টঙ্গীতে ৬ ঘণ্টা আটকে থাকার পর মুক্তি পায় অসহায় শান্ত

যোগফল প্রতিবেদক

09 Oct, 2020 07:37pm


টঙ্গীতে ৬ ঘণ্টা আটকে থাকার পর মুক্তি পায় অসহায় শান্ত
ছবি : সংগৃহীত

টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ৬ ঘণ্টা বাথরুমে আটক থাকার পর অবশেষে মুক্তি পেয়েছে কালীগঞ্জের বাসিন্দা শান্ত। বুধবার [৭ অক্টোবর ২০২০] এ ঘটনাটি ঘটে। তার অপরাধ প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে দুপুর দুইটায় হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার বাথরুমে যাওয়া। 

সে ওই বাথরুমে প্রবেশের পর হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আউট সোর্সিং নিরাপত্তা কর্মচারি সাজ্জাদ ও শাওনের দায়িত্বে অবহেলার কারণে এ ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি জানা জানি হয়ে পড়লে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে পড়ে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসারসহ আউট সোর্সিং কর্মচারীদের কয়েকজন । 

ভুক্তভোগী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুপুর দুইটার দিকে কালীগঞ্জ বাসিন্দা শান্ত নামে ওই ব্যক্তি হাসপাতালে দ্বিতীয় তলা বাথরুমে শৌচকার্য সারাতে প্রবেশ করেন। বাথরুমের ভিতরে থাকা অবস্থায় আউটসোর্সিং কর্মচারি শাওন দ্বিতীয় তলার ফটকে তালা ঝুলিয়ে চলে যায়। সকাল আটটা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত সেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলো ডিজি অফিস থেকে আসা এবং ডিজির অনুসারী পরিচয়দাতা আউট সোর্সিং কর্মচারি সাজ্জাদ ও শাওনসহ আরও কয়েকজন। 

এদিকে ঘটনার দিন সন্ধ্যা সাতটায় হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের আউট সোর্সিং সাজ্জাদ তার সহকর্মী শাওনকে ফোন করে বিষয়টি অবগত করার পরও শাওন আসেনি। পরে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এসে শান্তকে বাথরুম থেকে বের করে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে উঠে হাসপাতালের ওইসব কর্মচারি ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার।

আরও জানা যায়, আউট সোর্সিং কর্মচারী শাওনের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করতে স্থানীয় একজন সংবাদকর্মী হাসপাতালের মূল ফটকে ডিউটিরত সাজ্জাদের কাছে গেল সাজ্জাদ তাকে শাওনের নম্বর না দিয়ে নিজেকে ডিজি অফিসের কর্মচারি পরিচয় দিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ে। পরে শাওনের নম্বর সংগ্রহ করে বারবার ফোন দিলেও শাওন হাসপাতালে অভ্যন্তরে আসেনি এবং আটকে থাকা শান্তকে উদ্ধার করেনি । পরে রাত সাড়ে সাতটায় তার ইচ্ছেমতো এসে তালা খুলে দিলে শান্ত বেরিয়ে আসে। এ সময় সে বাথরুমে ৬ ঘণ্টা আটকে থাকার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয় স্থানীয় সাংবাদিকদের।

বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, হাপাতালের আউট সোর্সিং কর্মচরীদের ডিউটি বন্টনেও রয়েছে স্বজনপ্রীতি । হাসপাতালের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার জাহাঙ্গীর আলম, আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার পারভেজ হোসেন, ও ইমারজেন্সি মেডিক্যাল অফিসার সমন্বয়ে আউট সোর্সিং কর্মচারিদের ডিউটি বন্টন করার পর রহস্যজনক কারণে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার পারভেজ ও ওয়ার্ড মাস্টার তৌহিদুল ইসলাম হৃদয় মিলে তাদের সইয়ে ডিউটি বন্টন করে অন্যায় ভাবে ডিউটি করানো হয়। ফলে আউট সোর্সিং কর্মচারিরা নিয়মিত ডিউটি করার বদলৌতে হাসপাতালে দালালিসহ ডাক্তার পারভেজের হয়ে সার্টিফিকেট সার্টিফিকেট বাণিজ্যে  সহযোগিতা করে থাকে। এ ছাড়াও ডাক্তার পারভেজের মদদে ওয়ার্ড মাস্টার ও আউট সোর্সিং কর্মচারিরা কৌশলে মৃত্যু সনদ প্রাপ্তীদের জিম্মি করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। এসব আউট সোর্সিং কর্মচারি ওয়ার্ডবয়, ঝাড়ুদার, সুইপার, ক্লিনার, নিরাপত্তাকর্মী পদে চাকুরি হলেও তারা হাসপাতালের সরকারি বিভিন্ন গুরত্বপূর্ণ ফাইলপত্র নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাদের চালচলন বা কর্মকাÐে মনে হয় তারাই হাসপাতালের কর্তাব্যক্তি। যদিও এসব কর্মচারিদের সরকারি বিধি অনুযায়ী হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার নিয়ন্ত্রণ করার কথা রয়েছে তথাপিও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার নিজেই তাদের অন্যায়ের প্রতিপালক  বলে দাবি অনেকের। 

এসব কর্মচারিরা অনিয়মিত ভাবে অফিসে হাজিরা দেওয়া বা অফিস না করে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দূর্নীতির সাথে জড়িত বলেও জানান অনেকেই ।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপরোক্ত অভিযোগগুলো মিথ্যা দাবি করে হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডাক্তার পারভেজ হোসেন জানান, আটকে থাকা ব্যক্তির বিষয়টি জানার পর শাওন ও সাজ্জাদ যেহেতু প্রথম ভূল করেছে তাই প্রাথমিক অবস্থায় মৌখিকভাবে তাদের শোকজ করা হয়েছে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার জন্য । 

এ ব্যাপারে হাসপাতালের পরিচালক ভারপ্রাপ্ত ডাক্তার মো জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে কর্মরত কর্মকর্তা কর্মচারি থেকে শুরু করে আউটসোর্সিং কর্মচারিদের দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি বারবার ফুটে উঠলেও এ বিষয়ে কোন প্রকার ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষ উদাসীন বরং প্রায়ই দেখা যায় ওইসব কর্মচারিদের বড় ধরনের ভুল ধরা পরলে তাদের বাঁচাতে  বিশেষ ভূমিকা পালন করে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ।


বিভাগ : আড়চোখ


এই বিভাগের আরও