রবির আইপিওর জন্য এক লাখ নতুন বিও অ্যাকাউন্ট

যোগফল ডেস্ক

23 Nov, 2020 12:24pm


রবির আইপিওর জন্য এক লাখ নতুন বিও অ্যাকাউন্ট
ছবি : সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে বিও হিসাব সংরক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে সেন্ট্রাল ডিপজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল)। সিডিবিএলের তথ্য অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ কার্যদিবসে শেয়ারবাজারে নতুন বিও হিসাব (অ্যাকাউন্ট) খোলা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯৬৮টি। এর মধ্যে রবির আইপিওর আবেদন শুরুর সপ্তাহে, অর্থাৎ গত সপ্তাহের ৫ কার্যদিবসে খোলা হয়েছে ৪৮ হাজার ৪৮৯টি বিও হিসাব।

২০০৯ সালে দেশের শীর্ষ মোবাইলফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের আইপিওতে আবেদনের জন্য কয়েক লাখ নতুন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে যুক্ত হয়েছিলেন। এর ১০ বছর পর এসে রবির হাত ধরে লাখের ওপর নতুন বিনিয়োগকারী শেয়ারবাজারে এসেছেন। শেয়ারবাজার বিশ্লেষকেরা বলে থাকেন, একটি ভালো কোম্পানি বাজারে অনেক নতুন বিনিয়োগকারী নিয়ে আসে। তার প্রমাণ গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে যেমন দেখা গেছে, রবির আইপিওর ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও বেসরকারি ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বাণিজ্য অনুষদের অধ্যাপক মোহাম্মদ মুসা বলেন, রবির আইপিওর জন্য নতুন যেসব বিনিয়োগকারী বাজারে যুক্ত হচ্ছেন, তাদের একটি অংশ ভবিষ্যতে বাজারে থেকে যাবেন। তবে সেকেন্ডারি বাজার যদি স্থিতিশীল থাকে, তা হলে নতুন বিনিয়োগকারীদের একটি বড় অংশ সেকেন্ডারি বাজারের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। আর যারা রবির আইপিও জিতবেন, সেসব বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘ সময় বাজারের সঙ্গে থাকবেন। আবার রবির আইপিওর শেয়ারে যদি ভালো মুনাফা হয়, তা হলে সেই মুনাফার অংশ অনেকে সেকেন্ডারি বাজারে বিনিয়োগ করবেন।

মোহাম্মদ মুসা আরও বলেন, ‘একটি ভালো কোম্পানি নানাভাবে শেয়ারবাজার সমৃদ্ধ করে থাকে। এমনিতে আমাদের বাজারে ভালো কোম্পানির সংখ্যা কম। সেখানে রবির মতো কোম্পানি নতুন বিনিয়োগকারী যেমন বাজারে আনছে, তেমনি বাজারের গভীরতাও অনেক বেড়ে যাবে।’

রবি আইপিওতে প্রায় ৫২ কোটি ৩৮ লাখ শেয়ার ছাড়ছে। প্রতিটি শেয়ার বিক্রি করা হচ্ছে ১০ টাকা অভিহিত মূল্য বা ফেসভ্যালুতে। রবির প্রতিটি বাজারগুচ্ছ বা মার্কেট লটে রয়েছে ৫০০ শেয়ার। সেই হিসাবে প্রতি লট শেয়ারের আবেদনের জন্য একজন বিনিয়োগকারীকে পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছে। কোম্পানিটির আইপিও শেয়ারের মধ্যে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৫০ হাজার ৯৩৪টি শেয়ার বণ্টন করা হয়েছে কোম্পানিটির প্রায় এক হাজার ৪০০ কর্মীর মধ্যে। এ ছাড়া আইপিওতে নির্ধারিত কোটায় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য বরাদ্দ রয়েছে প্রায় ১৫ কোটি ৫১ লাখ শেয়ার।

এ ছাড়া দেশে–বিদেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য ২৩ কোটি ২৬ লাখ ৪৫ হাজারের বেশি শেয়ার। এর মধ্যে দেশে বসবাসকারী বিনিয়োগকারীদের জন্য নির্দিষ্ট করা আছে প্রায় ১৯ কোটি ৩৯ লাখ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪ কোটি শেয়ার। যেহেতু রবির প্রতি লটে ৫০০ শেয়ার রয়েছে, সেই হিসাবে দেশে বসবাসকারী বিনিয়োগকারীদের মধ্য থেকে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৭৪২ জন বিনিয়োগকারী এক লট করে শেয়ার পাবেন। আর প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বরাদ্দ করা শেয়ার থেকে ৭৭ হাজার ৫৪৮ জন পাবেন এক লট করে শেয়ার।

বিও হিসাব খোলার প্রবণতা সম্পর্কে প্রাইলিঙ্ক সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ টিটো বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ১০ গুণেরও বেশি হারে নতুন বিও খোলা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন পুরোনো সব বিনিয়োগকারীর মধ্যে রবির আইপিওতে আবেদনের ব্যাপারে বেশ আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার বিও হিসাব রয়েছে। এর মধ্যে কমবেশি চার হাজার বিও হিসাব থেকে বিভিন্ন আইপিওতে আবেদন করা হয়। কিন্তু রবির আইপিওতে যে আগ্রহ দেখছি, তাতে শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রতিষ্ঠানের ৮-১০ হাজার বিও হিসাব থেকে আবেদন জমা পড়তে পারে।’

নিয়ম অনুযায়ী, একজন বিনিয়োগকারী একক ও যৌথ মিলিয়ে সর্বোচ্চ দুইটি বিও হিসাব থেকে আইপিও আবেদন করতে পারবেন। আগে ব্যাংকের মাধ্যমে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বিনিয়োগকারীদের আইপিও আবেদন করতে হতো। বর্তমানে ব্যাংকের বদলে বিনিয়োগকারীরা তাদের স্ব স্ব ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমে আবেদন করতে পারছেন।

এদিকে শেয়ারবাজারের বিও হিসাবের মধ্যে একটি বড় অংশই ব্যবহার হয় শুধু আইপিওতে। এ কারণে যত বিও হিসাব রয়েছে, সেকেন্ডারি বাজারে সক্রিয় হিসাব তার চেয়ে অনেক কম। সিডিবিএলের গত বৃহস্পতিবারের শেষ তথ্য অনুযায়ী, শেয়ারবাজারে বর্তমানে বিও হিসাব রয়েছে ২৪ লাখ ৭২ হাজার ৮১৪টি। এর মধ্যে ১১ লাখ ৮২ হাজার বিও হিসাবে শেয়ার আছে। ৭ লাখ ৭৩ হাজার বিও হিসাব শেয়ারশূন্য। আর ৫ লাখ ১৭ হাজার বিও হিসাব কখনও ব্যবহার হয়নি। সূত্র: প্রথম আলো।