ্রাম’, ‘মুক্তি’ ও ‘অর্জন’ এ চারটি নামে নামকরণ করা হয়েছে, যা বঙ্গবন্ধুর জীবন এবং কর্মের সাথে জড়িত। মেলার বিন্যাসের মাধ্যমে মুজিব বর্ষের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে জালাল আহমেদ জানান, এবার মেলার পরিসর বাড়ানো হয়েছে। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রায় ৮ লাখ বর্গফুট জায়গাজুড়ে মেলা অনুষ্ঠিত হবে। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬টি প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি ইউনিট ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি ইউনিটসহ মোট ৫৬০টি প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৩টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪টি প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো লিটল ম্যাগ কর্নার নেওয়া হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এ বছর টিএসসি সংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও একাডেমির উল্টোদিকের কালী মন্দির এবং তিন নেতার মাজারের পাশ দিয়ে থাকবে প্রবেশ ও বহির্গমন পথ। শিশু চত্বরের আয়তনও বাড়ছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের দুই প্রান্তে দুটি ফুড কোর্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিটি ফুড কোর্টে ২০টি করে খাবার দোকান থাকবে।

একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, এবাবের বইমেলা হবে সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ বইমেলা। মুজিব বর্ষ উপলক্ষে এবারের বইমেলা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করা হচ্ছে। অনুষ্ঠান মঞ্চের আলোচনার বিষয়ও হচ্ছে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে।

এবছর বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শুধু বাংলা একাডেমিই প্রকাশ করছে ২৬টি বই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আগামী দুই বছরে মোট ১০০টি বই প্রকাশ করবে একাডেমি।

মেলার উদ্বোধনী দিনে বাংলা একাডেমি থেকে বঙ্গবন্ধুর তৃতীয় গ্রন্থ ‘আমার দেখা নয়া চীন’ প্রকাশিত হবে। এছাড়া প্রতিদিনের মেলা মঞ্চের আলোচনা-সেমিনার, শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, গান, আবৃত্তি, নৃত্যসহ সবকিছুই আবর্তিত হবে বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করে,” বলেন মহাপরিচালক।

মেলার নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, গত বছর নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন এক হাজার পুলিশ সদস্য। এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দেড় হাজারে। সে সঙ্গে আনসার সদস্যের সংখ্যাও বেড়েছে।

তিনি মেলায় আগতদের শাহবাগ থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত মেট্রোরেলের কাজ চলায় এ রাস্তায় গাড়ি পার্কিং না করতে আহ্বান জানান তিনি। অস্থায়ী দোকান, হকার উচ্ছেদ, ধুলাবালি নিয়ন্ত্রণ ও বৃষ্টি হলে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও করোনাভাইরাস থেকে নিরাপদ থাকতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, বিকাশের চিফ মার্কেটিং অফিসার মীর নওবত আলী, ক্রস ওয়াক কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচারক এমএ মারুফ প্রমুখ।


বিভাগ : বইপত্র