ভৈরবে জব্দ গাঁজা বিক্রি করে দেওয়ায় দুই পুলিশ ক্লোজড

যোগফল রিপোর্ট

23 Oct, 2020 01:01pm


ভৈরবে জব্দ গাঁজা বিক্রি করে দেওয়ায় দুই পুলিশ ক্লোজড
ছবি প্রতীকী

কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) ও এক কনস্টেবলকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার [২২ অক্টোবর ২০২০] সন্ধ্যায় পুলিশ সুপার (এসপি) মাশরুকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বার্তায় তাঁদের ভৈরব থানা থেকে সরিয়ে কিশোরগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। তারা হলেন এসআই মো. দেলোয়ার হোসেন ও কনস্টেবল আল মামুন। দেলোয়ার ভৈরব থানা এলাকার ৮ নম্বর বিটের (গজারিয়া) দায়িত্বে ছিলেন।

পুলিশ সুপার কার্যালয়ে তলব করা ব্যক্তিরা হলেন কনস্টেবল জামাল উদ্দিন, আমিনুল ইসলাম ও রাজিবুল ইসলাম।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সংযুক্ত আদেশে কারণ হিসেবে প্রশাসনিক শব্দটি ব্যবহার করা হলেও মূলত তাদের বিরুদ্ধে কর্তব্য পালনের সময় উদ্ধার হওয়া গাঁজা জব্দ না দেখিয়ে অন্যত্র বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মাদক উদ্ধার নিয়ে অস্বচ্ছতার কারণেই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দেলোয়ার ভৈরব থানায় যোগ দেন প্রায় ১০ মাস আগে। একই থানায় আল মামুনের কর্মকাল এক বছরের বেশি। আল মামুন থানার গাড়িচালকের দায়িত্ব পালন করতেন। 

নিয়ম অনুযায়ী, ভৈরব থানায় ২৪ ঘণ্টার ইমার্জেন্সি ডিউটি চালু রয়েছে। এই ডিউটি হয় দুই শিফটে। সকাল আটটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত একটি টিম ডিউটি পালন করে। অপর টিমের ডিউটি শুরু হয় রাত আটটা থেকে পরদিন সকাল আটটা পর্যন্ত। টিমের নেতৃত্বে থাকে এসআই পদমর্যাদার এক বা একাধিক কর্মকর্তা। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থানা এলাকায় ঘুরে টহল জোরদার রাখা টিমের প্রধান কাজ। বুধবার সকাল আটটা থেকে রাত আটটার ডিউটির নেতৃত্ব দেন দেলোয়ার। অন্যরা টিমে ছিলেন। মামুন গাড়ি চালিয়েছেন। বিকেলে তাঁরা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সড়ক সেতুর ভৈরব প্রান্তে আসেন। তখন কয়েকটি গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। একটি গাড়ি থেকে প্রায় ছয় কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। বহনকারীকে ধরা যায়নি। শেষে ওই গাঁজা থানার তালিকায় জব্দ না দেখিয়ে নরসিংদীর মাহমুদাবাদ এলাকায় নিয়ে বিক্রি করে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে থানায় কর্মরত ব্যক্তিদের মধ্যে বিষয়টি প্রধান আলোচ্য হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তথ্যটি পুলিশ সুপারের দপ্তর পর্যন্ত পৌঁছায়। পুলিশ সুপার তথ্যটি পাওয়ার পর তাদের তলব করেন। শেষে দেলোয়ার ও মামুনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেন। বাকি তিনজনকে কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

জানতে চাইলে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিন পুলিশের দুই সদস্যের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, পুলিশ সুপারের আদেশে গাঁজার বিষয়ে কোনো কিছুর উল্লেখ নেই। প্রশাসনিক সংযুক্তির কথা উল্লেখ করা আছে।

পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান জানান, গাঁজা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তিনি শুনেছেন। সত্যিই বিক্রি করে দিয়েছেন কি না, তা জানতে আগামী শনিবার তদন্ত করে দেখা হবে।

এ বিষয়ে এসআই দেলোয়ার বলেন, ‘কেন আমার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলো, এর কিছুই ধারণা করতে পারছি না।’ গাঁজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।’


বিভাগ : হ-য-ব-র-ল