রাজেন্দ্রপুরে ‘হসপিটাল’ শব্দ কালি দিয়ে মুছতে বাধ্য হলেন ‘নুরুল’

যোগফল প্রতিবেদক

20 Oct, 2020 08:03pm


রাজেন্দ্রপুরে ‘হসপিটাল’ শব্দ কালি দিয়ে মুছতে বাধ্য হলেন ‘নুরুল’
কালি দিয়ে মুছে ফেলা সাইনবোর্ড

গত ৫ অক্টোবর দৈনিক যোগফলে “রাজেন্দ্রপুরে হাসপাতাল নাম দিয়ে নুরুল ইসলামের অভিনব প্রতারণা” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক নুরুল ইসলাম। ‘বাংলাদেশ নরওয়ে ফেন্ডশিপ হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নামের সাইনবোর্ড থেকে ‘হসপিটাল’ শব্দটি কালি দিয়ে মুছে ফেলেছেন।

এছাড়া গত ৯ অক্টোবর দৈনিক যোগফলে ‘আশেপাশে কেউ জানে না, তবু চাঁদাবাজির মামলা জয়দেবপুর থানায়’ শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। এর আগে ৮ অক্টোবর গাজীপুর জেলার সিভিল সার্জন ডাক্তার খায়রুজ্জামানের নির্দেশে নুরুল ইসলামের একক মালিকাধীন ডায়গনস্টিক সেন্টারকে ‘হাসপাতাল’ পরিচয়ে সাইনবোর্ড নামানোর জন্য চিঠি দেয়। সাত দিনের মধ্যে ওই সাইনবোর্ড নামানোর কথা উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু ‘চালাক’ নুরুল ইসলাম ওই সাইনবোর্ড না নামিয়ে, সাইনবোর্ডে থাকা ‘হসপিটাল’ শব্দটি কালি দিয়ে মুছে ফেলেন।

ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রফিক যোগফলকে বলেন, সংবাদ প্রকাশের আগে কেউ জানতো এটি আসলে হাসপাতাল, না ডায়াগনস্টিক সেন্টার। সংবাদ প্রকাশের পরই নুরুল তার সাইনবোর্ডে কালি দিয়ে ‘হসপিটাল’ শব্দ মুছতে বাধ্য হয়।

নুরুল ইসলামের ‘বাংলাদেশ নরওয়ে ফেন্ডশিপ হসপিটাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ নাম ব্যবহার করে বাহারি সাইনবোর্ড ঝুলানো প্রতিষ্ঠানটি মোটেও ‘হাসপাতাল’ নয়। কিন্তু  হাসপাতাল নামে রোগী আকৃষ্ট করার প্রতারণা চালানো হচ্ছে হরদম।


সিভিল সার্জন অফিসের চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে কালি দিয়ে মুছে ফেলা সাইনবোর্ড থেকে আগের সাইবোর্ডে দেওয়া নামের মাধ্যমে প্রতারণা করা হচ্ছিল বলে ধারণা ওই এলাকার বাসিন্দা সোহরাব হোসেনের। কিন্তু চিঠি অনুযায়ী সাইনবোর্ড নামিয়ে নতুন সাইনবোর্ড লাগানো উচিত ছিল বলেও তিনি মনে করেন।

এদিকে নুরুল ইসলামের নামে শ্রীপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল [মামলা নম্বর ৮৯(৯)২০]। যদিও ওই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। কিন্তু বাদি আসামির বিরুদ্ধে নারাজির আবেদন করেছেন বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া তার নামে এক স্ত্রী পারভীন আক্তার গাজীপুর জেলার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি যৌতুকের মামলা করেছেন। মামলা নম্বর সিআর ৪৮৮/২০।

নুরুল ইসলামের নামে গাজীপুর নগরীর আদাবৈ এলাকার এক নারী গাজীপুর জেলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেছেন। মামলা নম্বর ৫৫/২০। মামলাটি বর্তমানে পিবিআইয়ের এসআই মাহমুদুল হাসান তদন্ত করছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বাদি আসামি নুরুল ইসলামের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ৪০০ টাকা ফি দিয়ে ডাক্তার দেখান। বাদির নিকট রশিদ নম্বর রয়েছে। এতে ফি নেওয়ার তথ্য রয়েছে। তার অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষার খরচ হবে জানায় ওই প্রতিষ্ঠানের একজন নার্স। মালিক নুরুল ইসলাম টাকা কমিয়ে দিতে পারবে বলে মালিকের নিকট পাঠায়। পরে গত ২৭ জুলাই কৌশলে আসামি নুরুল ইসলাম তার একটি রুমে বাদিকে জোর করে ধর্ষণ করে। এর আগে পরীক্ষা নিরীক্ষার সব বিল মাফ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখায়।

এই ব্যাপারে বাদি গত ২৮ জুলাই জয়দেবপুর থানায় আসামির নামে ধর্ষণের মামলা করতে গেলে থানা মামলা নেয়নি। ফলে বাদি বাধ্য হয়ে নারী শিশু ট্রাইবুনালে মামলাটি করেন।

সাইনবোর্ড নামানোর ব্যাপারে সিভিল সার্জন অফিসের নির্দেশনা না মানায় অনেকে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।


বিভাগ : আড়চোখ


এই বিভাগের আরও