শ্রীপুরে বলাৎকারের পর হুমকি, অভিযোগের দুইদিন পরও তদন্তে আসেনি পুলিশ

যোগফল প্রতিবেদক

17 Oct, 2020 05:53pm


শ্রীপুরে বলাৎকারের পর হুমকি, অভিযোগের দুইদিন পরও তদন্তে আসেনি পুলিশ
অভিযুক্ত মকবুল

গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌর এলাকায় দুইটি বলাৎকার চেষ্টার ঘটনায় আলাদা লিখিত অভিযোগ দায়েরের দুইদিন পরও তদন্তে আসেনি পুলিশ। মীমাংসা করার জন্য চাপ দিচ্ছেন আসামির সন্তান ও সাংবাদিক পরিচয়ের একাধি ব্যক্তি।

অথচ পুলিশ জনতা মিলে শনিবার দেশব্যাপি সমাবেশ হয়েছে ধর্ষণ বিরোধী।  

শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পশ্চিম খন্ড (মুন্সিবাড়ির দক্ষিণ পাশে) গ্রামে বাস করা দুইজনকে বলাৎকার চেষ্টা করে মকবুল ক্বারি। তিনি ময়মনসিংহ জেলার পাগলা থানার বিরুই গ্রামের মৃত আব্দুল হাফেজের সন্তান। 

ভুক্তভোগী শিশুদের একজনের বয়স (১৪) অপরজনের বয়সও (১৪) বছর। তাদের একজন মাদরাাসা শিক্ষার্থী, অপরজন স্কুল শিক্ষার্থী।

সম্প্রতি বলাৎকারের ঘটনায় দৈনিক যোগফলসহ বিভিন্ন গণমাধ্যম একটি তথ্যপূর্ণ খবর প্রকাশ করে। ওই খবরে শ্রীপুর থানার ওসি বক্তব্যে জানিয়েছিলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খবর প্রকাশের পর থেকেই মকবুল ক্বারি তার বাড়ি থেকে উধাও।

এলাকার প্রায় ছেলে শিশুদের সাথে মকবুল ক্বারির সুসম্পর্ক রয়েছে। শিশুরা তাকে নানা ভাই বলে ডাকতো।

এই সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে মকবুল ক্বারি দুইজন শিশুকে বলাৎকার চেষ্টা করেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীদের অভিভাবকরা। বিচার না পেয়ে ঘটনার আড়াই মাস পরও গণমান্যদের পেছনে ঘুরে বিচার পাননি তিনি। পরে ভুক্তভোগীদের মায়েরা বৃহস্পতিবার [১৫ অক্টোবর ২০২০] দুপুর একটায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

এ ঘটনায় অভিযোগের বাদিপক্ষরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার [১৫ অক্টোবর ২০২০] সকাল দশটায় মকবুল ক্বারির সন্তানসহ দুইজন সাংবাদিক আমাদের আমাদের বাড়িতে আসে। সাংবাদিকদের সামনে মকবুল ক্বারির সন্তান রাজীব (২৫) আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিলে সাংবাদিকরা কোনও প্রতিবাদ করেননি। সাংবাদিকরা তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলছে। 

এ ঘটনায় একজন সাংবাদিক [তিনি শ্রীপুরে নিজেকে বড় সাংবাদিক হিসাবে নিজের পরিচয় দেন। সংবাদ প্রকাশের জেরে ফেসবুকেও অসত্য তথ্য দিয়ে নানামুখী প্রচার চালান]। আমাকে থানা পুলিশে যেতে নিষেধ করে বলেন, আপনার কাছে তো টাকা নাই। মামলা করলে প্রচুর টাকা লাগে,  আপনি থানা পুলিশে যাবেন না। চুপ করে বসে থাকেন। তিনি বিভিন্নভাবে ঘটনা মীমাংসা করার জন্য আমাকে চাপ প্রয়োগ করেন।    

তিনি আরও বলেন, বিষয়টি আমি মীমাংসা করে দেবো। বিষয়টা আর কাউকে জানাবেন না। মকবুল ক্বারি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, সে সম্মানি ব্যক্তি। এরপর ভুক্তভোগীর মা সাংবাদিকদের প্রশ্ন করে বলেন, আপনার সন্তানের সাথে এমনটা হলে আপনি কি করতেন? এই প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আমি আইনের আশ্রয়-ই নিতাম। তিনি আবারও প্রশ্ন করে বলেন, একই ঘটনায় আপনি আইনের আশ্রয় নিতেন, তা হলে আমাকে থানায় যেতে নিষেধ করেন কেন? এরপর তিনি বলেন, যা হইছে বাদ দেন, আমরা দেখছি।

এরপর ওই দিনই থানায় দুইজন ভুক্তভোগীর মা বাদি হয়ে মকবুল ক্বারির নামে  দুইটি বলাৎকার চেষ্টার অভিযোগ দায়ের করেন।  

ওই অভিযোগের দুইদিন পার হলেও থানা থেকে কোনও পুলিশ তদন্তে না আসায় ভুক্তভোগী দুইটি পরিবার রীতিমতো হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, বিভিন্নভাবে আমাদের মীমাংসা করার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে মকবুল ক্বারির শাস্তি দাবি করছি।            

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার (ওসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার ইমাম হোসেন অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ঘটনা তদন্ত করার দায়িত্বও দিয়েছেন। কিন্তু কাকে দায়িত্ব দিয়েছে, তা জানাতে পারেননি।


বিভাগ : আড়চোখ


এই বিভাগের আরও