সফিপুরে ‘আইডিয়াল বিজ্ঞান মেলা’

যোগফল প্রতিবেদক

01 Feb, 2020 01:12pm


সফিপুরে ‘আইডিয়াল বিজ্ঞান মেলা’

সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ফাহিম রাতুন ও তার দলের প্রকল্পের নাম ‘গ্রীণ ইন্ড্রাষ্টি পার্ক’ এর মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে পরিবেশ বান্ধব শিল্প কারখানার কিভাবে গড়ে তোলা যায় সেইসব পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। 
তাদের মতো ওই প্রতিষ্ঠানের অন্য ক্লাসের শিক্ষার্থীদের তৈরি প্রকল্প (বিজ্ঞান প্রজেক্ট) নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে শনিবার সকাল থেকে দিনব্যাপী ‘আইডিয়াল বিজ্ঞান মেলা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‘আবিষ্কারে নেই ভয়, ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের হবে জয়।' এই প্রতিপাদ্য নিয়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ এর উদ্যোগে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে আইডিয়াল বিজ্ঞান মেলা ২০২০। 
সকাল দশটায় বেলুন উড়িয়ে বিজ্ঞান মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন গাজীপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা ও সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান।

কয়েকজনের প্রকল্পে দেখা গেল ভবিষ্যতে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর বিকল্প উপায় খোঁজার চেষ্টা। মোম দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন, হাঁটাচলা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সাগরের ঢেউ থেকে শক্তি উৎপাদন, পরিত্যক্ত বাল্বের পুনর্ব্যবহার, আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন নামের প্রকল্পগুলোতে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নবীন বিজ্ঞানীদের ভাবনাই ফুটে উঠছে। দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ফাহিম রাতুল জানায়, তাদের প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরশক্তির সাহায্যে পানিকে রূপান্তর করা যাবে জ্বালানিতে।’

পরে আইডিয়াল পাবলিক কলেজের ক্যাম্পাসে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সফিপুর আইডিয়াল পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান। বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেবেকা সুলতানা, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুরাদ কবীর, মালেক চৌধুরী মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাইজুদ্দিন মিয়া, কোনাবাড়ি কলেজের অধ্যক্ষ মো. বেলাল হোসেন, কালিয়াকৈর প্রেসক্লাসের সাবেক সভাপতি সরকার আব্দুল আলীম, কাফিল উদ্দিন আহমদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আজিজুল ইসলাম।

এসব প্রকল্প ছাড়াও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের হাঁটার সুবিধার্থে বানানো ‘স্মার্ট কন্ট্রোলার গ্লাস’, রান্নাঘরের অব্যবহার্য পানি পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়া, পানিতে চাষাবাদের ‘হাইড্রোপোনিকস’ পদ্ধতি, স্বল্প ব্যয়ে ও পরিত্যক্ত জিনিসের পুনর্ব্যবহার করে বাদ্যযন্ত্র তৈরির মতো প্রকল্পগুলোতে ছিল একেকজন ভবিষ্যৎ বিজ্ঞানীর ছাপ। প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা করে নতুন কিছু আবিষ্কারে প্রচেষ্টা চালায়। এ রকম ক্ষুদে বিজ্ঞানী মুশফিক রহমান, নাফিজা রহমান, মাইশা কামাল জানায়, এ বিজ্ঞান মেলাকে সফল করতে দীর্ঘদিন কাজ করতে হয়েছে । তাদের প্রচেষ্টায় তৈরি হয় বিজ্ঞানের নানা আবিষ্কার। বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা স্টলে বিভিন্ন প্রজেক্ট স্থাপন করা হয় মেলায় প্রদর্শনের জন্য।

হাবিবুর রহমান বলেন, বিজ্ঞান আমাদের মধ্যে অনুসন্ধিৎসার জন্ম দেয়। অজানাকে জানার জন্যই কাজ করে বিজ্ঞান। বর্তমান যুগ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগ। বিজ্ঞানকে আমরা যত বেশি কাজে লাগাতে পারব ততই দেশ ও রাষ্ট্র উপকৃত হবে। ছাত্রছাত্রীদের মধ্য থেকে বিজ্ঞান প্রতিভা তুলে আনতে ও তাদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক চেতনা গড়ে তুলতে এ বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে।


বিভাগ : ভার্চুয়াল


এই বিভাগের আরও